নিজস্ব প্রতিবেদক
জানুয়ারি ২৭, ২০২৬, ১১:২১ পিএম
দেশের বর্তমান কর ব্যবস্থাকে ‘অপ্রয়োজনীয় জটিল ও অদক্ষ’ অভিহিত করে এর আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে ৫৫টি সুনির্দিষ্ট সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছে জাতীয় কর কাঠামো পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত কমিটি।
মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে এই সুপারিশযুক্ত প্রতিবেদন হস্তান্তর করেন টাস্কফোর্সের চেয়ারম্যান জায়েদী সাত্তারের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের প্রতিনিধিদল।
প্রতিবেদনে বাংলাদেশের কর ব্যবস্থাকে পরোক্ষ করের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল উল্লেখ করে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ করের অনুপাত ৩০:৭০ থেকে পরিবর্তন করে ৫০:৫০ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সংস্কারের মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে কর-জিডিপি অনুপাত ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১২ শতাংশ এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে ১৫ থেকে ২০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে খণ্ডিত পরিবর্তনের পরিবর্তে ডিজিটাল অটোমেশন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ঝুঁকি বিশ্লেষণের মাধ্যমে আধুনিক কাঠামো গড়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
টাস্কফোর্স বাণিজ্য কর থেকে সরে এসে দেশীয় করের দিকে কৌশলগত পরিবর্তনের সুপারিশ করেছে। পণ্য খালাসের জন্য আলাদা ভ্যালুয়েশন ডেটাবেজের পরিবর্তে বন্দরের বদলে ‘পোস্ট ক্লিয়ারেন্স অডিট’ প্রয়োগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ব্যবস্থায় বহুবিধ হারের পরিবর্তে একক হারের দিকে অগ্রসর হওয়ার কথা বলা হয়েছে প্রতিবেদনে।
প্রতিবেদন গ্রহণকালে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের হাতে সময় খুবই কম। আমরা এসব নীতির বাস্তবায়নের পথচলা শুরু করে যেতে চাই। এই নীতিগুলো বাস্তবায়িত হলে রাজস্ব আদায়ের পদ্ধতি আরও স্বচ্ছ হবে এবং অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় বড় পরিবর্তন আসবে। অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ এই প্রতিবেদনকে একটি গাইডলাইন হিসেবে অভিহিত করে বলেন, এর ফলে রাজস্ব আদায় বৃদ্ধির পাশাপাশি সুশাসন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
গত ৬ অক্টোবর জায়েদী সাত্তারের নেতৃত্বে এই জাতীয় টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। ৩১ জানুয়ারির মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের আগেই কমিটি কাজ সম্পন্ন করেছে। প্রতিবেদন হস্তান্তরকালে অর্থ উপদেষ্টা ছাড়াও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ, অর্থ বিভাগ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ এবং অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিবসহ কমিটির অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ইএইচ