আন্তর্জাতিক ডেস্ক
জুন ২৫, ২০২৬, ১২:১৯ পিএম
ইরানে চলমান সামরিক তৎপরতার ব্যয় নির্বাহের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন কংগ্রেসের কাছে অতিরিক্ত ৮৭ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের এক বিশাল বাজেট অনুমোদনের আবেদন জানিয়েছে। বুধবার হোয়াইট হাউস আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রস্তাব মার্কিন কংগ্রেসে জমা দেয়।
প্রস্তাবিত এই অর্থের সিংহভাগই মার্কিন প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় করার পরিকল্পনা রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৬৭ দশমিক ১৫ বিলিয়ন ডলার সরাসরি সামরিক কার্যক্রম পরিচালনা, মোতায়েনকৃত সেনাদের লজিস্টিকস সহায়তা, অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুত পুনর্গঠন এবং বিভিন্ন গোপনীয় নিরাপত্তা কর্মসূচিতে ব্যবহার করা হবে। এর পাশাপাশি নতুন অত্যাধুনিক সামরিক সরঞ্জাম ও উচ্চপ্রযুক্তির গোলাবারুদ সংগ্রহ এবং সামগ্রিক প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতা বাড়াতে আরও ২১ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।
তবে হোয়াইট হাউসের এই বাজেট প্রস্তাব প্রকাশের পর পরই মার্কিন কংগ্রেসে নতুন করে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটদের পাশাপাশি ট্রাম্পের নিজের দল রিপাবলিকান পার্টিরও কয়েকজন প্রভাবশালী সদস্য এই যুদ্ধ ব্যয়ের যৌক্তিকতা ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। সম্প্রতি মার্কিন সিনেটে গৃহীত একটি দ্বিপাক্ষিক প্রস্তাবে প্রেসিডেন্টকে ইরানসংক্রান্ত সব ধরনের সামরিক কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়। এর আগে নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদেও একই ধরনের প্রস্তাব বিপুল ভোটে অনুমোদিত হয়েছিল।
আইনপ্রণেতাদের একাংশের গুরুতর অভিযোগ, মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ পরিস্থিতি, সম্ভাব্য ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে কংগ্রেসকে প্রশাসন পর্যাপ্ত ও স্বচ্ছ তথ্য দিচ্ছে না। তাঁদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী যুদ্ধসংক্রান্ত যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ বা দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্তে কংগ্রেসের অনুমোদন ও ভূমিকা অপরিহার্য হলেও ট্রাম্প প্রশাসন সেই আইনি প্রক্রিয়াকে যথাযথ গুরুত্ব দিচ্ছে না।
এদিকে আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে এই যুদ্ধ বাজেটের বিষয়টি মার্কিন রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ তৈরি করেছে। কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা খুবই সীমিত হওয়ায় ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন ছাড়া অতিরিক্ত যুদ্ধ ব্যয়ের এই অনুমোদন পাওয়া ট্রাম্পের জন্য সহজ হবে না বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। মার্কিন জনমতের একটি বড় অংশও এই মুহূর্তে নতুন কোনো যুদ্ধের পেছনে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচের তীব্র বিরোধিতা করছে।
ডেমোক্র্যাট নেতারা দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক অস্থিরতার কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের বাজারে নতুন করে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। তাঁদের মতে, সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সংকট ও মূল্যস্ফীতি মোকাবিলার পরিবর্তে ট্রাম্প প্রশাসন অপ্রয়োজনীয় যুদ্ধ ব্যয়ের দিকেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছে।
অবশ্য এই অতিরিক্ত বাজেট প্রস্তাবে কেবল সামরিক খাতই নয়, এর বাইরেও বেশ কয়েকটি বেসামরিক খাতে অর্থ বরাদ্দের আবেদন জানানো হয়েছে। যেমন আফ্রিকায় ইবোলা মহামারি মোকাবিলায় প্রায় ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার, মার্কিন কৃষি খাতে বিশেষ সহায়তার জন্য ১১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার এবং দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের জন্যও পৃথক বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে নিউইয়র্কের ঐতিহাসিক পেন স্টেশন পুনর্নির্মাণ এবং ওয়াশিংটন ডিসি এলাকার কিছু জরুরি সরকারি নির্মাণ প্রকল্পও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তবে পুরো প্রস্তাবটি পাস করতে হলে কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের সবুজ সংকেত পাওয়া বাধ্যতামূলক। ফলে আগামী কয়েক সপ্তাহে যুদ্ধ ব্যয় এবং ট্রাম্পের সামগ্রিক বাজেট পরিকল্পনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনা, লবিং ও বিতর্ক অব্যাহত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স
জেএইচআর