মিরাজ আহমেদ, মাগুরা
মে ১৯, ২০২৬, ০৪:৩৩ পিএম
মাগুরা জেলায় সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) সরকারি লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেলেও স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্বেগ কমছে না। কাগজে-কলমে অর্জনের হার শতভাগের বেশি হলেও জেলার শত শত পরিবার শিশুদের টিকা দিতে অনীহা দেখাচ্ছে। একই সঙ্গে বাড়ছে ‘মিসড চাইল্ড’ ও ‘জিরো ডোজ’ শিশু শনাক্তের সংখ্যা। এর প্রভাব এখন স্পষ্ট হয়ে উঠছে মাগুরা ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে, যেখানে হামের উপসর্গ নিয়ে প্রতিদিনই ভর্তি হচ্ছে নতুন রোগী।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের ১৭ মে’র তথ্য অনুযায়ী, জেলায় টিকাদানের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯৪ হাজার ৩৪১ শিশু। এর বিপরীতে টিকা পেয়েছে ৯৫ হাজার ১৯৬ জন, অর্থাৎ অর্জনের হার ১০০ দশমিক ৯১ শতাংশ। উপজেলাভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি ৯ হাজার ৪৯৫ জনের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ১০ হাজার ১৭৬ জনকে টিকা দিয়ে মাগুরা সদরে অর্জন ১০৭ দশমিক ১৭ শতাংশ। এ ছাড়া মহম্মদপুরে ১০০ দশমিক ৯Metrics৬ শতাংশ, শালিখায় শতভাগ, সদরপুরে ১০০ দশমিক ২৪ শতাংশ এবং শ্রীপুরে ৯৯ দশমিক ২৪ শতাংশ অর্জন হয়েছে।
বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিশু শনাক্ত, ইউনিয়নভিত্তিক প্রচারণা এবং মাঠকর্মীদের নিবিড় তদারকির কারণে এই সাফল্য এলেও অর্জনের আড়ালে রয়েছে ভিন্ন বাস্তবতা। তথ্য অনুযায়ী, জেলার ৮৫৫টি পরিবার এখনও টিকা নিতে অনীহা প্রকাশ করেছে, যার মধ্যে শুধু মাগুরা সদরেই রয়েছে ৬৮১টি পরিবার। এ ছাড়া নির্ধারিত সময়ে টিকা না পাওয়া ‘মিসড চাইল্ড’ শিশুর সংখ্যা ৪২৯। এই শিশুরাই এখন হাম ও রুবেলার মতো প্রতিরোধযোগ্য রোগের বড় ঝুঁকিতে রয়েছে।
এদিকে মাগুরা ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রোগীর সংখ্যা আগের তুলনায় বেড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে ১১ জন এবং নতুন ভর্তি হয়েছে ১১২ জন। এ পর্যন্ত জেলায় মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৫০। এর মধ্যে নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে ১২ জন, যাদের বয়স ৫ মাস থেকে ৩৫ বছর পর্যন্ত। আক্রান্তদের বড় একটি অংশেরই টিকাদান অসম্পূর্ণ ছিল বা কেউ কোনো টিকাই নেয়নি।
জেলায় হাম প্রতিরোধে গত ২০ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন আগামী ২০ মে পর্যন্ত চলবে। এই কর্মসূচির আওতায় এ পর্যন্ত ১ লাখ ৪ হাজার ৭৫০ ডোজ টিকা প্রয়োগ করা হয়েছে।
ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন অফিসের ইপিআই সুপার মোহাম্মদ শহিনুর ইসলাম বলেন, অর্জনের হার শতভাগের বেশি হলেও যারা টিকার বাইরে রয়েছে, তাদের শনাক্ত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। একটি শিশুও বাদ পড়লে পুরো কমিউনিটি ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যেতে পারে।
মাগুরার সিভিল সার্জন ডা. মো. শামীম কবির বলেন, টিকাদানে মাগুরার অগ্রগতি সন্তোষজনক হলেও এখন নজর শুধু সংখ্যাগত অর্জনে নয়, গুণগত নিরাপত্তায়। কিছু এলাকায় টিকা নিয়ে ভুল ধারণা ও গুজব দূর করতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক ও ইমামদের সম্পৃক্ত করে জনসচেতনতা বাড়ানোর কাজ চলছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মাঠপর্যায়ে জনবল সংকট ও সামাজিক কুসংস্কারের মতো বাস্তব চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করে প্রতিটি শিশুকে টিকার আওতায় আনা না গেলে সংক্রমণ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, আগামী দিনগুলোতে জিরো ডোজ ও মিসড চাইল্ড শনাক্তে বিশেষ অভিযান এবং অভিভাবক কাউন্সেলিং আরও জোরদার করা হবে।
জেএইচআর