ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

লিবিয়ায় মাফিয়া চক্রের হাতে জিম্মি সুনামগঞ্জের ১০ যুবক

আমার সংবাদ ডেস্ক

আমার সংবাদ ডেস্ক

মার্চ ৯, ২০২৬, ১০:২৯ এএম

লিবিয়ায় মাফিয়া চক্রের হাতে জিম্মি সুনামগঞ্জের ১০ যুবক

স্বপ্ন ছিল ইতালি গিয়ে পরিবারের সচ্ছলতা ফেরানোর। সেই আশায় মানবপাচারকারীদের সঙ্গে ১৩ থেকে ১৪ লাখ টাকায় চুক্তি করে বাড়ি ছেড়েছিলেন সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার একই গ্রামের ১১ যুবকসহ মোট ১৩ জন। 

কিন্তু স্বপ্নের ইতালি পৌঁছানো তো দূরের কথা, এখন লিবিয়ায় মাফিয়া চক্রের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছেন তাদের বেশিরভাগই। ১৩ জনের মধ্যে একজন বর্তমানে লিবিয়ায় পুলিশের হাতে আটক রয়েছেন। 

অন্য ১২ জন গত ১২ দিন ধরে লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলিতে একটি মাফিয়া চক্রের হাতে জিম্মি আছেন। তাদের ওপর চালানো হচ্ছে নির্মম নির্যাতন। হোয়াটসঅ্যাপ ভিডিও কলে সেই নির্যাতনের দৃশ্য দেখিয়ে প্রত্যেকের পরিবারের কাছ থেকে ২৬ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে।

স্বজনদের অভিযোগ, জিম্মিকারীরা বাংলা ভাষাভাষী লোকদের দিয়ে ফোনে কথা বলাচ্ছে এবং বিকাশের মাধ্যমে টাকা পাঠাতে বলছে। জিম্মি থাকা ১২ জনের মধ্যে ১০ জনের বাড়িই জামালগঞ্জ উপজেলার ফেনারবাঁক ইউনিয়নের নাজিমনগর গ্রামে। 

জিম্মি থাকা ওই যুবকেরা হলেন- নুরু মিয়ার ছেলে জীবন মিয়া (২৫), টুনু মিয়ার ছেলে আব্দুল কাইয়ুম (২৬), ফয়জুন নুরের ছেলে মনিরুল ইসলাম (২৪), শহীদ মিয়ার ছেলে মামুন মিয়া (২৭), রাশিদ মিয়ার ছেলে আতাউর রহমান (২৮), বাচ্চু মিয়ার ছেলে এনামুল হক (২৬), জলিল মিয়ার ছেলে আতাউর রহমান (২৯), এখলাছ মিয়ার ছেলে আমিনুল ইসলাম (২৫), রাশিদ আলীর ছেলে সফিকুল ইসলাম (৩২) এবং আবুল কাশেমের ছেলে নিলয় মিয়া (২২)।

তাদের মধ্যে নুরু মিয়ার বড় ছেলে ইয়াছিন মিয়া (৩০) লিবিয়ায় পুলিশের হাতে আটক রয়েছেন। এছাড়া জামালগঞ্জ উপজেলা সদরের তেলিয়াপাড়ার আবুল হামজা ও সাচনা গ্রামের আবুল কালামও জিম্মি আছেন। তাদের সঙ্গে অবৈধপথে ইতালি যাওয়ার সময় জেলার দোয়ারাবাজার উপজেলার দোহালিয়া গ্রামের সোহেল মিয়াও রয়েছেন।

স্বজনরা জানান, নাজিমনগর গ্রামের শহীদ মিয়ার (মন্টু) স্ত্রী দিলোয়ারা বেগম, তার ছেলে হুমায়ুন কবির এবং তার জামাতা নজরুল ইসলামের সঙ্গে প্রতিজনকে ইতালি পাঠানোর জন্য ১৩ থেকে ১৪ লাখ টাকায় মৌখিক চুক্তি হয়েছিল। গত ২৮ জানুয়ারি তারা বাড়ি ছাড়েন। 

প্রথমে তাদের আবুধাবি, কুয়েত ও মিশর হয়ে লিবিয়ায় নেওয়া হয়। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি লিবিয়া থেকে সাগরপথে ইতালি পাঠানোর আগে একটি চক্র তাদের জিম্মি করে ফেলে। এখন জনপ্রতি ২৬ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হলেও দরকষাকষির পর ১২ লাখ টাকা দিলে ছেড়ে দেওয়ার কথা জানিয়েছে মাফিয়ারা।

জিম্মি সফিকুল ইসলামের বাবা বৃদ্ধ রাশিদ আলী বলেন, জায়গা-জমি বিক্রি করে ছেলেটারে বিদেশ পাঠাইছিলাম। আমি অসুস্থ মানুষ, হাতে কোনো টাকা-পয়সা নেই। এখন আল্লাহই ভরসা।

জীবন মিয়ার বাবা নুরু মিয়া জানান, দালালদের বিশ্বাস করে টাকা দিয়েছিলেন কিন্তু এখন দালালদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ফেনারবাঁক ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য একরাম হোসেন জানান, তার নিজের আত্মীয়রাও জিম্মিদের মধ্যে রয়েছেন এবং পরিবারগুলো চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছে।

অভিযোগের বিষয়ে দালাল হুমায়ুন কবিরের মা দিলোয়ারা বেগম প্রথমে পাঠানোর কথা স্বীকার করলেও পরে তা অস্বীকার করেন। 

জামালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বন্দে আলী জানিয়েছেন, এ ধরনের কোনো অভিযোগ তারা পাননি। জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুশফিকুন নুর জানিয়েছেন, বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখেছেন এবং এ বিষয়ে খোঁজ-খবর নেওয়া হবে।

জেএইচআর

Link copied!