ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬
বাণিজ্যমন্ত্রী

করের বাড়তি চাপ সৃষ্টি নয়, লক্ষ্য ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধি

সিলেট প্রতিনিধি

সিলেট প্রতিনিধি

ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬, ০৩:০৫ পিএম

করের বাড়তি চাপ সৃষ্টি নয়, লক্ষ্য ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধি
ফাইল ছবি

দেশের সাধারণ মানুষের ওপর ব্যক্তিগত পর্যায়ে করের বাড়তি চাপ সৃষ্টি না করে বরং জাতীয় অর্থনীতির পরিধি বা জিডিপির অনুপাতে রাজস্ব আদায়ের হার বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। 

শনিবার সকালে সিলেট সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর উদ্ধৃতি দিয়ে এ কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, সরকারের লক্ষ্য সাধারণ মানুষের ওপর করের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া নয়। অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী মূলত ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত বাড়ানোর দিকে নজর দিয়েছেন। উল্লেখ্য যে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত দীর্ঘকাল ধরে নিম্নপর্যায়ে রয়েছে। 

সরকার এখন করের আওতা বাড়িয়ে এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এই অনুপাতকে একটি সম্মানজনক অবস্থানে নিয়ে যেতে চায়, যাতে ব্যক্তিগত পর্যায়ে করদাতাদের ওপর বাড়তি চাপ না পড়ে।

দেশের রফতানি বাজারকে শক্তিশালী করতে সরকার বড় ধরনের কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) সাথে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বা এফটিএ (Free Trade Agreement) নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনার জন্য বাংলাদেশ থেকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। 

এছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ট্যারিফ নীতির কারণে সৃষ্ট বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাব মোকাবিলায় সরকার সতর্ক রয়েছে। শ্রমিকদের স্বার্থরক্ষায় তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, আসন্ন ঈদে শ্রমিকরা যাতে হাসিমুখে বাড়ি ফিরতে পারে, সেজন্য সময়মতো বেতন পরিশোধের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।

একই সভায় উপস্থিত পানি সম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি দেশের উন্নয়নমূলক কাজে স্বচ্ছতা বজায় রাখার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, বিগত সরকারের আমলে দুর্নীতি যেভাবে দেশকে গ্রাস করেছিল, তা থেকে মুক্তি পাওয়া একটি বড় চ্যালেঞ্জ। প্রধানমন্ত্রী জনগুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোকে অগ্রাধিকার দিতে বলেছেন।

বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদী ভাঙন রোধ এবং হাওরে টেকসই বাঁধ নির্মাণের কাজগুলোকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

প্রতিটি প্রকল্প যাতে দুর্নীতিমুক্তভাবে বাস্তবায়িত হয় এবং সাধারণ মানুষ যাতে এর সুফল সরাসরি পায়, সে বিষয়ে প্রশাসনকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিদেশে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বন্ধ হওয়া শ্রমবাজারগুলো পুনরায় সচল করার বিষয়ে আশার কথা শুনিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি জানান, সৌদি আরব, মালয়েশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশের শ্রমবাজার নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা নিরসনে সরকার সর্বোচ্চ পর্যায়ে কাজ করছে। খুব দ্রুতই এসব বাজারে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া আবারও সচল হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আসন্ন রমজান এবং পরবর্তী মাসগুলোতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখার বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী আশ্বাস প্রদান করেন। তিনি জানান, পণ্যের সরবরাহ চেইন ঠিক রাখতে সরকার নিয়মিত মনিটরিং করছে, যার ফলে বাজার স্থিতিশীল থাকবে।

সিলেটের এই সভায় তিনজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীর উপস্থিতি এবং তাদের বক্তব্য থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট—সরকার বর্তমানে অভ্যন্তরীণ সুশাসন (দুর্নীতি রোধ), আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধির ওপর সমন্বিত জোর দিচ্ছে। বিশেষ করে ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধির কৌশলটি দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি বৈজ্ঞানিক ও আধুনিক পদ্ধতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ব্যক্তি পর্যায়ে কর না বাড়িয়ে সামষ্টিক অর্থনীতির সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দুর্নীতিমুক্ত উন্নয়নই এখন অন্তর্বর্তী সরকারের মূল লক্ষ্য। এই পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে, অন্যদিকে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুসংহত হবে।

এএন

Link copied!