মুহাম্মদ মিজানুর রহমান, ফেনী
মে ২১, ২০২৬, ০৪:০৪ পিএম
পবিত্র ঈদুল আজহার আর মাত্র এক সপ্তাহ বাকি। এরই মধ্যে কিছু হাটে ও খামারে কোরবানির পশু বেচাকেনা শুরু হলেও এখনও জমে ওঠেনি। আরও ৩-৪ দিন পর পুরোদমে শুরু হবে বলে মনে করছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা।
এবার কোরবানির জন্য ফেনী জেলায় ৮২ হাজার ৫০০ গবাদিপশুর চাহিদা রয়েছে। আর প্রস্তুত করা হয়েছে ৯০ হাজার ৪৫২টি পশু। চাহিদার চেয়ে প্রায় ৮ হাজার পশু বেশি থাকায় এবার পশু আমদানির প্রয়োজন হবে না।
বিগত কয়েক বছরের মতো এবারও স্থানীয় পশুতেই মেটানো হবে কোরবানির চাহিদা। তবে পশুখাদ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে লাভের মুখ দেখা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন স্থানীয় খামারিরা।
জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, এবার কোরবানির জন্য ফেনীর ছয় উপজেলায় গবাদিপশুর চাহিদা রয়েছে ৮২ হাজার ৫২৫টি। এর মধ্যে ৯০ হাজার ৪৫২টি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। চাহিদার তুলনায় ৭ হাজার ৯২৭টি বেশি রয়েছে। এসব পশুর মধ্যে গরু রয়েছে ৭১ হাজার ৫৬৯টি, ছাগল ১৩ হাজার ২২৯টি, মহিষ ১ হাজার ৭৩৫টি এবং ভেড়া ৩ হাজার ৯১৯টি।
গবাদিপশুর সংখ্যায় উপজেলাভিত্তিক তথ্যে এগিয়ে রয়েছে ছাগলনাইয়া উপজেলা। এ উপজেলায় পশুর সংখ্যা ২৪ হাজার ৩৬০টি। এরপর রয়েছে ফেনী সদর উপজেলা। সদরে গবাদিপশু রয়েছে ২২ হাজার ৪১৫টি। এছাড়া সোনাগাজী উপজেলায় রয়েছে ১৮ হাজার ৩৭৫টি, দাগনভূঞা উপজেলায় ৮ হাজার ৮৭৫টি, পরশুরাম উপজেলায় ৮ হাজার ৩৭৮টি এবং ফুলগাজী উপজেলায় ৮ হাজার ৪৯টি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য মতে, ফেনীর ৬ উপজেলায় এবার স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে ১২৯টি হাট বসছে। এর মধ্যে অস্থায়ী হাট বসছে ১১৪টি এবং স্থায়ী হাট ১৫টি। অস্থায়ী হাটের মধ্যে ফেনী সদর ও পৌরসভায় বসেছে ৪২টি, ছাগলনাইয়া উপজেলা ও পৌরসভায় ১৫টি, ফুলগাজী উপজেলায় ৭টি, পরশুরাম উপজেলায় ৮টি, দাগনভূঞা উপজেলা ও পৌরসভায় ১৯টি এবং সোনাগাজী উপজেলায় ২১টি পশুর হাট ইজারা দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর থেকে ৩৭টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে।
জেলার ৫ হাজার ৪০৭টি খামারে এখন চলছে শেষ মুহূর্তের পরিচর্যা ও বিক্রির প্রস্তুতি। খামারিরা সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত গরুর পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। এবার ভালো লাভ করার আশাবাদী তারা।
রাহাদ এগ্রো ফার্মের স্বত্বাধিকারী ওবায়দুল্লাহ কাফী খুররম জানান, ফেনী সদর উপজেলার শর্শদিতে বিগত কয়েক বছর যাবৎ কোরবানিকে সামনে রেখে পশু মোটাতাজাকরণের কাজ চলছে। সম্পূর্ণ দেশীয় জাতের গরু ও ছাগল এখানে পাওয়া যায়। বড়, ছোট ও মাঝারি সব ধরনের পশু মজুত রয়েছে। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাদ্য দিয়ে এ পশু লালন-পালন করা হয়ে থাকে। খামারে এসে ক্রেতারা গরু ক্রয় করে থাকেন।
পাঠানবাড়ি এলাকার হাসিনা এগ্রোর স্বত্বাধিকারী আরাফাত খান বলেন, এ বছর প্রতিটি গরুর পেছনে খরচ বেড়েছে। গোখাদ্যের দাম বাড়ায় ছোট গরুর পেছনে ২০ হাজার এবং বড় গরুর পেছনে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ বেড়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মু. সাইফুল ইসলাম জানান, পশুর হাটের নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক প্রস্তুতি রয়েছে। জাল টাকা শনাক্তে ব্যাংকের সহযোগিতায় বিভিন্ন পশুর হাটে মেশিন বসানো হবে।
৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এমএম জিল্লুর রহমান বলেন, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে গবাদিপশুর অনুপ্রবেশ ও পশুর চামড়া পাচার রোধে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
ফেনী জেলা প্রশাসক মনিরা হক জানান, কোরবানির পশুর হাট কোনোভাবেই সড়ক-মহাসড়কের ওপর করা যাবে না। এছাড়া বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পশু বিক্রেতাদের নিরাপত্তার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এএন