পুঠিয়া (রাজশাহী) প্রতিনিধি
জুলাই ৪, ২০২৬, ০৭:৩৩ পিএম
বাংলাদেশের ঐতিহাসিক স্থাপত্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে কাছ থেকে জানতে রাজশাহীর ঐতিহাসিক পুঠিয়া রাজবাড়ি ও গোবিন্দ মন্দির পরিদর্শন করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ব্রুনাই দারুসসালামের রাষ্ট্রদূত হাজি হারিস বিন হাজি ওসমান।
শনিবার দুপুরে দুই সদস্যের প্রতিনিধি দল নিয়ে সড়কপথে পুঠিয়া রাজবাড়ি চত্বরে পৌঁছান তিনি। আগমনের পর রাষ্ট্রদূতকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিয়াকত সালমান এবং রাজবাড়ি কর্তৃপক্ষ। সংক্ষিপ্ত আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রতিনিধি দলটি রাজবাড়ির বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনের একপর্যায়ে তারা রাজবাড়ি-সংলগ্ন ঐতিহাসিক গোবিন্দ মন্দিরও ঘুরে দেখেন। মন্দিরের টেরাকোটার সূক্ষ্ম কারুকাজ, প্রাচীন স্থাপত্যশৈলী এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণের বিভিন্ন দিক গভীর আগ্রহ নিয়ে পর্যবেক্ষণ করেন রাষ্ট্রদূত। এ সময় তিনি স্থানীয় কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পুঠিয়ার ইতিহাস, জমিদারি আমলের স্থাপত্য এবং সংরক্ষণ কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নেন।
রাষ্ট্রদূতের সফরসঙ্গীদের মধ্যে ছিলেন ব্রুনাই দূতাবাসের প্রথম সচিব মাজি রোজাইমি বিন দাতো পদুকা হাজি আবদুল্লাহ এবং জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও সাবেক সম্পাদক আবদুল রহমান।
প্রায় ১৫ মিনিটের এই সফর শেষে দুপুর ১টা ৫০ মিনিটে প্রতিনিধি দলটি সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশে পুঠিয়া ত্যাগ করে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রদূতের সফর উপলক্ষে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। পুরো সফর শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয় এবং কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
উত্তরবঙ্গের অন্যতম ঐতিহাসিক নিদর্শন পুঠিয়া রাজবাড়ি ও এর মন্দিরসমূহ দীর্ঘদিন ধরে দেশি-বিদেশি পর্যটক, গবেষক এবং কূটনীতিকদের আকর্ষণের কেন্দ্র। সংশ্লিষ্টদের মতে, বিদেশি কূটনীতিকদের এ ধরনের সফর বাংলাদেশের প্রত্নঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও পর্যটন সম্ভাবনাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও পরিচিত করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ব্রুনেইর রাষ্ট্রদূতের এই সফরও পুঠিয়ার ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্বকে নতুন করে তুলে ধরেছে।
এম জি