ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

আধুনিকতার চাপে হারিয়ে যাচ্ছে মাটির ঘ্রাণ, সংকটে মাদারীপুরের ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প

মহসিন তালুকদার, মাদারীপুর

মহসিন তালুকদার, মাদারীপুর

এপ্রিল ১৫, ২০২৬, ০১:০৫ পিএম

আধুনিকতার চাপে হারিয়ে যাচ্ছে মাটির ঘ্রাণ, সংকটে মাদারীপুরের ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প

আবহমান বাংলার ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্পের এক সময়ের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল মাদারীপুর। একসময় মাদারীপুর সদর, রাজৈর, কালকিনি, ডাসার ও শিবচর উপজেলার প্রতিটি ঘরে মাটির তৈজসপত্র ছিল অপরিহার্য। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় এবং আধুনিকতার ছোঁয়ায় সেই ঐতিহ্য আজ বিলুপ্তির পথে। প্লাস্টিক, স্টিল ও সিরামিকের সহজলভ্যতার কাছে হার মানছে শত বছরের এই লালিত শিল্প।

শিবচরের ভদ্রাসন পাল পাড়ার সত্তরোর্ধ্ব শিল্পী ভবোনাথ পাল। বয়সের ভারে শরীর নুয়ে পড়লেও হাতের নিপুণ ছোঁয়ায় চাকা ঘুরিয়ে তৈরি করছেন কলস, গ্লাস, হাতি, ঘোড়া ও পুতুল। কাঁচা মাটিতে কাঠি দিয়ে ফুটিয়ে তুলছেন ফুল, পাতা ও পাখির নান্দনিক নকশা। রোদে শুকিয়ে আগুনে পোড়ানোর পর রঙের আঁচড়ে এসব শিল্পকর্ম হয়ে ওঠে জীবন্ত। 

ভবোনাথ পাল আক্ষেপ করে বলেন, আগে এই পাল পাড়ায় অন্তত ২০০ পরিবার এই কাজের ওপর বেঁচে ছিল। ১০ বছর আগেও সংখ্যাটা ছিল ৬০ থেকে ৭০, আর এখন মাত্র ২০ থেকে ৩০টি পরিবার কোনোমতে বাপ-দাদার এই স্মৃতি আগলে রেখেছে। অন্য কাজ জানা নেই বলেই আজও তারা এই মাটির কাজ কামড়ে পড়ে আছেন।

মৃৎশিল্পীদের ব্যস্ততা এখন কেবল বিশেষ উৎসব কেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে। রাজৈর টেকেরহাট পালপাড়ার শিল্পী হরহরি দাস জানান, সারা বছর মাটির জিনিসের চাহিদা না থাকলেও বাংলা নববর্ষকে সামনে রেখে ব্যস্ততা কিছুটা বাড়ে। বৈশাখী মেলাগুলোতে খেলনা ও শৌখিন জিনিসের কিছু বিক্রি হয়, যা দিয়ে সারা বছর টিকে থাকা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। 

স্থানীয়দের মতে, এই শিল্প সংকটে পড়ার প্রধান কারণ হলো প্লাস্টিক ও সিরামিক পণ্যের সহজলভ্যতা, মাটির চড়া দাম এবং উপযুক্ত জ্বালানির সংকট। এছাড়া আধুনিকায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও যন্ত্রপাতির অভাব তো রয়েছেই।

মৃৎশিল্পকে টিকিয়ে রাখার বিষয়ে শিবচর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এইচ এম ইবনে মিজান আশার বাণী শুনিয়েছেন। তিনি জানান, এই প্রাচীন শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে সংশ্লিষ্ট মৃৎশিল্পীরা চাইলে তাদের জন্য ক্ষুদ্র ঋণসহ সকল ধরনের সরকারি সহযোগিতা প্রদান করা হবে। মাদারীপুরের মৃৎশিল্প আজ অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে অবতীর্ণ। 

প্রাচীন এই ঐতিহ্য আর সংগ্রামের গল্পগুলো হারিয়ে যাওয়ার আগেই প্রয়োজন সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগ ও সময়োপযোগী সহায়তা। নইলে হয়তো আগামী প্রজন্মের কাছে মাটির এই শিল্পকর্ম কেবল জাদুঘরের নিথর বস্তু হয়েই থাকবে।

জেএইচআর

Link copied!