আমার সংবাদ ডেস্ক
মে ১০, ২০২৬, ১১:১৫ পিএম
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। রোববার (১০ মে) বেলা ১১টার দিকে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার পাইককান্দি উত্তর চরপাড়া গ্রামে জানাজা শেষে স্থানীয় নতুন কবরস্থানে পাশাপাশি পাঁচটি কবরে তাঁদের চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।
রোববার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে দুটি ফ্রিজিং ভ্যানে করে মরদেহগুলো গ্রামে পৌঁছালে পুরো এলাকায় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়।
নিহত শারমিন আক্তার (৩০), তাঁর তিন মেয়ে-মীম (১৫), হাবিবা (৮), ফারিয়া (২) এবং ছোট ভাই রসুল মিয়াকে (২২) শেষবারের মতো দেখতে শত শত মানুষ ভিড় করেন। স্বজনদের গগনবিদারী আর্তনাদে ওই এলাকার আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। একই পরিবারের পাঁচজনকে হারানোর এই শোক সামলাতে পারছেন না গ্রামবাসী।
পাইককান্দি পঞ্চপল্লী মাদ্রাসা মাঠে অনুষ্ঠিত জানাজায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং কয়েক হাজার এলাকাবাসী অংশ নেন। জানাজা শেষে পরিবারের সদস্যদের ইচ্ছা অনুযায়ী মা, তিন সন্তান ও মামাকে পাশাপাশি দাফন করা হয়। একই সারিতে পাঁচটি কবরের এই মর্মান্তিক দৃশ্য দেখে উপস্থিত কাউকেই চোখের পানি ধরে রাখতে দেখা যায়নি।
শনিবার সকালে কাপাসিয়ার রাউৎকোনা এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে এই পাঁচজনের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত শারমিনের স্বজনদের অভিযোগ, স্বামী ফোরকান মিয়ার দ্বিতীয় বিয়ে এবং দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। হত্যাকাণ্ডের পর ফোরকান তাঁর স্বজনদের ফোন করে খুনের কথা স্বীকার করলেও বর্তমানে তিনি পলাতক রয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি টাইপ করা অভিযোগপত্র ও মাদকসেবনের আলামত উদ্ধার করেছে।
কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর আলম জানান, চাঞ্চল্যকর এই গণহত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ, ডিবি, পিবিআই ও সিআইডির একাধিক দল মাঠে কাজ করছে। মূল অভিযুক্ত ফোরকান মিয়াকে গ্রেপ্তারে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হচ্ছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাকে আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ।
জেএইচআর