মিরাজ আহমেদ, মাগুরা
এপ্রিল ১২, ২০২৬, ০৬:৫৯ পিএম
মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) অভিযানের সময় আকুব্বর (৩৮) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। নিহতের পরিবারের দাবি, অভিযানের সময় মারধরের কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী মাদক পাইকাররা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকলেও কেবল খুচরা বিক্রেতাদের লক্ষ্য করেই অভিযান চালানো হচ্ছে।
রোববার (১২ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মহম্মদপুর উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের কানুটিয়া চরপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত আকুব্বর ওই এলাকার বাসিন্দা।
নিহতের স্ত্রী জোছনা খাতুন অভিযোগ করেন, অভিযানে অংশ নেওয়া সদস্যরা তাঁর স্বামীকে পিটিয়ে হত্যা করেছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের কেউ কেউ জানান, আকুব্বরকে আটক করার সময় ধস্তাধস্তি হয় এবং একপর্যায়ে লাঠির আঘাতে তিনি গুরুতর আহত হন।
এই খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ডিএনসি সদস্যদের ওপর চড়াও হওয়ার চেষ্টা করে। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং অভিযানকারী সদস্যদের মহম্মদপুর থানা পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়। অভিযানে ডিএনসির সিপাহি মিঠুন ব্যাপারীও আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
ডিএনসির উপপরিদর্শক মোছা. সাহারা ইয়াসমিন বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আকুব্বরের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৫০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। তাকে হাতকড়া পরিয়ে গাড়িতে তোলার সময় তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. সাদিয়া সাকিনা ঝরা জানান, হাসপাতালে আনার আগেই ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এদিকে, স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, জেলার দুয়ারপাড়, পারনান্দয়ালী, আবালপুর, ওয়াপদা, শ্রীপুর, ব্যাঙ্গা ও শিংড়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী চক্রের মাধ্যমে পাইকারি মাদক কারবার চলছে। বড় কারবারিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকলেও ছোট পর্যায়ের ব্যক্তিদের ওপর অভিযানের তীব্রতা বেশি।
মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মিরাজুল ইসলাম বলেন, আকুব্বর নামে এক ব্যক্তিকে আটক করার প্রক্রিয়ায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। তবে এ বিষয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
জেএইচআর