আমার সংবাদ ডেস্ক
মার্চ ৭, ২০২৬, ০৫:২৭ পিএম
নরসিংদীর মাধবদী থানার আলোচিত আমেনা হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে জেলা পুলিশ। এ ঘটনায় ভিকটিমের সৎ পিতা মো. আশরাফ আলীসহ মোট ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জেলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ভিকটিমের সৎ পিতা মো. আশরাফ আলী (৪০), প্রেমিক নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরা (২৮) এবং হযরত আলী (৪০) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
তদন্তে জানা যায়, নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরার সঙ্গে নিহত আমেনার আগে থেকে প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্কও গড়ে ওঠে। অন্যদিকে ঘটনার প্রায় ১০ থেকে ১২ দিন আগে হযরত আলীর বাড়িতে হযরত আলী, এবাদুল, জামান ও গাফফার দলবদ্ধভাবে আমেনাকে ধর্ষণ করে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
পুলিশ জানায়, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ভিকটিমের সৎ পিতা আশরাফ আলী তাকে সহকর্মী সুমনের বাড়িতে যাওয়ার পথে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যা করেন। পরে তিনি আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে জানান, মেয়েটির বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ডে বিরক্ত হয়ে এবং সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হওয়ার কারণে তিনি এ হত্যাকাণ্ড ঘটান।
নরসিংদী জেলা পুলিশ জানায়, এই ঘটনায় গত ৬ মার্চ আশরাফ আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে প্রেমিক নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরাকে গাজীপুরের মাওনা এলাকা থেকে এবং হযরত আলীকে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় ৪ জন ধর্ষকসহ মোট ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার হওয়া অন্যরা হলেন- এবাদুল্লাহ (৪০), গাফফার (৩৭), আহাম্মদ আলী মেম্বার ওরফে আহাম্মদ দেওয়ান (৬৫), ইমরান দেওয়ান (৩২), আইয়ুব (৩০) এবং ইছাহাক ওরফে ইছা (৪০)।
এ ঘটনায় মাধবদী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩) এর ৭/৯(৩)৩০ ধারা এবং দণ্ডবিধির ৩৪১/৩৬১/৩০২/২০১/৩৪ ধারায় মামলা করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এএন