আমার সংবাদ ডেস্ক
জুলাই ৫, ২০২৬, ০৩:৪৯ পিএম
প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি এবং ডিজিটাল পরিবেশের সম্প্রসারণের ফলে তৈরি হওয়া নতুন বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের বিদ্যমান আইন, বিধি ও নীতিমালা আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে নতুন আইনও প্রণয়ন করা হবে।
রোববার (৫ জুলাই) তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আইন সময়োপযোগীকরণ এবং নতুন আইন প্রণয়ন-সংক্রান্ত এক সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়ে মানুষের জীবনযাপন, যোগাযোগ, চিন্তাভাবনা ও সামাজিক আচরণের সঙ্গে ডিজিটাল প্রযুক্তি গভীরভাবে যুক্ত। প্রযুক্তির ইতিবাচক দিকের পাশাপাশি নতুন ধরনের ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জও তৈরি হয়েছে। এসব বিষয় চিহ্নিত করে কার্যকর আইনি কাঠামোর আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি।
জহির উদ্দিন স্বপন জানান, মন্ত্রণালয়ের অধীন বিদ্যমান সব আইন, বিধি, প্রবিধান ও নীতিমালা পর্যালোচনার কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। কোন আইন আধুনিকায়নের প্রয়োজন, কোথায় নতুন আইন প্রণয়ন দরকার এবং কোন ক্ষেত্রে আইনি ঘাটতি রয়েছে-এসব বিষয়ে পর্যালোচনা করে দ্রুত সুপারিশ দিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, একসময় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম মূলত প্রিন্ট মিডিয়া ও সম্প্রচারমাধ্যমকেন্দ্রিক ছিল। কিন্তু ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও ডিজিটাল পরিবেশের বিস্তারের ফলে অসংখ্য নতুন মাধ্যম তৈরি হয়েছে, যার অনেকগুলোই প্রচলিত আইনের আওতার বাইরে রয়েছে। তাই পরিবর্তিত বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আইনি কাঠামোকেও আধুনিক করতে হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম নিয়ন্ত্রণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিভিন্ন আইন প্রণয়ন করেছে। এসব দেশের আইন ও অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করে বাংলাদেশের বাস্তবতার উপযোগী সুপারিশ তৈরির দায়িত্ব সংশ্লিষ্টদের দেওয়া হয়েছে।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, সাইবার জগৎ, ডিজিটাল তথ্য পরিবহন এবং প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন সেবাকে সুশৃঙ্খল কাঠামোর আওতায় আনতে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন অংশীজনের সমন্বিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সংস্থা, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ এবং টেলিযোগাযোগ ও অবকাঠামো-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মতামতও গ্রহণ করতে হবে।
তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নতুন চ্যালেঞ্জ দ্রুত শনাক্ত করা, সংশ্লিষ্ট অংশীজন নির্ধারণ, দায়িত্ব বণ্টনের ক্ষেত্র চিহ্নিত করা এবং প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়ার নির্দেশ দেন।
সভায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা, অতিরিক্ত সচিব শাহ আলম, মন্ত্রণালয়ের আইনজীবী প্যানেলের সদস্য এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এম জি