ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬
সংস্কারের চাকায় উল্টো টান?

বিচার বিভাগ ও দুর্নীতি দমন নিয়ে টিআইবির গভীর উদ্বেগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

এপ্রিল ৬, ২০২৬, ০৪:০৯ পিএম

বিচার বিভাগ ও দুর্নীতি দমন নিয়ে টিআইবির গভীর উদ্বেগ
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দিচ্ছেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান। আজ সোমবার দুপুরে ধানমন্ডিতে টিআইবির কার্যালয়ে।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন-পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্র সংস্কারের যে বিশাল কর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছিল, তার ভবিষ্যৎ এখন এক বড় ধরনের প্রশ্নবোধক চিহ্নের মুখে দাঁড়িয়ে। বিশেষ করে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং গুম প্রতিরোধের মতো স্পর্শকাতর ও জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে বর্তমান ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকার 'পেছনে হাঁটার' ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

সোমবার দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবির নিজস্ব কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান সরকারের সাম্প্রতিক কিছু সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেন। ‘রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে প্রণীত কতিপয় অধ্যাদেশ বাতিল ও পরিবর্তন বিষয়ে টিআইবির অবস্থান’ শীর্ষক এই সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেওয়া অনেক ইতিবাচক সংস্কার উদ্যোগকে পাশ কাটিয়ে বা দুর্বল করে দিয়ে সরকার পুরোনো দলীয়করণের ধারায় ফিরে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি করছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় থাকা বিএনপি সরকার সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। সংসদের বিশেষ কমিটি এর মধ্যে ৯৮টি অধ্যাদেশকে হুবহু আইনে পরিণত করার সুপারিশ করলেও, গোল বেধেছে বাকি অধ্যাদেশগুলো নিয়ে।

টিআইবির বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সরকার সেই অধ্যাদেশগুলোকেই পরিবর্তনের তালিকায় রেখেছে, যা সরাসরি নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে বা প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি নিশ্চিত করতে পারে। 

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘৯৮টি অধ্যাদেশ গ্রহণ করা অবশ্যই ইতিবাচক। কিন্তু যেগুলো বাদ দেওয়া হয়েছে বা পরিবর্তনের সুপারিশ করা হয়েছে, সেগুলোই ছিল রাষ্ট্র সংস্কারের প্রাণভ্রমরা। বিচার বিভাগ ও মানবাধিকারের মতো বিষয়ে এই অবস্থান এক পা এগিয়ে দুই পা পিছিয়ে যাওয়ার শামিল।

সংবাদ সম্মেলনে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর। বিশেষ কমিটি সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ এবং পৃথক সচিবালয় সংক্রান্ত তিনটি অধ্যাদেশ বাতিল বা রহিত করার সুপারিশ করেছে।

টিআইবির পর্যবেক্ষণ:

১. নিয়োগ প্রক্রিয়া: বিচারক নিয়োগের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিল করলে নিয়োগ প্রক্রিয়া পুনরায় রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ বা সরকারপ্রধানের একক ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বে।

২. পৃথক সচিবালয়: সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক সচিবালয় না থাকলে বিচার বিভাগকে প্রশাসনিক ও আর্থিক সাহায্যের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ের ওপর মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে হবে, যা দীর্ঘকাল ধরে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার পথে প্রধান বাধা হিসেবে চিহ্নিত।

ইফতেখারুজ্জামান মনে করেন, সরকার বিচার বিভাগের ওপর দলীয় রাজনৈতিক প্রভাব এবং প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতেই এই অধ্যাদেশগুলো বাতিলের পথে হাঁটছে।

গুম প্রতিরোধ এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন শক্তিশালী করার লক্ষ্যে আনা অধ্যাদেশগুলোকে এখনই আইনে পরিণত না করে 'যাচাই-বাছাইয়ের' নামে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। টিআইবি বলছে, এটি কেবল সময়ক্ষেপণ নয়, বরং আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার একটি পদক্ষেপ।

এটি ‘অপশনাল প্রটোকল টু দ্য কনভেনশন এগেইনস্ট টরচার (ওপিসিএটি)’ এবং গুম বিরোধী আন্তর্জাতিক কনভেনশনের বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘনের ঝুঁকি তৈরি করছে। মানবাধিকার কমিশনকে প্রশাসনিক স্বাধীনতা না দিলে তারা নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর তদন্ত করতে পারবে না। ফলে কমিশনটি আবারও একটি ‘ঠুঁটো জগন্নাথে’ পরিণত হবে।

