মো. মহসিন তালুকদার, মাদারীপুর
মার্চ ২৯, ২০২৬, ০৫:২৩ পিএম
শিক্ষকতা ছেড়ে রাতারাতি ‘আঙুল ফুলে কলাগাছ’ হওয়ার নেশায় নেমেছিলেন মানবপাচার বা দালালি ব্যবসায়। মাদারীপুরের কালকিনির সেই আলোচিত দালাল হাবিব খন্দকারের খপ্পরে পড়ে এখন নিঃস্ব শতাধিক পরিবার।
সর্বশেষ লিবিয়ার একটি ‘গেমঘরে’ বিনা চিকিৎসায় ইলিয়াস হাওলাদার (২৪) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে সেখানে ধুঁকছে আরও শতাধিক যুবক, যাদের জীবন এখন সংকটাপন্ন।
অভিযুক্ত হাবিব খন্দকার (৪২) কালকিনি পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ গোপালপুর গ্রামের আলমগীর খন্দকারের ছেলে। পেশায় তিনি একজন শিক্ষক ছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অল্প সময়ে লিবিয়া হয়ে ইতালিতে লোক পাঠিয়ে বিশ্বস্ততা অর্জন করেন তিনি। সেই সাফল্যের খবরে জেলাজুড়ে তার নাম ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষকতা ছেড়ে পুরোদমে দালালি শুরু করেন হাবিব। বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়ে তিনি হয়ে ওঠেন মানবপাচারের এক অঘোষিত ‘ডন’।
সম্প্রতি হাবিবের মাধ্যমে লিবিয়ায় যাওয়া শতাধিক যুবক সেখানে আটকা পড়েছেন। দীর্ঘদিন গেমঘরে মানবেতর জীবনযাপন ও উন্নত চিকিৎসার অভাবে তারা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত। এর মধ্যে গত সোমবার কালকিনি পৌরসভার দক্ষিণ জনারদন্দী গ্রামের কালাম হাওলাদারের ছেলে ইলিয়াস হাওলাদার বিনা চিকিৎসায় মারা যান।
নিহত ইলিয়াসের বাবা কালাম হাওলাদার কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “ছেলের সোনালী ভবিষ্যতের আশায় হাবিব দালালের হাতে ২০ লাখ টাকা তুলে দিয়েছিলাম। কিন্তু ছেলেটা আমার ইতালির বদলে না ফেরার দেশে চলে গেল। এখন হাবিব প্রভাবশালী লোক দিয়ে টাকা-পয়সা দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে।”
গেমঘরে আটকে থাকা আয়নাল ও মিথুনসহ বেশ কয়েকজন যুবকের অভিভাবকরা জানান, তাদের সন্তানদের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। তারা অভিযোগ করেন, হাবিবের কাছে লাখ লাখ টাকা দিয়েও মিলছে না মুক্তি। উল্টো দালালের বিরুদ্ধে কথা বললে বা মামলা করলে সন্তানদের মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এই আতঙ্কে অনেক পরিবারই আইনের আশ্রয় নিতে সাহস পাচ্ছে না।
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত হাবিব খন্দকারের মোবাইল ফোন বন্ধ এবং তিনি এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন। বাড়িতে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।
কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জহিরুল আলম জানান, “নিহত ইলিয়াস হাওলাদারের পরিবারের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করছি। লিবিয়ায় আটকে থাকা অন্যদের বিষয়েও তথ্য নেওয়া হচ্ছে। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো মামলা করলে আমরা দ্রুত কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”
এএন