ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬

বিশ্বজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহের পূর্বাভাস, জাতিসংঘের সতর্কতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

জুন ৩, ২০২৬, ১২:০৪ এএম

বিশ্বজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহের পূর্বাভাস, জাতিসংঘের সতর্কতা

বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা আরও বৃদ্ধি এবং চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। সম্ভাব্য শক্তিশালী ‘এল নিনো’ পরিস্থিতির জন্য বিশ্ববাসীকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়ে সতর্কবার্তা জারি করেছে সংস্থার আবহাওয়া বিষয়ক অঙ্গসংগঠন বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও)।

মঙ্গলবার প্রকাশিত এক পূর্বাভাসে সংস্থাটি জানায়, চলতি বছরে মাঝারি থেকে শক্তিশালী মাত্রার এল নিনো দেখা দিতে পারে। এর ফলে আগামী কয়েক মাসে বৈশ্বিক তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এল নিনো হলো মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রার একটি পর্যায়ক্রমিক উষ্ণায়ন প্রক্রিয়া, যা সাধারণত নয় থেকে বারো মাস স্থায়ী হয়। বর্তমানে উষ্ণ সমুদ্রের পানি এল নিনোর বিকাশকে আরও ত্বরান্বিত করছে। এর প্রভাবে জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিশ্বের অধিকাংশ অঞ্চলে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা দেখা যেতে পারে। এই পরিস্থিতি অন্তত আগামী নভেম্বর পর্যন্ত অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে এল নিনোর তীব্রতা ঠিক কতটা হবে, সে বিষয়ে এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিভিন্ন আবহাওয়া মডেল ভিন্ন ভিন্ন পূর্বাভাস দিচ্ছে। তারপরও সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় এখনই প্রস্তুতি নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন কর্মকর্তারা।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার মহাসচিব সেলেস্তে সাউলো বলেন, সম্ভাব্য শক্তিশালী এল নিনোর জন্য আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে। এটি খরা ও অতিবৃষ্টির পরিস্থিতিকে আরও তীব্র করবে এবং স্থলভাগ ও সমুদ্রে তাপপ্রবাহের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলবে।

এল নিনোর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা বাড়ার পাশাপাশি দক্ষিণ আমেরিকার দক্ষিণাঞ্চল, যুক্তরাষ্ট্রের কিছু এলাকা, আফ্রিকার হর্ন অঞ্চল এবং মধ্য এশিয়ার কিছু অংশে বৃষ্টিপাত বৃদ্ধি পেতে পারে। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া, মধ্য আমেরিকা, ইন্দোনেশিয়া এবং দক্ষিণ এশিয়ার কিছু অঞ্চলে তীব্র খরা দেখা দিতে পারে। এছাড়া মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির প্রবণতাও বাড়াতে পারে এই জলবায়ু পরিস্থিতি।

সেলেস্তে সাউলো আরও জানান, ২০২৩-২৪ সালের সর্বশেষ শক্তিশালী এল নিনো ২০২৪ সালকে ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ বছর হিসেবে গড়ে তুলতে ভূমিকা রেখেছিল। অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে মশা ও কীট-পতঙ্গের মাধ্যমে ছড়ানো রোগের বিস্তার এবং খাদ্য ও পানির সরবরাহ সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে যখন মূল্যস্ফীতি ভোক্তাদের ওপর চাপ বাড়িয়েছে, তখন এল নিনোর প্রভাবে খাদ্যপণ্যের দাম আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে ক্রান্তীয় প্রশান্ত মহাসাগরের গভীর স্তরে অস্বাভাবিক উষ্ণতা লক্ষ্য করা গেছে, যেখানে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি রয়েছে। এই অতিরিক্ত তাপ একটি বিশাল তাপভাণ্ডার তৈরি করেছে, যা সমুদ্রপৃষ্ঠের উষ্ণতা আরও বাড়িয়ে এল নিনোকে শক্তিশালী করছে।

এল নিনোর এই নতুন সতর্কবার্তাকে জলবায়ু সংকটের একটি স্পষ্ট সংকেত হিসেবে উল্লেখ করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তিনি বলেন, বিশ্বকে এটিকে একটি জরুরি জলবায়ু সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। এল নিনো পরিস্থিতি উষ্ণ হয়ে ওঠা পৃথিবীর আগুনে আরও জ্বালানি যোগ করবে।

এটি বিশ্বকে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে দ্রুত অগ্রসর হওয়ার প্রয়োজনীয়তা মনে করিয়ে দিচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

জেএইচআর

Link copied!