দীপক সরকার, বগুড়া
ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬, ০৪:১৮ পিএম
বগুড়ার সারিয়াকান্দির যমুনা, বাঙালি এবং সুখদহ নদীর চরাঞ্চলের পতিত জমিতে এ বছর কালোজিরার বাম্পার ফলন হয়েছে। বাজারে কালোজিরার দাম ভালো থাকায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। কম খরচে ও অল্প সময়ে কালোজিরা চাষ করে লাভবান হচ্ছেন স্থানীয় চাষিরা।
সারিয়াকান্দি উপজেলার ওপর দিয়ে তিনটি নদী বহমান হওয়ায় এখানে বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল রয়েছে। এসব চরাঞ্চল আগে সাধারণত পতিত পড়ে থাকত। কিন্তু আধুনিক সেচ পদ্ধতি ব্যবহার করে কৃষকেরা গত কয়েক বছর ধরে এসব জমিতে কালোজিরা চাষ করছেন। গত বছর প্রতি কেজি কালোজিরা ৬০০ টাকায় বিক্রি করে লাভবান হওয়ায় এ বছর তারা বিপুল উৎসাহে আবাদ করেছেন।
সারিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর উপজেলায় কালোজিরা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ও অর্জন ছিল ১০ হেক্টর। প্রতি হেক্টরে উৎপাদন হয়েছিল এক মেট্রিক টন। এ বছর লক্ষ্যমাত্রা ১০ হেক্টর ধরা হলেও তা ছাড়িয়ে ১২ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। কার্তিক থেকে অগ্রহায়ণ মাসের মধ্যে বীজ বপণ করলে ৩ থেকে সাড়ে ৩ মাসের মধ্যেই এই ফসল ঘরে তোলা সম্ভব বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
সরেজমিনে উপজেলার কাজলা ও সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন চরাঞ্চল ঘুরে দেখা গেছে, কালোজিরার গাছগুলো ফুলে ফুলে ভরে উঠেছে। কোথাও কোথাও ফল ধরতে শুরু করেছে। কৃষকরা জানান, প্রতি বিঘা জমিতে আড়াই থেকে তিন মণ পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়, যা বাজারে ১৬ থেকে ২০ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি হয়।
চরবাটিয়ার কৃষক আবু সাঈদ বলেন, গত বছর এক বিঘা জমিতে আবাদ করে আড়াই মণ কালোজিরা পেয়েছিলাম। এবার দুই বিঘা জমিতে আবাদ করেছি এবং আবহাওয়া ভালো থাকায় ফলন খুব ভালো হয়েছে বলে তিনি জানান। গত বছর প্রতি মণ ২৪ হাজার টাকা দরে বিক্রি করেছিলেন এবং এবারও ভালো দামের আশা করছেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে সারিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, চরবেষ্টিত সারিয়াকান্দিতে কালোজিরার আবাদ দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এটি একটি ওষুধি গুণসম্পন্ন উচ্চমূল্যের ফসল। মধুর সাথে কালোজিরা খেলে ঠান্ডাজনিত রোগ সারে এবং একে সব রোগের মহৌষধ হিসেবে বিবেচনা করা হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
জেএইচআর