পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
মে ১৫, ২০২৬, ০৩:১৮ পিএম
‘রক্তঝরা শোকের ভেতরও নতুন প্রাণের হাসি ফুটে ওঠে। নির্মম ভাগ্যের মাঝেও সন্তান হয়ে আসে সৃষ্টিকর্তার শান্তির উপহার।’ নিয়তির নির্মম পরিহাসে এই কাব্যের মতোই বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার খরনা ইউনিয়নের ওয়াহিদুরপাড়া এলাকার নিহত ব্যাংক কর্মকর্তা আবদুল আজিজের পরিবার।
আজিজ নিহত হওয়ার চার মাসের মাথায় তার স্ত্রীর কোলজুড়ে এসেছে এক নবজাতক কন্যাসন্তান। বৃহস্পতিবার বিকেলে পটিয়া পৌর সদরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে শিশুটির জন্ম হয়।
চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি রাতে ঢাকা থেকে ট্রেনে করে চট্টগ্রামে বাড়ি ফিরছিলেন আবদুল আজিজ। পরদিন ২৩ জানুয়ারি সকালে কুমিল্লা রেলওয়ে স্টেশন থেকে তার ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। গত বছর ইসলামী ব্যাংকের অফিসার পদ থেকে চাকরি হারানোর পর তিনি ঢাকার একটি ট্রাভেল এজেন্সিতে কর্মরত ছিলেন। বিবাহিত আজিজের আড়াই বছর বয়সী আরও একটি পুত্রসন্তান রয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আবদুল আজিজের মর্মান্তিক মৃত্যুর চার মাস পেরিয়ে গেলেও অপমৃত্যুর মামলা ছাড়া তদন্তে উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি হয়নি। পরিবারের সদস্যদের দাবি, আজিজকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার সময়ে কুমিল্লা রেলওয়ে স্টেশনে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করা এক যুবককে চার মাসেও আইনের আওতায় আনা হয়নি। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা গেলে এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন হতে পারত বলে মনে করেন তারা।
আবদুল আজিজের বন্ধু ও ব্যাংক কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম জানান, আজিজের মৃত্যুর সময় তার স্ত্রী সন্তানসম্ভবা ছিলেন। বাবার মৃত্যুর চার মাস পর পৃথিবীর আলো দেখল এই কন্যাশিশু। নবজাতক ও মা সুস্থ থাকলেও আবদুল আজিজ হত্যার রহস্য উদঘাটন না হওয়ায় পরিবারটি চরম দুশ্চিন্তা ও বিচারহীনতার ক্ষোভে দিন কাটাচ্ছে।
জেএইচআর