গাজীপুর প্রতিনিধি
জুলাই ২৩, ২০২৬, ০৮:০৬ পিএম
পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, সাইফুল ইসলাম ও নিহত শান্তা-দুজনেরই এটি ছিল দ্বিতীয় বিয়ে। সাইফুলের আগের সংসারে দুই ছেলে ও দুই মেয়ে এবং শান্তার আগের সংসারে দুই সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই পারস্পরিক অবিশ্বাস, সন্দেহ ও দাম্পত্য কলহের কারণে তাদের সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছিল।
তদন্তে জানা যায়, ঘটনার দিন শান্তার ফোন পেয়ে সাইফুল গাজীপুরে আসেন। পরে তারা চান্দনা চৌরাস্তার একটি আবাসিক হোটেলের ৩০৭ নম্বর কক্ষে ওঠেন। সেখানে পুরোনো বিরোধ ও পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়।
একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় সাইফুল শান্তাকে থাপ্পড় মারলে শান্তা তাকে আঁচড় ও আঘাত করেন। পরে সাইফুল ধারালো অস্ত্র দিয়ে শান্তার গলা ও বুকে আঘাত করেন। এতে শান্তা খাটের ওপর লুটিয়ে পড়েন। পরে তার ব্যাগ থেকে মোবাইল ফোন ও পরিচয়পত্র নিয়ে সাইফুল হোটেল থেকে পালিয়ে যান।
পিবিআই গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার জানান, অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধারের খবর পাওয়ার পরপরই ক্রাইমসিন ইউনিট ও বিশেষ তদন্ত দল কাজ শুরু করে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় প্রযুক্তির সহায়তায় মাত্র এক দিনের মধ্যেই নিহতের পরিচয় শনাক্ত, প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার এবং হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হয়েছে।
তিনি আরও জানান, হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার, অন্যান্য আলামত সংগ্রহ, সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে আদালতে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
গ্রেপ্তার সাইফুল ইসলামকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, উদ্ধার করা মোবাইল ফোন, হোটেলের তথ্য ও অন্যান্য আলামত যাচাই করে তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে পিবিআই।
এম জি