আমার সংবাদ ডেস্ক
জুন ১২, ২০২৬, ০৯:৩৭ পিএম
প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন কাঠামো সমন্বয়ের উদ্যোগকে সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তার মতে, দীর্ঘদিন ধরে বেতন-ভাতা পুনর্নির্ধারণ না হওয়ায় এবং মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এ ধরনের সমন্বয় এখন জরুরি হয়ে উঠেছে।
শুক্রবার (১২ জুন) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, অর্থ প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, অর্থসচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান প্রমুখ।
অর্থমন্ত্রী বলেন, মানুষের আর্থিক সংকট ও অভাব-অনটন অনেক সময় দুর্নীতির দিকে ঝুঁকে পড়ার প্রবণতা তৈরি করে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেল প্রায় ১১ বছর ধরে কার্যকর হয়নি। এই সময়ে মূল্যস্ফীতি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে তাদের আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার জন্য বেতন সমন্বয় প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, বেতন কাঠামোর এই সমন্বয় সরকারি চাকরিজীবীদের আর্থিক চাপ কিছুটা কমাবে এবং দুর্নীতির প্রবণতা হ্রাসেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, কোন খাতে কতসংখ্যক নতুন চাকরি সৃষ্টি হবে, তা নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়। তবে তথ্যপ্রযুক্তি, শিল্প, কৃষি, স্বাস্থ্য, স্বনিয়োজিত কর্মসংস্থান এবং দেশি-বিদেশি শ্রমবাজারকে কেন্দ্র করে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির পরিকল্পনা বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, নতুন কর্মসংস্থান তৈরির জন্য চাহিদা বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগ সম্প্রসারণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতের বিনিয়োগকে উৎসাহিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে বিভিন্ন উদ্যোগ ও প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনাও রয়েছে।
শিক্ষা খাতে বড় বরাদ্দ দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে অর্থমন্ত্রী বলেন, দক্ষতা উন্নয়নই এর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। একজন দক্ষ কর্মী বা শ্রমিক দেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারেও সহজে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেতে পারেন। তাই দক্ষ জনশক্তি তৈরিকে বাজেটে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এম জি