আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মে ২৩, ২০২৬, ১২:৪১ এএম
আফগানিস্তানে তালিবান প্রশাসনের নতুন একটি আইন ঘিরে দেশ-বিদেশে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, এই আইনের মাধ্যমে কার্যত বাল্যবিবাহকে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে এবং নারীদের জন্য বিবাহবিচ্ছেদের পথ আরও কঠিন করে তোলা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন বিধান অনুযায়ী স্বামীর সম্মতি ছাড়া কোনো নারী বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করতে পারবেন না। এমনকি জোরপূর্বক বিয়ের অভিযোগ তুললেও স্বামী রাজি না থাকলে বিচ্ছেদ সম্ভব হবে না।
এ ছাড়া স্বামীর অনুপস্থিতি বা ভরণপোষণ না পাওয়ার মতো কারণেও নারীরা সহজে বিচ্ছেদের আবেদন করতে পারবেন না বলে আইনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, আফগানিস্তানে মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ সীমিত হওয়ার পর অল্প বয়সে বিয়ে বেড়ে গেছে। অনানুষ্ঠানিক তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হওয়ার পর বহু কিশোরীকে জোরপূর্বক বা অল্প বয়সে বিয়ে দেওয়া হয়েছে, যার বড় অংশই ১৮ বছরের নিচে।
নতুন আইন ঘোষণার পর রাজধানী কাবুলসহ বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদের খবর পাওয়া গেছে। নারী অধিকার সংগঠনগুলো একে নারী ও শিশুর বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্য হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।
মানবাধিকারকর্মী ফাতিমা বলেন, তালিবান ধারাবাহিকভাবে নারীদের অধিকার সংকুচিত করছে এবং এবার বাল্যবিবাহকে আইনি কাঠামোর মধ্যে আনতে চাইছে।
জাতিসংঘের আফগানিস্তান সহায়তা মিশনও আইনটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটির মতে, এটি আফগান নারী ও কন্যাশিশুদের অধিকার আরও সীমিত করবে এবং বৈষম্যমূলক পরিস্থিতিকে জোরদার করবে।
তবে তালিবান প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসব সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। সরকারের এক মুখপাত্র বলেন, ইসলাম ও তাদের ধর্মীয় ব্যবস্থার বিরোধীদের সমালোচনাকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
মানবাধিকার গবেষণাগুলোতে দেখা গেছে, বাল্যবিবাহের শিকার বহু কিশোরী পারিবারিক সহিংসতা ও মানসিক নির্যাতনের মধ্যে জীবন কাটাচ্ছে। সম্প্রতি দায়কুন্দি প্রদেশে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীর মৃত্যুর ঘটনাও নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। স্থানীয় সূত্র বলছে, বিয়ের পর স্বামীর নির্যাতনের শিকার হয়ে ওই কিশোরীর মৃত্যু হয়।
সূত্র: গার্ডিয়ান