আব্দুল মজিদ, নাটোর
মে ১২, ২০২৬, ০২:১৯ পিএম
নাটোরের বিভিন্ন উপজেলায় সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করার অভিযোগ উঠেছে এক শ্রেণির অসাধু ডিলারের বিরুদ্ধে। সরকারি হিসেবে পর্যাপ্ত সার মজুত থাকলেও মাঠপর্যায়ে কৃষকরা চাহিদামতো সার পাচ্ছেন না। ফলে খোলা বাজার থেকে অতিরিক্ত দামে সার কিনতে গিয়ে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার শঙ্কায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
কৃষকদের দাবি, সরকারি অনুমোদিত ডিলাররা গুদামে সার মজুত রেখেও সরাসরি কৃষকদের দিচ্ছেন না। তারা সার সরবরাহ করছেন ফড়িয়া ও খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে। সরকারিভাবে ইউরিয়া সারের প্রতি বস্তার দাম ১ হাজার ৩৫০ টাকা নির্ধারিত থাকলেও খোলা বাজারে তা ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাগাতিপাড়া উপজেলার কৃষক আবুল হোসেন ও নজরুল ইসলাম জানান, ডিলার পয়েন্টে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও চাহিদার অর্ধেক সার পাওয়া যাচ্ছে না। ডিলাররা সংকটের কথা বললেও আড়ালে খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে সার সরিয়ে ফেলছেন। এক বিঘা পাটের জমিতে ২০ কেজি সার প্রয়োজন হলেও ডিলাররা ১০ কেজির বেশি দিচ্ছেন না।
বাগাতিপাড়ার গালিমপুর এলাকার সার ডিলার ‘সোনালী ট্রেডার্স’-এর গুদামে পর্যাপ্ত সার মজুত দেখা গেলেও স্বত্বাধিকারী শ্রী শিব চরণ মোর কৃষকদের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। অন্যদিকে, জেলা সার ডিলার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুস সালাম পাটের আবাদ বাড়ায় চাহিদা বৃদ্ধির কথা স্বীকার করে ডিলার পয়েন্টে ট্যাগ অফিসার নিয়োগের দাবি জানান।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ড. ভবসিন্ধু সার সংকটের অভিযোগকে ভিত্তিহীন দাবি করে বলেন, উপজেলায় পর্যাপ্ত সার মজুত রয়েছে। কিছু অসাধু ব্যক্তি কৃষক সেজে অতিরিক্ত সার সংগ্রহের চেষ্টা করছে, যা নজরদারিতে রাখা হয়েছে।
কৃষি বিভাগ সংকট নেই বললেও খোলা বাজারে অতিরিক্ত দামে সারের সহজলভ্যতা ডিলার সিন্ডিকেটের দিকেই আঙুল তুলছে। মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার সাথে সরকারি বক্তব্যের এই অসঙ্গতি সাধারণ কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে।
প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত বাজার মনিটরিংয়ের মাধ্যমে সরকারি মূল্যে সার প্রাপ্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী কৃষকরা।
জেএইচআর