আন্তর্জাতিক ডেস্ক
জুন ২৪, ২০২৬, ০৪:৫৭ পিএম
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ অবসানে স্বাক্ষরিত ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’কে যুক্তরাষ্ট্রের পরাজয়ের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেছেন ইরানের প্রধান আলোচক ও পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।
বুধবার (২৪ জুন) আজারবাইজানে অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, এই সমঝোতা কোনো চাপ বা জোরপূর্বক আরোপিত চুক্তি নয়; বরং এটি ইরানি জনগণের প্রতিরোধ, দৃঢ়তা ও সক্ষমতার প্রতিফলন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত বক্তব্যে গালিবাফ বলেন, এ কারণেই ইসলামাবাদে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকটি কার্যত যুক্তরাষ্ট্রের পরাজয়ের ঘোষণায় পরিণত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার দায়িত্ব মূলত এ অঞ্চলের দেশগুলোরই হওয়া উচিত।
এর আগে গত ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ১৪ দফার একটি সমঝোতায় পৌঁছায়। এতে হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা, যুদ্ধ ও উত্তেজনা প্রশমনের উদ্যোগ, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর কিছু সীমাবদ্ধতা এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল।
একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।
চুক্তির বাস্তবায়ন ও পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে ২১ জুন সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টকে দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়। প্রায় ১৮ ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক শেষে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান ও কাতার যৌথ বিবৃতিতে জানায়, আলোচনা ইতিবাচক ও গঠনমূলক পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে এবং এতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সম্ভাব্য চূড়ান্ত চুক্তির খসড়া এবং বাস্তবায়ন কাঠামো প্রস্তুতের লক্ষ্যে বিশেষজ্ঞ ও কারিগরি পর্যায়ের পৃথক কর্মীদল গঠন করা হয়েছে।
এদিকে, ২২ জুন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ এক বিবৃতিতে জানায়, ইরানের জ্বালানি তেল রফতানির ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ৬০ দিনের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।
এম জি