ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬

জাপানের ফুজিসাওয়া শহরে মসজিদ নির্মাণের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের বিক্ষোভ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

জুলাই ২৮, ২০২৬, ০৪:২৩ পিএম

জাপানের ফুজিসাওয়া শহরে মসজিদ নির্মাণের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের বিক্ষোভ

জাপানের কানাগাওয়া প্রিফেকচারের উপকূলীয় শহর ফুজিসাওয়ায় প্রথম মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের একাংশের মধ্যে তীব্র বিরোধ, বিক্ষোভ এবং সামাজিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বিষয়টি কেবল একটি ধর্মীয় স্থাপনা নির্মাণের বিরোধিতায় সীমাবদ্ধ নয়; বরং জনসংখ্যা হ্রাস, বিদেশি শ্রমিকের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং জাপানের সামাজিক পরিচয় নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ককে নতুন করে সামনে এনে দিয়েছে।

ফুজিসাওয়ার একটি খোলা সবুজ মাঠে শহরটির প্রথম মসজিদ নির্মাণের প্রস্তুতি চলছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ আশঙ্কা করছেন, এর মাধ্যমে তাদের পরিচিত সামাজিক পরিবেশে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। দীর্ঘদিনের বাসিন্দা নোরিকো ইজুমিজাওয়া বলেন, ভবিষ্যতে তাদের কমিউনিটির চরিত্র কেমন হবে, তা নিয়েই তার উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে জনসংখ্যা কমে যাওয়া এবং বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়তে থাকায় শ্রমবাজার সচল রাখতে জাপান ধীরে ধীরে বিদেশি শ্রমিকের ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠছে। ফলে দেশটিতে বিভিন্ন ভাষা, সংস্কৃতি ও ধর্মের মানুষের উপস্থিতিও বাড়ছে। ফুজিসাওয়ার সাম্প্রতিক বিতর্ককে অনেকেই জাপানের এই সামাজিক পরিবর্তনের প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রস্তাবিত মসজিদটি পাশের ঐতিহ্যবাহী শিন্টো মন্দিরের তুলনায় আকারে বড় হবে, যা তাদের সাংস্কৃতিক অনুভূতিতে আঘাত হানতে পারে। চলতি বছরের শুরুতে ফুজিসাওয়ার একটি রেলস্টেশন এলাকায় মসজিদ নির্মাণের বিরোধিতা করে কয়েক হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন।

একই সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও মুসলিমবিরোধী নানা বিদ্বেষমূলক মন্তব্য ও অপপ্রচার ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন মসজিদে গালিগালাজপূর্ণ ফোনকল ও ই-মেইল পাঠানোর ঘটনাও সামনে আসে। এর জবাবে বর্ণবাদবিরোধী সংগঠনগুলো শান্তি সমাবেশ ও সম্প্রীতির পক্ষে কর্মসূচি পালন করে।

তবে শহরের সবাই যে বিরোধিতার পক্ষে, এমন নয়। প্রস্তাবিত মসজিদের বিপরীতে থাকা একটি কফিশপের ব্যবস্থাপক হিরোকি সুজুকা বলেন, বিষয়টি নিয়ে আগে মানুষকে একে অপরকে বোঝার চেষ্টা করা উচিত। তার মতে, ইসলাম সম্পর্কে জানার মধ্য দিয়েই পারস্পরিক আস্থা ও বোঝাপড়া তৈরি হতে পারে।

জাপানে মুসলিমদের অভিজ্ঞতাও সাম্প্রতিক সময়ে বদলে গেছে বলে জানিয়েছেন দীর্ঘদিনের প্রবাসীরা। প্রায় চার দশক ধরে ওসাকায় বসবাসরত শ্রীলঙ্কা বংশোদ্ভূত ব্যবসায়ী মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, অতীতের তুলনায় এখন মুসলিমদের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব অনেক বেশি স্পষ্ট। সামাজিক মাধ্যমে প্রায়ই ‘জাপান ছেড়ে চলে যাও’ কিংবা ‘নিজের দেশে ফিরে যাও’ ধরনের মন্তব্যের মুখোমুখি হতে হয়। এমনকি কিছু মানুষ মসজিদে এসেও অশোভন আচরণ করছেন।