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং সরকারি হিসাব নিরীক্ষা সংক্রান্ত অধ্যাদেশগুলোতে সরকারের পরিবর্তনের পরিকল্পনাকে ‘উদ্দেশ্যমূলক’ বলে অভিহিত করেছে টিআইবি।

সরকারি হিসাব নিরীক্ষা অধ্যাদেশে মহাহিসাব নিরীক্ষকের সাংবিধানিক মর্যাদা ও স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করা হয়েছে। এতে করে সরকারি রাজস্ব আদায়ে অনিয়ম এবং কর ফাঁকি রোধ করার ক্ষমতা হারাবে এই প্রতিষ্ঠানটি।

সিটি কর্পোরেশন ও জেলা পরিষদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের বরখাস্ত করার ক্ষমতা সরকারের হাতে রাখার সমালোচনা করে টিআইবি বলেছে, এটি গণতান্ত্রিক রীতিনীতির পরিপন্থী এবং আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর হাতিয়ার।

পুলিশ বাহিনীকে জনবান্ধব ও পেশাদার করার উদ্দেশ্যে একটি স্বাধীন ‘পুলিশ কমিশন’ গঠনের কথা থাকলেও, সরকার প্রস্তাবিত অধ্যাদেশে পরিবর্তন এনে সেখানে সরাসরি ‘সরকারি নিয়ন্ত্রণ’ নিশ্চিত করার বিধান যুক্ত করতে যাচ্ছে।
ইফতেখারুজ্জামান একে ‘চরম হতাশাজনক’ উল্লেখ করে বলেন, এর ফলে পুলিশ আগের মতোই রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার হাতিয়ার হিসেবেই থেকে যাবে।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক একটি তীক্ষ্ণ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, বর্তমানে অধ্যাদেশগুলো নিয়ে এক ধরনের ‘খেলা’ চলছে। এই খেলার নেপথ্যে রয়েছে দুটি শক্তি রাজনীতি ও আমলাতন্ত্র।

তিনি আরও বলেন ‘ভেতর থেকে সংস্কারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ আসছে। আমলাতন্ত্র এখনো আগের মতোই মূল নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করছে এবং রাজনৈতিক নেতৃত্ব তাদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। ফলে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের বদলে কেন্দ্রিকরণই প্রাধান্য পাচ্ছে।’

সংবাদ সম্মেলনে টিআইবি স্পষ্টভাবে কয়েকটি দাবি উত্থাপন করেছে। সুপ্রিম কোর্ট বিচারক নিয়োগ এবং পৃথক সচিবালয় সংক্রান্ত অধ্যাদেশ কোনো পরিবর্তন ছাড়াই বহাল রাখতে হবে। দুদক, তথ্য অধিকার, এবং ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা অধ্যাদেশগুলোকে আরও শক্তিশালী করে সংশোধন করতে হবে। পুলিশ কমিশন এবং জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ যেগুলো বর্তমান ফর্মে জনস্বার্থবিরোধী, তা বাতিল করতে হবে।

আশার আলো কি এখনও আছে? বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের সাম্প্রতিক প্রতিশ্রুতিগুলোর কথা উল্লেখ করে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আমরা তাঁদের কথার ওপর আস্থা রাখতে চাই। বিএনপি অতীতে নিজেরা অনাচারের শিকার হয়েছে, তাই আশা করি তারা সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেবে। তবে তাঁদের মুখের কথা ও কাজের মধ্যে এখন পর্যন্ত যে বিস্তর ফারাক দেখা যাচ্ছে, তাতে পূর্ণ আস্থা রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।

জুলাই অভ্যুত্থানের যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে রাষ্ট্র সংস্কারের যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা যদি রাজনৈতিক স্বার্থের কাছে হার মানে, তবে তা দেশের ভবিষ্যতের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি হবে বলে টিআইবি সতর্ক করেছে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন- মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম (পরিচালক, আউটরিচ ও কমিউনিকেশন), ড. সুমাইয়া খায়ের (উপদেষ্টা) এবং ড. মুহাম্মদ বদিউজ্জামান (পরিচালক, গবেষণা ও নীতি)।

এএন

Link copied!