আন্তর্জাতিক ডেস্ক
এপ্রিল ১৯, ২০২৬, ০৭:৪৩ পিএম
ফের আলোচনার টেবিলে বসতে যাচ্ছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। বহুল প্রতীক্ষিত এই সংলাপকে সামনে রেখে মার্কিন প্রতিনিধিদল ইতোমধ্যে ইসলামাবাদ রওয়ানা দিয়েছে, যা নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়েছে।
রোববার সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ওয়াশিংটন থেকে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল পাকিস্তানের রাজধানীর উদ্দেশে রওয়ানা দিয়েছে। যদিও আলোচনার নির্দিষ্ট সময়সূচি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি, তবে মঙ্গলবার প্রতিনিধি পর্যায়ের সংলাপ অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে এই আলোচনাকে ঘিরে ইসলামাবাদজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। শহরের রেড জোন ও বর্ধিত রেড জোন এলাকায় সব ধরনের যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। নাগরিকদের বিকল্প সড়ক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন। পাশাপাশি রাওয়ালপিণ্ডিসহ আশপাশের এলাকাতেও গণপরিবহন ও পণ্যবাহী যান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১০ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং শহরের প্রবেশ ও বহির্গমন পথে ৬০০টির বেশি বিশেষ চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এলিট ফোর্স, স্নাইপার ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া টিম মোতায়েন রয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।
এর আগে শাহবাজ শরীফ-এর মধ্যস্থতায় দুই পক্ষ দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার পর ১০ ও ১১ এপ্রিল প্রথম দফার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তারও আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করে।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ জানিয়েছেন, আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হলেও এখনো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোতে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, আলোচনা ‘খুবই ফলপ্রসূ’ হচ্ছে, তবে ইরানকে কোনো ধরনের চাপ প্রয়োগ থেকে বিরত থাকারও সতর্কবার্তা দিয়েছেন।
সব মিলিয়ে দ্বিতীয় দফার এই সংলাপকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন আশার সঞ্চার হলেও, স্থায়ী সমাধানে পৌঁছাতে এখনো বেশ কিছু বাধা অতিক্রম করতে হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এএন