মহিউদ্দিনের ভাষ্য, সম্প্রদায়ের মানুষকে ‘সন্ত্রাসী’ কিংবা ‘বোমা প্রস্তুতকারক’ বলে অপবাদ দেওয়ার ঘটনাও ঘটছে। তবে এসব পরিস্থিতিতে তারা ধৈর্য ও শান্তিপূর্ণ আচরণের পথই অনুসরণ করেন। তার মতে, সাধারণ জাপানিদের বড় একটি অংশ ইসলাম সম্পর্কে খুব কম জানেন। একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, মুসলিম সম্প্রদায়ও নিজেদের সম্পর্কে স্থানীয়দের জানাতে যথেষ্ট উদ্যোগ নেয়নি। ভবিষ্যতে পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়ানোর ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

সাইতামা প্রিফেকচারের ইয়াশিও মসজিদের প্রতিনিধি শাকিল আহমেদও মনে করেন, স্থানীয় আইন, সামাজিক রীতি ও শিষ্টাচার মেনে চলাই পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নের সবচেয়ে কার্যকর উপায়। পাকিস্তান থেকে ২৬ বছর আগে জাপানে আসা এই প্রবাসী বলেন, জাপানের নিয়মকানুন মেনে চলা এবং স্থানীয়দের প্রতি সম্মান প্রদর্শন মুসলিম সম্প্রদায়ের দায়িত্ব।

এদিকে ওয়াসেদা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামবিষয়ক গবেষক অধ্যাপক হিরোফুমি তানাদার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ জাপানে মুসলিম জনসংখ্যা প্রায় ৪ লাখ ২০ হাজারে পৌঁছেছে। ২০১৯ সালে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার। একই সময়ে ২০২৫ সালে দেশটিতে বিদেশি বাসিন্দার সংখ্যা প্রথমবারের মতো ৪০ লাখ অতিক্রম করেছে। এর মধ্যে কর্মরত বিদেশির সংখ্যা প্রায় ২৫ লাখ ৭০ হাজার। বিপরীতে একই বছরে জাপানের নিজস্ব জনসংখ্যা প্রায় ১০ লাখ কমে যায়।

জাপান সরকার এখনও নিজেদের আনুষ্ঠানিকভাবে অভিবাসনবান্ধব রাষ্ট্র হিসেবে উপস্থাপন করতে অনাগ্রহী। স্থায়ী নাগরিকত্বের পরিবর্তে অস্থায়ী কর্মভিসাকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সমালোচকদের ভাষায় এটি এক ধরনের ‘ছদ্মবেশী অভিবাসন নীতি’।

প্রধানমন্ত্রী সানা তাকাইচির সরকারও অভিবাসন ইস্যুতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ২০২৬ সালের জুনে প্রায় অর্ধশতাব্দীর মধ্যে প্রথমবার বিদেশিদের ভিসা ফি পাঁচগুণ বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি অনিয়মিতভাবে অবস্থানকারী বিদেশিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা জোরদারে ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস এজেন্সিতে আরও ২৩০ জন জনবল নিয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিদেশি বাসিন্দার সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে নতুন সীমা বা কোটা নির্ধারণের বিষয়েও আলোচনা চলছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ক্রমবর্ধমান অভিবাসন ও ধর্মীয় বৈচিত্র্যের বাস্তবতায় জাপান এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের মুখোমুখি- নিজস্ব সামাজিক মূল্যবোধ ও সাংস্কৃতিক পরিচয় অক্ষুণ্ন রেখে দেশটি কতটা সফলভাবে বহুসংস্কৃতির সমাজে রূপ নিতে পারবে।

তবে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ফুজিসাওয়ার বাসিন্দা নোরিকো ইজুমিজাওয়া শেষ পর্যন্ত স্বীকার করেন, ব্যক্তিগতভাবে কোনো মুসলিম প্রতিবেশীর সঙ্গে তার কখনও খারাপ অভিজ্ঞতা হয়নি। তার ভাষায়, হয়তো অচেনা ও অজানা বিষয়কে নিয়েই অকারণে ভয় তৈরি হয়েছে।

সূত্র: বিবিসি

এএন

Link copied!