ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬

ছেলেদের জন্যও অবৈতনিক শিক্ষা কেন জরুরি, জানালেন সেই নারী এমপি

আমার সংবাদ ডেস্ক

আমার সংবাদ ডেস্ক

জুন ২৭, ২০২৬, ০৪:১৬ পিএম

ছেলেদের জন্যও অবৈতনিক শিক্ষা কেন জরুরি, জানালেন সেই নারী এমপি
ফাইল ছবি

ছেলে শিক্ষার্থীদের জন্যও অবৈতনিক শিক্ষার দাবি জানিয়ে জাতীয় সংসদে দেওয়া বক্তব্য নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার পর নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নারী সংসদ সদস্য নুরুন্নিসা সিদ্দীকা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, তার এ মতামত দীর্ঘদিনের বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই এসেছে।

এর আগে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশনের সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি নারী শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি ছেলে শিক্ষার্থীদের জন্যও অবৈতনিক শিক্ষা চালুর দাবি জানান।

ফেসবুক পোস্টে নুরুন্নিসা সিদ্দীকা লেখেন, সংসদে দেওয়া তার পাঁচ মিনিটের বক্তব্য নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হতে পারে, তবে তিনি গত ১৬ বছর ধরে এই বাস্তবতার সাক্ষী। তার ভাষ্য, দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর ধরে তিনি নারীদের শিক্ষার উন্নয়নে কাজ করছেন। শুরুতে মায়েদের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করেন, পরে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন।

নিজের প্রতিষ্ঠিত স্কুলের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ওই প্রতিষ্ঠান থেকে শত শত শিক্ষার্থী বের হলেও মাত্র ১০ থেকে ১২ জন এসএসসি বা তার চেয়ে উচ্চশিক্ষায় যেতে পেরেছে। তার দাবি, অধিকাংশ ক্ষেত্রে তৃতীয় শ্রেণির পরই অভিভাবকরা মনে করেন ছেলেদের আর পড়াশোনার প্রয়োজন নেই; তাদের আয়-রোজগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। অন্যদিকে মেয়েরা পঞ্চম বা ষষ্ঠ শ্রেণিতে ওঠার পরই অনেক পরিবার বিয়ের ব্যবস্থা করে দেয়। তার ভাষায়, অনেক সময় তাদের বিয়ে দেওয়া হয় সম্পূর্ণ অশিক্ষিত ভবঘুরে ছেলেদের সঙ্গে।

সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে তিনি আরও লেখেন, তার স্কুলে আসা অধিকাংশ অভিভাবকের মধ্যে দেখা যায়, মায়েরা চতুর্থ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করলেও বাবারা অনেকেই নিরক্ষর, এমনকি কেউ কেউ স্বাক্ষর করতেও পারেন না। তার মতে, অল্প কয়েকজন নারী অশিক্ষিত স্বামীর সঙ্গে পারস্পরিক সমঝোতায় সুখে সংসার করলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে স্বামীরা অন্য নারীর সঙ্গে সংসার করেন। তিনি লিখেছেন, অনেকেই শুধু সন্তান জন্ম দিতে বাড়িতে আসেন।

ছেলে শিশুদের অল্প বয়সে কাজে পাঠানোর পেছনে অর্থনৈতিক সংকটকে অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন নুরুন্নিসা সিদ্দীকা। তিনি প্রশ্ন তোলেন, মেয়েদের মতো ছেলেরাও যদি অবৈতনিক শিক্ষার সুযোগ পেত, তাহলে অভিভাবকেরা কষ্ট করে হলেও আরও কিছুদিন তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতেন। কিন্তু একই পরিবারের মেয়েরা বিনা খরচে পড়াশোনা করলেও ছেলেদের অনেক সময় জীবিকার জন্য কাজে পাঠিয়ে দেওয়া হয়, কারণ পরিবারের পক্ষে শিক্ষার ব্যয় বহন করা সম্ভব হয় না।

শুধু নারী শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার প্রবণতারও সমালোচনা করেন তিনি। তার ভাষায়, সবাই ‘নারী শিক্ষা’ নিয়ে কথা বলছেন, কিন্তু পুরুষ শিক্ষিত না হলে সেই শিক্ষিত নারীকে যথাযথ মূল্যায়ন করবে কে- এ প্রশ্নও বিবেচনায় আনা প্রয়োজন।

পোস্টের শেষাংশে সরকারের কাছে তিনি দুটি নির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরেন। প্রথমত, দশম শ্রেণি পর্যন্ত সব ছেলে ও মেয়ের জন্য সম্পূর্ণ অবৈতনিক শিক্ষা চালু করা। দ্বিতীয়ত, মেয়েদের পাশাপাশি ছেলে শিক্ষার্থীদের জন্যও শিক্ষাবৃত্তি বা উপবৃত্তির ব্যবস্থা করা। একই সঙ্গে এ বিষয়ে যারা একমত, তাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

এএন

Link copied!