আন্তর্জাতিক ডেস্ক
জুন ২৭, ২০২৬, ০৪:৪৫ পিএম
ভারতের পুনেতে ব্যবসায়ী কেতন অগ্রবাল হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার হওয়া তরুণী সিয়া গয়াল পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এক চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। সিয়ার ভাষ্য, বিয়ে করব না পরিবারকে এ কথা বলার চেয়ে কেতনকে চিরতরে পথ থেকে সরিয়ে দেওয়াটাই আমার কাছে বেশি সহজ মনে হয়েছিল।
গত ১৮ জুন লোনাভলার বিখ্যাত লোহাগড় দুর্গ থেকে ব্যবসায়ী কেতন অগ্রবালকে ধাক্কা দিয়ে নিচে ফেলে হত্যার অভিযোগে সিয়া গয়াল এবং তাঁর প্রেমিক চেতন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
তদন্তকারী সূত্র জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে সিয়া দাবি করেছেন, কেতন মাথায় আলগা চুল (উইগ) ব্যবহার করতেন, যা তাঁর মোটেও পছন্দ ছিল না। এই আপত্তির পরও কেন তিনি বিয়েতে রাজি হয়েছিলেন- এমন প্রশ্নের জবাবে সিয়া জানান, পরিবারের সম্মান ও সামাজিক ভাবমূর্তির কথা চিন্তা করেই প্রথমে বিয়েতে মত দিতে বাধ্য হয়েছিলেন। পরে তিনি কেতনকে সরাসরি বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানালেও কেতন নিজে থেকে এই বিয়ে ভাঙতে রাজি হননি। আর সেই কারণেই প্রেমিককে সঙ্গে নিয়ে কেতনকে হত্যার চূড়ান্ত পরিকল্পনা করেন সিয়া।
তবে কেতনের বাবা বিশাল অগ্রবালের দাবি ভিন্ন। তিনি জানান, তাঁর ছেলে যে মাথায় আলগা চুল ব্যবহার করতেন, তা সিয়ার পরিবার বিয়ের আগে থেকেই জানত। এই নিয়ে তাঁদের কোনো আপত্তিও ছিল না। তাই আলগা চুলের অজুহাতে খুনের এই দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
পুলিশের তদন্তে আরও জানা গেছে, সিয়া ও চেতনের প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি সিয়ার পরিবার আগে থেকেই জানত। কিন্তু অর্থনৈতিক ও সামাজিক মর্যাদার পার্থক্যের কারণে পরিবার এই সম্পর্ক মেনে নেয়নি। মূলত চেতন থেকে সিয়াকে দূরে রাখতেই বিত্তশালী ব্যবসায়ী কেতন অগ্রবালের সঙ্গে তাঁর বিয়ের আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই জোরপূর্বক বিয়ের পরিণতি রূপ নিল এক ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডে।
হাতজোড় করে অপরাধের প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে পুলিশ সিয়া ও চেতন ছাড়াও সিয়ার ভাই সাহিল গয়ালকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
জেএইচআর