গাইবান্ধা প্রতিনিধি
মে ১৯, ২০২৬, ১০:৫০ পিএম
গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলায় সাম্প্রতিক কালবৈশাখী ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত চরাঞ্চল পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা।
মঙ্গলবার বিকেলে তিনি দুর্গত মানুষের খোঁজখবর নিতে ফজলুপুর ইউনিয়নের চৌমোহন চরসহ ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকায় যান এবং দুর্গত পরিবারের মাঝে জরুরি ত্রাণ সহায়তা প্রদান করেন।
এদিন প্রাথমিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ১৮০টি পরিবারের মাঝে ৩০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে আরও ত্রাণ ও পুনর্বাসনের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন জেলা প্রশাসক।
পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা বলেন, দুর্গত মানুষের পাশে প্রশাসন সবসময় রয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির সঠিক তালিকা তৈরি করে দ্রুত প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে। চরাঞ্চলের মানুষ যাতে নিরাপদে থাকতে পারে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কড়া নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ সময় তিনি চরাঞ্চলে গবাদিপশু ডাকাতি ও খাদ্যদ্রব্য লুট হওয়ার অভিযোগের বিষয়ে ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসনের জন্য প্রয়োজনীয় ঢেউটিন বিতরণের আশ্বাসও প্রদান করেন।
পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসকের সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহামুদুন্নবী টিটুল, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম, ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এস এম আবু মোতালেব, উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব ফারুক মিয়া এবং ফজলুপুর ইউপি চেয়ারম্যান আনছার আলী মন্ডল প্রমুখ।
উল্লেখ্য, গত রোববার দিবাগত মধ্যরাতে হঠাৎ শুরু হওয়া প্রবল কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রসহ বৃষ্টিতে উপজেলার ফজলুপুর ইউনিয়নের কাউয়াবাঁধা, চৌমুহনী, চর চৌমুহনী, গুপ্তমনি, মধ্য খাটিয়ামারী এবং এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়নের বুলবুলির চরসহ কয়েকটি এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। ঝড়ের তাণ্ডবে অসংখ্য পরিবারের ঘরবাড়ি লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। উড়ে যায় টিনের চাল এবং ভেঙে পড়ে কাঁচা বসতঘর। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত হয় রান্নাঘর, গবাদিপশুর ঘর ও ঘরের ভেতরে থাকা প্রয়োজনীয় মালামাল।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গভীর রাতে আকস্মিক ঝড়ের তাণ্ডবে অনেক পরিবার পুরোপুরি দিশেহারা হয়ে পড়েছে। কেউ কেউ এখনো খোলা আকাশের নিচে দিনাতিপাত করছেন, আবার অনেকে আশ্রয় নিয়েছেন আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে। দুর্গত মানুষের মাঝে জরুরি সহায়তা পৌঁছে দিতে প্রশাসনের এই সময়োপযোগী উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের আশা, দ্রুত পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে।
জেএইচআর