Amar Sangbad
ঢাকা বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪,

জাবির প্রশাসনিক ভবন ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিসে ছাত্রলীগের তালা

জাবি প্রতিনিধি

জাবি প্রতিনিধি

মার্চ ১৫, ২০২৩, ০৩:৩১ পিএম


জাবির প্রশাসনিক ভবন ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিসে ছাত্রলীগের তালা

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) উপাচার্যের বিরুদ্ধে বিএনপি-জামাতকে পৃষ্ঠপোষকতা করার অভিযোগ এনে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিসে তালা দিয়ে অবরোধ করেছে শাখা ছাত্রলীগের একাংশ।

বুধবার (১৫ মার্চ) সকাল ১০ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের অফিসে ছাত্রলীগের বিভিন্ন হলের ২০-২৫ জন নেতাকর্মী উপস্থিত হয়ে অবরোধ শুরু করে৷

এসময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বলেন, পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. সালাউদ্দিন বিএনপি আমলে বিএনপি-জামায়াতের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। তার নামে ২০১৩ সালে বিএনপির প্যাডে স্বাক্ষর সম্বলিত বিবৃতিও ছিল৷ তাকে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের অফিসে নিয়োগের মাধ্যমে বিএনপি-জামাতের এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মো. এনামুল হক বলেন, আমাদের দাবি একটাই। বিএনপি-জামাতপন্থী কাউকে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদে দেখতে চাই না। অবিলম্বে তাকে এই পদ থেকে অপসারণ করে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কাউকে বসাতে হবে।

এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসান, শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ফরিদ আহমেদসহ শিক্ষকরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তাদের সাথে কথা বলেন। পরে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রককে অপসারণের ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়ে দুপুর সাড়ে বারোটায় অবরোধ তুলে নেয় ছাত্রলীগ কর্মীরা৷

এ ব্যাপারে জানতে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. সালাউদ্দিন বলেন, বিএনপি আমলে আমার নাম ব্যবহার করে আমার অজান্তেই একটা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে। ব্যাপারটা আমার অজ্ঞাতসারেই ঘটেছে৷ আমি বিএনপির রাজনীতির সাথে কখনোই জড়িত ছিলাম না।

এরপর বেলা সাড়ে বারোটার দিকে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আকতারুজ্জামান সোহেল ও সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান লিটনের উপস্থিতিতে প্রশাসনিক ভবন অবরোধ করে তারা। এসময় ইতিহাস বিভাগসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পদে বিরোধীদলীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে প্রতিষ্ঠার অভিযোগ তোলেন তারা। এসময় উপাচার্য, রেজিস্ট্রার, ট্রেজারার, প্রক্টরসহ প্রশাসনিক অন্যান্য সদস্যরা সেখানে উপস্থিত হয়ে অবরোধ তুলে নেয়ার অনুরোধ জানান। পরে উপাচার্যের সাথে আলোচনার শর্তে বিকাল সাড়ে তিনটায় প্রশাসনিক ভবনের অবরোধ তুলে নেয় তারা।

শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি আকতারুজ্জামান সোহেল বলেন, কোন বিতর্কিত নিয়োগ বোর্ড আমরা চাই না। বিভিন্ন সময়ে আমরা উপাচার্যের কাছে যৌক্তিক দাবি নিয়ে এসেছি৷ কিন্তু উপাচার্য আমাদের কোন দাবিই আমলে নেয়নি। ডেপুটি রেজিস্ট্রার থেকে শুরু করে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, হল প্রভোস্ট সব জায়গায় বিএনপি-জামাতপন্থীদের বসানো হচ্ছে। আমরা চাই মেধাবীদের নিয়োগ হোক। বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি কোন সুযোগ সুবিধা পাক এটা আমরা চাই না।

এসময় উপাচার্য অধ্যাপক ড. নূরুল আলম বলেন, আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের সবাই বঙ্গবন্ধুর আদর্শের বিশ্বাসী৷ যারা আগে থেকে দায়িতে পালন করছেন আমি চাইলেই এখন সরিয়ে দিতে পারি না। যেসকল ডীন ইলেকশনে নির্বাচিত তাদের পরবর্তী নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্বে থাকবেন। আর পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. সালাউদ্দিন দীর্ঘদিন আমাদের সাথে আওয়ামীপন্থী রাজনীতি করেছেন। 

আরএস
 

Link copied!