ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

বৈশাখী মেলার ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে ব্যস্ত কেন্দুয়ার মৃৎশিল্পীরা

আশরাফ গোলাপ, কেন্দুয়া (নেত্রকোণা)

আশরাফ গোলাপ, কেন্দুয়া (নেত্রকোণা)

এপ্রিল ১৩, ২০২৬, ০৫:৫৪ পিএম

বৈশাখী মেলার ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে ব্যস্ত কেন্দুয়ার মৃৎশিল্পীরা

বাঙালির প্রাণের উৎসব বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপনকে ঘিরে নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় মৃৎশিল্পীদের ব্যস্ততা তুঙ্গে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ বাজারগুলোতে আয়োজিত বৈশাখী মেলা উপলক্ষে দিন-রাত এক করে মাটির তৈজসপত্র ও খেলনা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় পালেরা।

কেন্দুয়া উপজেলার বলাইশিমুল ইউনিয়নের লস্করপুর এবং মোজাফরপুর ইউনিয়নের গগডা গ্রামে এখনও বেঁচে আছে হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প। 

সোমবার (১৩ এপ্রিল) সরেজমিনে লস্করপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, নারী, পুরুষ থেকে শুরু করে পরিবারের শিশু-কিশোররাও মাটির কাজে ব্যস্ত। পুকুড়িয়া হাওর ও মাটিয়ারকুড়ি বিল থেকে সংগ্রহ করা এঁটেল মাটি দিয়ে তারা তৈরি করছেন ব্যাংক, পুতুল, ষাঁড়, ঘোড়া, হাতি, থালা-বাসনসহ নানা খেলনা ও গৃহসজ্জার সামগ্রী। মাটির কাজ শেষে চলছে রঙ ও চিত্রকর্ম ফুটিয়ে তোলার নিপুণ কারুকার্য।

৬০ বছর বয়সী মৃৎশিল্পী নওমিতা রাণী জানান, বংশপরম্পরায় তারা এই পেশা ধরে রেখেছেন। মেলা বা উৎসব এলে কাজের চাপ বাড়ে, কিন্তু আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাবে পুরো কাজ হাতেই করতে হয় যা অত্যন্ত পরিশ্রমসাধ্য।

অন্যদিকে, গগডা গ্রামের মৃৎশিল্পী হরিদাস পাল আক্ষেপ করে বলেন, “প্লাস্টিক পণ্যের ভিড়ে মাটির জিনিসের কদর কমেছে। আমাদের পারিশ্রমিক ও ন্যায্যমূল্য নিয়ে কেউ খোঁজ রাখে না। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা না পেলে এই শিল্প অচিরেই বিলুপ্ত হয়ে যাবে।”

মৃৎশিল্পীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মাটির তৈরি জিনিসপত্রের মধ্যে প্লেট ১০০-১৫০ টাকা, বাটি ৬০-৮০ টাকা, শানকি ১২০-১৫০ টাকা, কয়েল দানি ১৩০-১৫০ টাকা, চায়ের কাপ ৮০-১০০ টাকা, ব্যাংক ৮০-২৫০ টাকা এবং বিভিন্ন প্রাণীর পুতুল ৫০ থেকে ২৫০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।

নওপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য হারিফ উদ্দিন হানিফ এবং স্থানীয় বাসিন্দা রফিক বলেন, এই শিল্প আমাদের সংস্কৃতির জীবন্ত প্রতীক। শিল্পীদের টিকিয়ে রাখতে সরকারি-বেসরকারি ঋণ ও সহযোগিতার এখন সময়ের দাবি।

সাংবাদিক আবুল কাশেম আকন্দ বলেন, “মৃৎশিল্পীরা অনেক কষ্ট করে এই পেশা বাঁচিয়ে রেখেছেন। সরকারের একটু সহযোগিতা পেলে এই পুরনো ঐতিহ্য আবার তার হারানো গৌরব ফিরে পাবে।”

কালের বিবর্তনে অনেক গ্রাম থেকে মৃৎশিল্প হারিয়ে গেলেও লস্করপুর ও গগডা গ্রামের পরিবারগুলো আজও এই শিল্পকে আগলে রেখেছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই শিল্প নতুন প্রজন্মের কাছেও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে।

জেএইচআর
 

Link copied!