ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা রবিবার, ০৫ জুলাই, ২০২৬

কালিয়াকৈরে ১২২ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩৩টিতে নেই প্রধান শিক্ষক

মো. দেলোয়ার হোসেন, কালিয়াকৈর (গাজীপুর)

মো. দেলোয়ার হোসেন, কালিয়াকৈর (গাজীপুর)

জুলাই ৫, ২০২৬, ০৮:০৯ পিএম

কালিয়াকৈরে ১২২ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩৩টিতে নেই প্রধান শিক্ষক

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকট চলমান থাকায় প্রাথমিক শিক্ষার মান নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পদ শূন্য থাকায় অনেক বিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, কালিয়াকৈর উপজেলায় মোট ১২২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ৩৩টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ এবং ২২টি বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য।

ফলে অনেক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে শিক্ষকস্বল্পতার কারণে একজন শিক্ষককে একাধিক শ্রেণির পাঠদান করতে হচ্ছে।

সরেজমিনে কয়েকটি বিদ্যালয় ঘুরে দেখা যায়, শিক্ষক সংকটের কারণে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী পাঠদান পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। কোথাও একজন শিক্ষককে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের একসঙ্গে পাঠদান করতে হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় পাঠগ্রহণে বিঘ্ন ঘটছে, মৌলিক শিক্ষার ভিত্তি দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

একজন অভিভাবক বলেন, “স্কুলে গিয়ে দেখি একজন শিক্ষক তিনটি শ্রেণি সামলাচ্ছেন। অনেক সময় বাচ্চারা বই নিয়ে বসে থাকে। এভাবে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা কঠিন।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক জানান, শিক্ষক সংকটের কারণে পাঠদানের পাশাপাশি প্রশাসনিক বিভিন্ন দায়িত্বও পালন করতে হচ্ছে। উপবৃত্তির তথ্য, ইউনিক আইডি, বিভিন্ন দাপ্তরিক প্রতিবেদন প্রস্তুত, অফিস ব্যবস্থাপনার কাজ সামলাতে গিয়ে নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।

একজন শিক্ষক বলেন, “অনেক সময় অফিসের কাজ শেষ করতেই ক্লাসের সময় চলে যায়। প্রয়োজনীয় জনবল না থাকলে শিক্ষার মান ধরে রাখা কঠিন।”

শিক্ষাবিদদের মতে, প্রাথমিক স্তরের প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের ভিত্তি। এ পর্যায়ে দীর্ঘদিন শিক্ষক সংকট থাকলে শিক্ষার্থীদের মৌলিক দক্ষতা অর্জন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ঝরে পড়ার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

এ বিষয়ে কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ. এইচ. এম. ফখরুল হোসাইন বলেন, শিক্ষক সংকটের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। শূন্য পদের তালিকা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। স্থায়ী নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত প্রয়োজনীয় বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত না হয়।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল মতিন বলেন, শিক্ষক সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে নিয়মিত জানানো হচ্ছে। শূন্য পদ পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যালয় পরিদর্শন জোরদার করা হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে শিক্ষার মান বজায় রাখা সম্ভব হয়।

স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে বিদ্যালয়গুলোর স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম নিশ্চিত করা হলে শিক্ষার্থীরা মানসম্মত শিক্ষা লাভের সুযোগ পাবে।

এএন

Link copied!