আন্তর্জাতিক ডেস্ক
জানুয়ারি ১২, ২০২৬, ০৪:৫৪ পিএম
সৌদি আরব সরকার ২০২৬ সালের হজ মৌসুমকে সামনে রেখে হজযাত্রীদের সুবিধার্থে নতুন ডিজিটাল সেবা চালু করেছে। একইসঙ্গে দেশটির শীর্ষস্থানীয় মানবিক সহায়তা সংস্থা ‘কিং সালমান হিউম্যানিটেরিয়ান এইড অ্যান্ড রিলিফ সেন্টার’ (KSrelief) বিশ্বের বিভিন্ন যুদ্ধবিধ্বস্ত ও সংকটাপন্ন অঞ্চলে তাদের ত্রাণ কার্যক্রম আরও জোরদার করেছে।
সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় ‘ডাইরেক্ট হজ প্রোগ্রাম’ -এর আওতাভুক্ত দেশগুলোর হজযাত্রীদের জন্য ‘নুসুক হজ’ (Nusuk Hajj) প্ল্যাটফর্মে ‘প্যাকেজ প্রেফারেন্স’ বা প্যাকেজ পছন্দ করার ধাপটি চালু করেছে।
পছন্দ ও তুলনা: সম্ভাব্য হজযাত্রীরা নুসুক প্ল্যাটফর্মে গিয়ে বিভিন্ন সেবার মান, বিষয়বস্তু এবং খরচের ভিত্তিতে উপলব্ধ হজ প্যাকেজগুলো পর্যালোচনা ও তুলনা করতে পারবেন। তারা সর্বোচ্চ পাঁচটি পছন্দের প্যাকেজ নির্বাচন করার সুযোগ পাবেন।
সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ: অফিসিয়াল বুকিং শুরু হওয়ার আগেই এই প্রক্রিয়া হজযাত্রীদের একটি সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে। পাশাপাশি এটি সেবাপ্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে হজযাত্রীদের চাহিদা বুঝতে এবং সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নিতে সহায়তা করবে।
ডিজিটাল সুবিধা: নুসুক প্ল্যাটফর্মে প্যাকেজ তুলনার সরঞ্জাম, জনপ্রিয়তা নির্দেশক এবং ডিজিটাল ওয়ালেটের মাধ্যমে কিস্তিতে টাকা জমা দেওয়ার সুবিধা রাখা হয়েছে।
সতর্কবার্তা: মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করেছে যে, নুসুক হজ প্ল্যাটফর্মই হলো নির্দিষ্ট দেশগুলোর জন্য একমাত্র অফিসিয়াল মাধ্যম। যেকোনো অননুমোদিত প্রতিষ্ঠান থেকে হজ সেবা গ্রহণ না করার জন্য সতর্ক করা হয়েছে। হজযাত্রীদের অধিকার রক্ষা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সকল বুকিং ও লেনদেন শুধুমাত্র এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমেই সম্পন্ন করতে হবে।
যাঁরা হজে যেতে ইচ্ছুক, তাঁদের তথ্য আপডেট করতে বা নিবন্ধন করতে Hajj.nusuk.sa ভিজিট করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা অসহায় মানুষের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবে ‘কেএসরিলিফ’ তাদের সহায়তা কার্যক্রম ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করেছে। বিশেষ করে গাজা, সুদান, ইয়েমেন এবং আফগানিস্তানে তাদের ত্রাণ কার্যক্রমের ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে।
গাজার ফিলিস্তিনিদের জন্য অত্যাবশ্যকীয় খাদ্য সামগ্রী নিয়ে কেএসরিলিফের একটি ত্রাণবাহী কনভয় রাফাহ সীমান্ত অতিক্রম করে কেরেম আবু সালেম ক্রসিংয়ের দিকে অগ্রসর হয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ গাজার আল-কারারা এবং খান ইউনিসের আল-মাওয়াসি এলাকায় নতুন আশ্রয় শিবির স্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে বাস্তুচ্যুত মানুষগুলো খাদ্য ও নিরাপদ আশ্রয়ের সুযোগ পাচ্ছে।
সুদানে চলমান সংকটের মাঝে বিশুদ্ধ পানি ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে কেএসরিলিফ নতুন একটি কর্মসূচি স্বাক্ষর করেছে। এর আওতায় ওমদুরমানের 'আল-মানারা ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট' সংস্কার করা হবে। এছাড়া ওমদুরমানের সৌদি মেটারনিটি অ্যান্ড চিলড্রেন হাসপাতাল এবং আল-বুলুক চিলড্রেন হাসপাতালে বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা করা হবে। এর পাশাপাশি সুদানের সিনার এবং রিভার নীল স্টেটে হাজার হাজার পরিবারের মাঝে খাদ্য ঝুড়ি বিতরণ করা হয়েছে। এ পর্যন্ত সৌদি আরব ১৩টি বিমান এবং ৬০টি জাহাজের মাধ্যমে সুদানে বিশাল পরিমাণ ত্রাণ পাঠিয়েছে।
ইয়েমেনের তাইজ প্রদেশে যুদ্ধাহত ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য কেএসরিলিফ তাদের কৃত্রিম অঙ্গ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের অষ্টম ধাপের কার্যক্রম শুরু করেছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ৮,০৫০ জন মানুষ উপকৃত হবেন। এতে রোগীদের কৃত্রিম অঙ্গ লাগানো, ফিজিওথেরাপি এবং তাদের সমাজে স্বাভাবিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে।
আফগানিস্তান: বাদাখশান প্রদেশে ৩,০৬০ জনের বেশি মানুষের মাঝে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
চাদ: দেশটির ৮১০টি অসহায় পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত কেএসরিলিফ বিশ্বের ১০৯টি দেশে ৪,০০৬টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং স্যানিটেশন খাতে সৌদি আরব এখন পর্যন্ত ৮.২৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি অর্থ ব্যয় করেছে, যা দেশটিকে বৈশ্বিক মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রে অন্যতম শীর্ষ স্থানে নিয়ে গেছে।
সৌদি আরবের এই দ্বিমুখী ভূমিকা—একদিকে হজযাত্রীদের জন্য আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় এবং অন্যদিকে বিশ্বজুড়ে আর্তমানবতার সেবা—আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসিত হচ্ছে।
এএন