ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬

কারামুক্ত হলেন সাংবাদিক আনিস আলমগীর: তিন মাসের বন্দিজীবনের অবসান

আমার সংবাদ ডেস্ক

আমার সংবাদ ডেস্ক

মার্চ ১৪, ২০২৬, ০৩:৪১ পিএম

কারামুক্ত হলেন সাংবাদিক আনিস আলমগীর: তিন মাসের বন্দিজীবনের অবসান
সাংবাদিক আনিস আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ তিন মাস পর কারান্তরাল থেকে মুক্ত বাতাসে ফিরলেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আনিস আলমগীর। শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার পার্ট ২ থেকে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তি পান। 

আদালতের জামিন আদেশ কারাগারে পৌঁছানোর পর যাবতীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়। কারাফটকে এ সময় তাঁর স্ত্রী, নিকটাত্মীয় এবং সহকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার পার্ট ২ এর জেল সুপার মো. আল মামুন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সাংবাদিক আনিস আলমগীরের জামিনের প্রয়োজনীয় নথিপত্র গতকাল শুক্রবার বিকেলেই কারা দপ্তরে এসে পৌঁছায়। নিয়মানুযায়ী নথিপত্র যাচাই বাছাই শেষে আজ দুপুরে তাঁকে কারাগার থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। মুক্তির সময় সাংবাদিক আলমগীরকে বেশ শান্ত দেখা গেলেও তাঁর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ছিল দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসানের স্বস্তি।

সাংবাদিক আনিস আলমগীরের এই বন্দিজীবনের শুরু হয় গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর। ঐ দিন রাতে রাজধানীর ধানমন্ডির একটি জিমনেসিয়াম থেকে জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে তাঁকে নিয়ে যায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ বা ডিবি। এর ঠিক পরদিন উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তদন্তের প্রয়োজনে তাঁকে পাঁচ দিনের পুলিশি রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল। রিমান্ড শেষে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এরপর থেকেই তিনি কাশিমপুরের উচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত কারাগারে বন্দি ছিলেন। চলতি বছরের ৫ মার্চ উচ্চ আদালত সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন।

সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় জামিন পেলেও আনিস আলমগীরের কারামুক্তি দীর্ঘায়িত হয় দুর্নীতি দমন কমিশন বা দুদকের একটি মামলার কারণে। গত ১৫ জানুয়ারি দুদক তাঁর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করে। সেখানে প্রায় ৩ কোটি ২৬ লাখ টাকার অসংগতিপূর্ণ সম্পদের অভিযোগ আনা হয়। ২৫ জানুয়ারি এই মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন আদালত। ফলে এক মামলার জামিন পেলেও অন্য মামলায় তিনি আটকে ছিলেন। অবশেষে গত ১১ মার্চ ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. সাব্বির ফয়েজ উভয় পক্ষের শুনানি শেষে তাঁর জামিন মঞ্জুর করলে মুক্তির পথ সুগম হয়।

কারাফটকে অপেক্ষমাণ আনিস আলমগীরের স্ত্রী জানান, গত তিনটি মাস তাদের পরিবারের জন্য চরম অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগের ছিল। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সত্যের জয় হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। উপস্থিত সংবাদকর্মীরা আনিস আলমগীরের সাথে কথা বলার চেষ্টা করলেও তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাননি। দ্রুত স্বজনদের সাথে গাড়িতে চড়ে কারাগার এলাকা ত্যাগ করেন তিনি।

মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যে দেশের অভ্যন্তরীণ অঙ্গনে সাংবাদিক আনিস আলমগীরের মুক্তি নিয়ে বেশ আলোচনা চলছে। তাঁর গ্রেপ্তার নিয়ে শুরু থেকেই দেশের সাংবাদিক সংগঠনগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছিল। পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাহসী মতামতের জন্য পরিচিত এই সাংবাদিকের মুক্তিতে তাঁর শুভাকাঙ্ক্ষীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। 

গত তিন মাসে একাধিক মামলা, রিমান্ড এবং কারাবাস শেষে আনিস আলমগীরের এই মুক্তি বাংলাদেশের বিচারবিভাগীয় প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে দেখা হচ্ছে। সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও দুদকের মামলার মতো কঠিন অভিযোগ মোকাবিলা করে আদালতের মাধ্যমে জামিন পাওয়া তাঁর আইনি লড়াইয়ের একটি বড় বিজয় হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

জেএইচআর

Link copied!