ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬

জ্বালানি তেলের সংকটে বন্ধ হারভেস্টার মেশিন, গম নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষকরা

আমার সংবাদ ডেস্ক

আমার সংবাদ ডেস্ক

মে ৫, ২০২৬, ০১:১৬ পিএম

জ্বালানি তেলের সংকটে বন্ধ হারভেস্টার মেশিন, গম নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষকরা

মেহেরপুরে জ্বালানি তেলের সংকটে বন্ধ গম কাটা হারভেস্টার মেশিন। ফিলিং স্টেশনে তেলের সরবরাহ না থাকায় ডিজেলের অভাবে জমিতে হারভেস্টার নামছে না। মাঠের পাকা গম কেটে ঘরে তোলা নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন পার করছেন কৃষকরা।

মেহেরপুরের মোট ১৭টি ফিলিং স্টেশন রয়েছে। যার থেকে মিলছে না পর্যাপ্ত তেল। দিনের অধিকাংশ সময় বন্ধ থাকছে ফিলিং স্টেশনগুলো। ডিজেলের জন্য ফিলিং স্টেশনে কনটেইনার ও ড্রাম হাতে দীর্ঘক্ষণ লাইনে অপেক্ষা করছেন কৃষকরা। তবুও মিলছে না তেল।

কোনো কোনো ফিলিং স্টেশন তেল দিলেও তা হারভেস্টার মেশিন চালানোর জন্য পর্যাপ্ত নয়। গম কাটতে না পারার পাশাপাশি জ্বালানি তেল সংকটের প্রভাব পড়েছে ধানের জমিতে সেচ কাজের ওপরেও। সেচের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি না পাওয়ায় জমিতে পানির সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে, যা ভবিষ্যৎ উৎপাদনের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।

জানা গেছে, একদিকে ডিপো থেকে তেল পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় বিপাকে পাম্পমালিকরা। বর্তমানে ডিপো থেকে প্রতিটি পাম্পে সর্বোচ্চ ৩ হাজার লিটার তেল দেওয়া হচ্ছে, যেখানে স্বাভাবিক সময়েই প্রতিটি ফিলিং স্টেশনের দৈনিক চাহিদা প্রায় ৫ হাজার লিটার। 

অন্যদিকে ডিজেল না থাকায় অধিকাংশ হারভেস্টার মেশিন বন্ধ রয়েছে। তবে কালোবাজারি পথে কিছু কিছু হারভেস্টার মেশিন মালিক তেল কিনে মাঠে নামছেন। তারা স্বাভাবিকের চেয়ে অতিরিক্ত টাকা নিচ্ছেন গম কাটতে। বিঘাপ্রতি ৩ হাজার টাকা দাবি করা হচ্ছে, যেখানে গত বছর এই খরচ ছিল ২ হাজার টাকা।

জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে মেহেরপুরে গম চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১১ হাজার হেক্টর জমিতে। তবে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে আবাদ হয়েছে ১৩ হাজার ৬৫ হেক্টর জমিতে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৩ হাজার ৫৬৬ টন, যেখানে প্রতি হেক্টরে গড় উৎপাদন ধরা হয়েছে ৪.১ টন।

কৃষক ইমদাদুল হক বলেন, গম কাটার জন্য শ্রমিক পাওয়া যায় না। এখন সবাই হারভেস্টার মেশিনের ওপর নির্ভরশীল। ঈদের আগেই আমার গম কাটার উপযোগী হয়েছিল। কিন্তু মেশিন না পাওয়ায় কাটতে পারিনি। এখন মেশিন না পেলে ফলন অর্ধেকে নেমে আসবে।

কৃষক আব্দুর রহমান বলেন, অনেক ঘোরাঘুরির পর হারভেস্টার মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে বেশি টাকা নিয়ে গম কেটে দিয়েছেন। ডিজেল না থাকায় মেশিন চালানো সম্ভব হচ্ছে না বলে হারভেস্টার মেশিন মালিকরা বিঘাপ্রতি এক হাজার টাকা বেশি নিচ্ছেন। মাঠে পাকা ফসল পড়ে রয়েছে, ঘরে তুলতে পারছি না। রাতে দুশ্চিন্তায় ঠিকমতো ঘুম আসে না।

হারভেস্টার মেশিন মালিক সালাউদ্দিন বলেন, তেল ছাড়া মেশিন চালানো সম্ভব নয়। বাধ্য হয়ে বেশি দামে মজুতদারদের কাছ থেকে তেল কিনছি। তেল কিনতে বেশি খরচ হচ্ছে, এজন্য কৃষকদের কাছ থেকেও বেশি টাকা নিতে হচ্ছে।

মেসার্স কিবরিয়া ফিলিং স্টেশনের পরিচালক কিবরিয়া হোসেন বলেন, ডিপো থেকে পর্যাপ্ত তেল পাচ্ছি না। যেটুকু বরাদ্দকৃত ডিজেল আসছে সেগুলো প্রশাসনের সহযোগিতায় কৃষকদের দিয়ে দিচ্ছি। চাহিদার তুলনায় যোগান কম থাকায় অনেক কৃষক পাচ্ছেন না।

মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সঞ্জীব মৃধা বলেন, তেল সংকটে চলমান পরিস্থিতি কৃষকদের সমস্যার মধ্যে ফেলেছে। মাঠজুড়ে পাকা গম নিয়ে দুশ্চিন্তায় তারা। জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় আমরা চেষ্টা করছি যতটুকু তেল আসছে সেগুলো যাতে কৃষকরা পান। কালোবাজারি না হলে আশা করছি এই সমস্যার সমাধান হবে।

এএন

Link copied!