গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি
মে ১৪, ২০২৬, ০৫:২২ পিএম
নাটোরের গুরুদাসপুরে নারীসহ নাজিরপুর ইউনিয়ন যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব রেজাউল করিমকে (৪২) আটক করেছে পুলিশ। বুধবার রাতে উপজেলার হামলাইকোল গ্রাম থেকে তাদের আটক করা হয় এবং বৃহস্পতিবার বিকেলে তাদের নাটোর জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, যুবদল নেতা রেজাউল করিম বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বাড়ি থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে হামলাইকোল গ্রামের এক নারীর বাড়িতে যান। সেখানে তাদের আপত্তিকর অবস্থায় দেখে গ্রামবাসী ঘরটি অবরুদ্ধ করে ফেলে। পরে পুলিশ গিয়ে তাদের দুজনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রেজাউল করিম একজন মাদক কারবারি এবং ওই নারীর বাড়িতে নিয়মিত মাদকের আড্ডা বসতো। ঘটনার সময় গ্রামবাসী মোবাইলে তাদের একটি ভিডিও ধারণ করেন। ভিডিওতে দেখা যায়, ওই নারী একটি সিগারেটের ভেতরে গাঁজা ভরছেন এবং যুবদল নেতা তাকে কিছু টাকা দিচ্ছেন। খবর জানাজানি হলে গ্রামের শত শত মানুষ সেখানে জড়ো হয় এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
পুলিশ ১৫১ ধারায় আটক দেখিয়ে আদালতে চালান দিলেও জব্দ তালিকায় কোনো মাদক বা টাকা দেখায়নি। এতে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রত্যক্ষদর্শী ও গ্রামবাসী। মনিরুল ইসলাম ও আল-আমিন নামের দুই প্রত্যক্ষদর্শী অভিযোগ করে বলেন, আমরা ঘরের ভেতর মাদক ও টাকার উপস্থিতি দেখেছি, কিন্তু পুলিশ রহস্যজনকভাবে কোনো আলামত জব্দ করেনি।
গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুরুল আলম বলেন, গ্রামবাসীর অভিযোগে তাদের আটক করা হলেও ঘটনাস্থলে কোনো মাদক পাওয়া যায়নি। তাই ১৫১ ধারায় তাদের আটক দেখানো হয়েছে।
অন্যদিকে, আটক ওই নারীর পরিবারের দাবি, গহনা বন্ধকের টাকার লেনদেন করতে গিয়ে ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন তারা। অভিযুক্ত যুবদল নেতার বড় ভাই ও নাজিরপুর ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সামছুল হক বলেন, সক্রিয় রাজনীতি করার কারণেই তার ভাইকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে। বিষয়টি আইনগতভাবে মোকাবেলা করা হবে।
জেএইচআর