আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মার্চ ২৫, ২০২৬, ০২:১৭ পিএম
ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ ও জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটের আঁচ পড়েছে এবার ইউরোপেও। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত প্রথম কোনো দেশ হিসেবে স্লোভেনিয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে জ্বালানি রেশনিং বা তেল বিক্রিতে সীমাবদ্ধতা জারি করা হয়েছে। তীব্র জ্বালানি সংকটের মুখে দেশটির সরকার এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে।
বুধবার ইরানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম পার্স টুডের এক প্রতিবেদনে এ খবর জানা গেছে।
স্লোভেনিয়া সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন থেকে ব্যক্তিগত গাড়ির কোনো চালক এক দিনে ৫০ লিটারের বেশি জ্বালানি কিনতে পারবেন না। মূলত হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়া এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম লাগামহীনভাবে বেড়ে যাওয়ায় অভ্যন্তরীণ মজুত ধরে রাখতে এই রেশনিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
স্লোভেনিয়ায় জ্বালানির দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় সেখানে ‘ফুয়েল ট্যুরিজম’ বা জ্বালানি পর্যটন নামক এক নতুন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দেশটির নাগরিকরা পেট্রোল এবং ডিজেলের অপেক্ষাকৃত কম দামের সুযোগ নিতে প্রতিবেশী দেশ অস্ট্রিয়ায় ভ্রমণ করছেন।
এদিকে বিশ্ববাজারের অস্থিরতা কমাতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) তাদের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছে। সদস্য দেশগুলোর জরুরি মজুত থেকে প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মূলত হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে পড়ায় বিশ্বজুড়ে যে সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলায় এই সিদ্ধান্ত।
জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব কেবল যাতায়াতেই সীমাবদ্ধ নেই। এর ফলে পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় পাল্লা দিয়ে বাড়ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম। পাশাপাশি ইউরোপের সাধারণ মানুষের গৃহস্থালির গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিলও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।
যুদ্ধ বন্ধে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা চলমান। এ খবরে বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় দরপতন দেখা যাচ্ছে। বুধবার দিনের শুরুতেই এশিয়ার বাজারেও জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের পতন হয়েছে।
বিবিসির খবরে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ৬ দশমিক ৬ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৭ দশমিক ৫৬ ডলারে নেমেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে লেনদেন হওয়া তেলের দাম ৫ দশমিক ৫ শতাংশের বেশি কমে ব্যারেলপ্রতি দাঁড়িয়েছে ৮৭ দশমিক ২০ ডলারে।
মঙ্গলবার ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধ বন্ধে আলোচনা চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় যুক্ত পক্ষগুলো ‘চুক্তি করতে মরিয়া’। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও যুদ্ধ বন্ধের এ আলোচনার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প।
এর আগে গত সোমবার তেহরানের একজন কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার এ দাবিকে ‘ভুয়া’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। তবে এখনও ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে।
এএন