অর্থনৈতিক প্রতিবেদক
ফেব্রুয়ারি ১, ২০২৬, ০১:১২ পিএম
নতুন বছরের দ্বিতীয় মাসের শুরুতেই সাধারণ মানুষ ও পরিবহন খাতের জন্য এলো স্বস্তির বার্তা। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের বাজারে টানা দ্বিতীয়বারের মতো কমানো হয়েছে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম। ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহর থেকেই নতুন এই মূল্য কার্যকর হয়েছে।
শনিবার দিবাগত রাতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক বিশেষ প্রজ্ঞাপনে এই মূল্য হ্রাসের ঘোষণা দেওয়া হয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেন—প্রতিটি জ্বালানির দাম লিটারপ্রতি ২ টাকা করে কমানো হয়েছে।
জ্বালানি তেলের দামে সাম্প্রতিক পরিবর্তনের ফলে আজ সকাল থেকেই দেশের সব পেট্রোল পাম্পে নতুন নির্ধারিত মূল্যে তেল বিক্রি শুরু হয়েছে। ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সব ধরনের জ্বালানির দাম লিটারে ২ টাকা করে কমানো হয়েছে। আগে যেখানে ডিজেলের দাম ছিল লিটারপ্রতি ১০২ টাকা, এখন তা কমে হয়েছে ১০০ টাকা। একইভাবে কেরোসিনের দাম ১১৪ টাকা থেকে কমে ১১২ টাকা, পেট্রলের দাম ১১৮ টাকা থেকে কমে ১১৬ টাকা এবং অকটেনের দাম ১২২ টাকা থেকে কমে ১২০ টাকায় নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারের এই মূল্যহ্রাসের ফলে ভোক্তাদের ওপর কিছুটা চাপ কমবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
জ্বালানি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি (Automatic Pricing Formula) অনুযায়ী প্রতি মাসে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে জ্বালানির দাম নির্ধারণ করা হয়। গত জানুয়ারি মাসেও লিটারে ২ টাকা কমানো হয়েছিল। বিশ্ববাজারে তেলের দামের নিম্নমুখী প্রবণতা এবং স্থানীয় বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকার টানা দ্বিতীয় মাসে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১০০ টাকায় নেমে আসা একটি মনস্তাত্ত্বিক বিজয়। কারণ, পরিবহন খাতের সিংহভাগ জ্বালানি আসে ডিজেল থেকে।
জ্বালানি তেলের দাম কমার ফলে বহুমুখী ইতিবাচক প্রভাবের আশা করছে সংশ্লিষ্ট মহল-
পরিবহন ভাড়া: ডিজেলের দাম কমায় পণ্যবাহী ট্রাক এবং গণপরিবহনের পরিচালন ব্যয় কমবে। সাধারণ যাত্রী ও ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, এর সুফল হিসেবে বাস ভাড়া এবং নিত্যপণ্যের পরিবহন খরচও কিছুটা হ্রাস পাবে।
কৃষি সেচ: বর্তমানে বোরো মৌসুম চলছে, যেখানে সেচ পাম্পের জন্য কৃষকদের প্রচুর ডিজেল প্রয়োজন হয়। লিটারে ২ টাকা সাশ্রয় প্রান্তিক কৃষকদের উৎপাদন খরচ কমাতে সহায়ক হবে।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ: জ্বালানির দাম কমলে পরোক্ষভাবে বাজারে নিত্যপণ্যের দামে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে, যা মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারকে সহায়তা করবে।
নতুন দাম ঘোষণার পরপরই দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার ফিলিং স্টেশনগুলোতে তদারকি শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন। কেউ যাতে পুরনো চড়া দামে তেল বিক্রি করতে না পারে এবং গ্রাহকরা যাতে সরকার নির্ধারিত মূল্যের সুফল পান, তা নিশ্চিত করতে ভ্রাম্যমাণ আদালত সক্রিয় রয়েছে।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা জানান, "সরকার নির্ধারিত মূল্য তালিকা প্রতিটি পাম্পের দৃশ্যমান স্থানে ঝুলিয়ে রাখা বাধ্যতামূলক। কোনো ব্যত্যয় ঘটলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নির্বাচনী বছরে জ্বালানি তেলের দাম টানা দুই মাস কমিয়ে রাখা সরকারের একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সাধারণ মানুষ। যদিও হ্রাসের পরিমাণ লিটারে মাত্র ২ টাকা, তবুও এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কিছুটা হলেও সহনীয় পর্যায়ে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এএন