আমার সংবাদ ডেস্ক
জুন ২৫, ২০২৬, ১১:১৭ এএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন চীনের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল ‘চীনের কমিউনিস্ট পার্টি’র (সিপিসি) আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইক্সিং।
বৃহস্পতিবার চীনের স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে বেইজিংয়ের রাষ্ট্রীয় দিয়াওইউতাই (Diaoyutai) অতিথি ভবনে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকের শুরুতেই লিউ হাইক্সিং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় তারেক রহমানকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। এ সময় তিনি বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৯ বার চীন সফরের স্মৃতিচারণ করেন। লিউ হাইক্সিং বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, ২০০১ সালে বেগম খালেদা জিয়ার চীন সফরের ঐতিহাসিক ছবি তাঁর প্রতি সম্মান জানিয়ে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় জাদুঘরে অত্যন্ত যত্নসহকারে সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে।
বৈঠকে বিএনপি এবং চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে সদ্য স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) প্রসঙ্গ টেনে সিপিসির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী দুই দলের পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা আরও জোরদার করার ব্যাপারে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন। বিশেষ করে গণমাধ্যম, থিংক ট্যাংক, জনগণের মধ্যে মেলবন্ধন (পিপল-টু-পিপল কনট্যাক্ট) এবং সামাজিক জীবনমান উন্নয়নের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
লিউ হাইক্সিং আরও বলেন, চীন সবসময় বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় উন্নয়নের অন্যতম দৃঢ় সমর্থক। পারস্পরিক সম্মান ও গভীর সহযোগিতার ভিত্তিতে দুই দেশের সম্পর্ক আগামীতে আরও বহুদূর এগিয়ে যাবে।
সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের বিভিন্ন চলমান উন্নয়ন প্রকল্প ও বিশেষায়িত ‘চীন-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতাল’ নির্মাণে চীনের আন্তরিক সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। তিনি বিশ্বাস করেন, দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের যে বন্ধুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক ও লিগ্যাসি রয়েছে, তা ভবিষ্যতেও অক্ষুণ্ন থাকবে। চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের সঙ্গে পুরোপুরি একমত পোষণ করেন এবং তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশের জনগণ আরও উন্নত ও সমৃদ্ধ জীবন লাভ করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
গুরুত্বপূর্ণ এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দীন স্বপন, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও মুখপাত্র মাহদি আমিন এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
অন্যদিকে চীনের পক্ষে সিপিসির আন্তর্জাতিক বিভাগের ভাইস মিনিস্টার সান হাইয়ান (Sun Haiyan), ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনসহ সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।