সিরাজুদ্দোজা পাভেল, মেহেরপুর
জুলাই ২৫, ২০২৬, ০২:৪২ পিএম
সবজির জেলা হিসেবে পরিচিত মেহেরপুরে হঠাৎ করেই নিত্যপণ্যের বাজারে আগুনের উত্তাপ দেখা দিয়েছে। বৈরী আবহাওয়া ও টানা বর্ষণের কারণে মাঠের ফসল ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বাজারে সবজির সরবরাহ আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে। ফলে কাঁচা মরিচ ও বেগুনসহ প্রায় সব ধরনের সবজির দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। মেহেরপুর বড় বাজার ও প্রধান প্রধান হাট-বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি সবজিতে ২৫ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। বাড়তি দামের কারণে বাজারে এসে অনেককেই খালি হাতে বা কাটছাঁট করে কেনাকাটা নিয়ে বাড়ি ফিরে যেতে হচ্ছে।
সরেজমিনে বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বৃষ্টিপাতের কারণে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে কাঁচা মরিচ ও বেগুনের বাজারে। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে কাঁচা মরিচের দাম সেঞ্চুরি পার হয়ে সোজা ‘ডাবল সেঞ্চুরি’তে (২০০ থেকে ২২০ টাকা কেজি) গিয়ে ঠেকেছে। আর সাধারণ বেগুন ‘সেঞ্চুরি’ হাঁকিয়ে প্রতি কেজি ১০০ থেকে ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
মরিচ ও বেগুনের পাশাপাশি অন্যান্য সবজির দরদামেও চরম চড়াও ভাব। বর্তমানে গাজর বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা এবং টমেটো ১৬০ টাকা কেজি দরে। এছাড়া শসা ৮০ টাকা, উস্তা ৭০ টাকা, কাঁকরোল ৭০ টাকা, ঢেঁড়শ ৬০ টাকা এবং পটল, কচু, চিচিঙ্গা, পেঁপে ও পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ৫০ টাকার নিচে হাতে গোনা দুই-একটি ছাড়া কোনো সবজিই এখন বাজারে মিলছে না।
বাজারের এই পরিস্থিতিতে মেহেরপুর বড় বাজারে কেনাকাটা করতে আসা রমজানুল করিম বলেন, টানা বৃষ্টির পর বাজারে প্রতিটি সবজির দাম কেজিতে ২৫-৩০ টাকা বেড়ে গেছে। যে জেলায় এত সবজি উৎপাদিত হয়, সেখানে হঠাৎ দাম এমন বেড়ে যাওয়ায় আমাদের মতো নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের কেনাকাটাই কঠিন হয়ে পড়েছে।
বাজারে আসা স্থানীয় বাসিন্দা রাশেদ খান বলেন, বাজারে ঢুকে প্রতিটি সবজির দাম শুনে মাথা খারাপ হওয়ার উপক্রম! কাঁচা মরিচ ২০০ টাকা আর বেগুন ১০০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না। বাকি পটল, উস্তা, কচু—সব কিছুর দাম কেজিতে ২৫-৩০ টাকা বেড়ে গেছে। প্রতিদিনের বাজার খরচ সামলাতে আমাদের মতো সাধারণ মানুষের হিমশিম খেতে হচ্ছে।
বড় বাজারের মিয়ারুল সবজি ভান্ডারের সাজেদুর রহমান সাজু বলেন, বৃষ্টির কারণে জমির অধিকাংশ সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে যেসব চাষি মাচায় আবাদ করেছিলেন, তাদের ফসলই কেবল বাজারে আসছে। মাটিতে থাকা সবজিগুলো অতিবৃষ্টির কারণে নষ্ট হয়ে গেছে, তাই মোকামে চাহিদা অনুযায়ী সবজি উঠছে না। সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পাইকারি বাজারে দাম কমার সুযোগ নেই।
খুচরা সবজি বিক্রেতা আলামিন হোসেন বলেন, আমরা আড়ত থেকে চড়া দামে মাল কিনে আনছি, তাই বাধ্য হয়েই বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। আগে যেখানে দিনে ৩-৪ মণ সবজি বিক্রি করতাম, এখন দামের কারণে মানুষ কেনাকাটা কমিয়ে দিয়েছে। প্রতিদিন মালামাল বিক্রি না হয়ে জমে থাকলে আরও লোকসান হয়। ক্ষেত নষ্ট হওয়ার কারণে মাচার সবজি ছাড়া বাজারে আর কিছুই পাওয়া যাচ্ছে না।
জেলা শহরের বড় বাজার ছাড়াও গাংনী ও মুজিবনগর হাটেও একই চিত্র বিরাজ করছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হয়ে নতুন ফসল না আসা পর্যন্ত বাজারে সবজির এই চড়া দাম অব্যাহত থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন ক্রেতা, বিক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা।
এএন