ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬

মাগুরায় ৩৪ হাজার ৮১৮ হেক্টর জমিতে পাট চাষ, দাম ও পানির সংকট নিয়ে শঙ্কা

মিরাজ আহমেদ, মাগুরা

মিরাজ আহমেদ, মাগুরা

জুন ২৪, ২০২৬, ০৫:০২ পিএম

মাগুরায় ৩৪ হাজার ৮১৮ হেক্টর জমিতে পাট চাষ, দাম ও পানির সংকট নিয়ে শঙ্কা

একসময় যাকে বলা হতো ‘সোনালি আঁশ’, সেই পাট এখনো মাগুরার হাজারো কৃষকের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভরসা। চলতি মৌসুমে জেলায় ৩৪ হাজার ৮১৮ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে, যা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ পাট চাষের এলাকা হিসেবে মাগুরার অবস্থানকে আরও দৃঢ় করেছে। কৃষি বিভাগ বলছে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে। তবে কৃষকদের একাংশের আশঙ্কা, ন্যায্যমূল্য না পেলে ভালো ফলনও কাঙ্ক্ষিত সুফল বয়ে আনবে না।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে প্রতি হেক্টরে ১২ দশমিক ৭৬ বেল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সে হিসেবে জেলায় মোট প্রায় ৪ লাখ ৪৪ হাজার ৬৮০ বেল পাট উৎপাদনের আশা করছে কৃষি বিভাগ। পাট চাষ সম্প্রসারণে সরকারি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় জেলার ৪ হাজার ৭০০ কৃষককে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক কৃষককে ১ কেজি করে উন্নতমানের পাটবীজ, ৫ কেজি ডিএপি এবং ৫ কেজি এমওপি সার দেওয়া হয়েছে। এতে মোট ৪ হাজার ৭০০ কেজি বীজ, ২৩ হাজার ৫০০ কেজি ডিএপি ও ২৩ হাজার ৫০০ কেজি এমওপি সার বিতরণ করা হয়েছে।

জেলার সদর, শ্রীপুর, শালিখা ও মহম্মদপুর উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ এলাকায় পাটের বৃদ্ধি সন্তোষজনক। অনেক কৃষক এবার ধান ও অন্যান্য ফসলের পরিবর্তে পাট চাষে ঝুঁকেছেন। কারণ হিসেবে তাঁরা গত কয়েক বছরে পাটের তুলনামূলক ভালো বাজারমূল্য এবং কম ঝুঁকির কথা উল্লেখ করেছেন।

সদর উপজেলার কৃষক আব্দুস সাত্তার জানান, এবার পাটের গাছ ভালো হয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত লাভ হবে কি না, সেটা বাজারের দামের ওপর নির্ভর করছে। কারণ উৎপাদন খরচ আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে; বিশেষ করে শ্রমিকের মজুরি, সার ও অন্যান্য খরচ এখন অনেক বেশি।

শ্রীপুর উপজেলার কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, পাটের জন্য সময়মতো বৃষ্টি খুব গুরুত্বপূর্ণ। এখন পর্যন্ত অবস্থা ভালো আছে। তবে পাট কাটার সময় যদি খাল-বিল ও জলাশয়ে পর্যাপ্ত পানি না থাকে, তাহলে পাট পচানো ও আঁশ ছাড়াতে চরম সমস্যা হবে।

কৃষি বিভাগ বলছে, পরিবেশবান্ধব ফসল হিসেবে পাটের গুরুত্ব বিশ্বব্যাপী বাড়ছে। প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে পাটজাত পণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারেও চাহিদা তৈরি হচ্ছে, যার ইতিবাচক প্রভাব স্থানীয় কৃষকদের ওপরও পড়ছে।

মাগুরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. তাজুল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে ৩৪ হাজার ৮১৮ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। কৃষকদের মাঝে উন্নতমানের বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে। মাঠপর্যায়ে নিয়মিত তদারকি এবং কারিগরি পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পাশাপাশি ভালো মানের আঁশ উৎপাদন সম্ভব হবে।

তবে কৃষি অর্থনীতিবিদ ও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু উৎপাদন বাড়লেই হবে না, কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করাও জরুরি। অনেক সময় মৌসুমের শুরুতে সিন্ডিকেটের কারণে দাম কমে যাওয়ায় কৃষকেরা ক্ষতির মুখে পড়েন। পাশাপাশি পাট পচানোর জন্য জলাশয় সংকটও অনেক এলাকায় বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। উন্নত বাজার ব্যবস্থাপনা, সংরক্ষণ সুবিধা বৃদ্ধি এবং পাটজাত শিল্পের সম্প্রসারণ ঘটানো গেলে মাগুরার পাট অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জেএইচআর

Link copied!