রোকনুজ্জামান সবুজ, ইসলামপুর (জামালপুর)
মে ৩, ২০২৬, ০২:২৮ পিএম
একসময় গ্রামবাংলার সকালটা শুরু হতো বটগাছের তলায় কিংবা হাটের কোণে পিঁড়ি পেতে বসা নাপিতের চিরচেনা আড্ডায়। মেঠো পথের ধারে আয়না-চিরুনি আর খুর-কাঁচি নিয়ে বসা সেই অনুপম দৃশ্যটি আধুনিক সেলুন আর যান্ত্রিকতার ভিড়ে এখন বিলুপ্তির পথে। হারিয়ে যাচ্ছে হাজার বছরের গ্রামীণ ঐতিহ্য ও নাপিত পেশার আদি রূপ।
গ্রামের বয়োজ্যেষ্ঠ আব্দুল কুদ্দুস জানান, আগে প্রতিটি গ্রামে নির্দিষ্ট ‘নাপিত তলা’ ছিল যেখানে গ্রামবাসীরা ভিড় জমাতেন। একটি কাঠের ছোট্ট বাক্সে থাকতো ক্ষুর, কাঁচি, ফিটকিরি আর পুরনো আয়না। চুল বা দাড়ি কাটার পাশাপাশি সেই জায়গাটি ছিল গ্রামের খবরাখবর আদান-প্রদানের একটি সামাজিক মিলনস্থল। নগরায়নের প্রভাবে সেই খোলা পরিবেশ এখন দখল করে নিয়েছে আধুনিক ডেকোরেশন ও এসি সম্বলিত সেলুন।
প্রবীণ কৃষক রহমত আলী আক্ষেপ করে বলেন, আগে নাপিত দাদা বাড়ি বাড়ি এসে চুল কাটতেন, ছিল আত্মার সম্পর্ক। এখন সেলুনে সিরিয়াল দিতে হয়, কিন্তু সেই আন্তরিকতা আর প্রকৃতির খোলা বাতাস আর পাওয়া যায় না।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, আধুনিক ট্রিমার ও সাজসজ্জার সরঞ্জামের কাছে পুরনো খুর-কাঁচি হার মানছে। নতুন প্রজন্মের কারিগররা এখন খোলা আকাশের নিচে বসতে আগ্রহী নন, তারা শহরের চাকচিক্যময় জীবন বেছে নিচ্ছেন। এছাড়া আয় কমে যাওয়া এবং মানুষের চাহিদার পরিবর্তনের ফলে অনেকেই বাধ্য হয়ে পূর্বপুরুষের এই পেশা ছেড়ে দিচ্ছেন।
দীর্ঘদিনের কারিগর অমৃত মোদক স্মৃতিচারণ করে বলেন, আমাদের এই কাজটা শুধু চুল কাটা ছিল না, এটা ছিল একটা শিল্প। এখন লোকে দামী চেয়ারে বসে চুল কাটতে পছন্দ করে, আমাদের মতো পুরনো কারিগরদের কদর আর নেই।
কৃষ্ণ ঋষি, নিত্য মোদক ও পলাশ মোদকদের মতে, এই ঐতিহ্যগুলো টিকে না থাকলে আগামীর গ্রাম হবে প্রাণহীন এক নগর।
জেএইচআর