ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬

পদ্মার চরে ২৮ বছরের বসতি, তবুও পৌঁছায়নি বিদ্যুৎ-শিক্ষা-চিকিৎসা

মো. মহসিন তালুকদার, মাদারীপুর

মো. মহসিন তালুকদার, মাদারীপুর

এপ্রিল ১৬, ২০২৬, ০২:৪৭ পিএম

পদ্মার চরে ২৮ বছরের বসতি, তবুও পৌঁছায়নি বিদ্যুৎ-শিক্ষা-চিকিৎসা

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার পদ্মার চরে প্রায় তিন দশক ধরে বসবাস করছে শত শত পরিবার। অথচ আধুনিক সভ্যতার এই যুগেও সেখানে পৌঁছায়নি বিদ্যুৎ, গড়ে ওঠেনি কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কিংবা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র। মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে প্রায় ২৮ বছর ধরে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন এই চরের বাসিন্দারা।

জানা গেছে, শিবচর উপজেলার চর জানাযা ইউনিয়নের সামিদ খান কান্দি এলাকায় প্রায় ২০০টি পরিবার দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে বসবাস করছে। এক সময় এই মানুষগুলোর নিজস্ব ভিটেমাটি ও ফসলি জমি থাকলেও পদ্মার রাক্ষুসী ভাঙনে সব হারিয়ে তারা নিঃস্ব হয়ে পড়েন। বর্তমানে প্রায় দুই হাজার মানুষ সরকারি জমিতে আশ্রয় নিয়ে জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, চর এলাকার প্রতিটি বাড়িতেই সৌরবিদ্যুতের ছোট ছোট প্যানেল থাকলেও তা চাহিদার তুলনায় সামান্য। মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন এই চরে যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম ইঞ্জিনচালিত নৌকা। চরের ভেতরে নেই কোনো পাকা রাস্তা; আঁকাবাঁকা ফসলি জমির আলপথ দিয়েই চলতে হয় বাসিন্দাদের।

তাদের প্রধান আয়ের উৎস কৃষি ও মাছ ধরা। চরের শিশুদের জন্য কোনো স্কুল না থাকায় বাড়ছে নিরক্ষরতার হার এবং শিক্ষার অভাবে পিছিয়ে পড়ছে আগামী প্রজন্ম। স্থানীয় এক অভিভাবক আক্ষেপ করে বলেন, “আমাদের ছেলেমেয়েদের পড়ানোর খুব ইচ্ছা, কিন্তু এখানে কোনো স্কুল নেই। নদী পার হয়ে ওপারে স্কুলে যাওয়া শিশুদের জন্য খুব ঝুঁকিপূর্ণ ও কষ্টকর।”

স্বাস্থ্যসেবার চিত্র আরও ভয়াবহ। চরে কোনো কমিউনিটি ক্লিনিক বা ডাক্তার না থাকায় জরুরি প্রয়োজনে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে উপজেলা সদরে যেতে হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, উন্নত চিকিৎসার অভাবে অনেক সময় রোগী পথেই প্রাণ হারান।

চরের মানুষের এই দুর্দশার বিষয়ে শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ. এম. ইবনে মিজান জানান, চরের জনগোষ্ঠীর বেশির ভাগই অতি দরিদ্র। তাদের মৌলিক সুবিধা নিশ্চিত করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সাহায্য-সহযোগিতা করার পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

উন্নয়নের ছোঁয়া থেকে বঞ্চিত এই মানুষগুলো এখনো আশায় বুক বেঁধে আছেন। তাদের দাবি, দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান, একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন এবং অন্তত একটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র চালু করা হোক। জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সরকারের বিশেষ নজরদারি কামনা করছেন অবহেলিত এই পদ্মাচরবাসী।

এএন

Link copied!