মিরাজ আহমেদ, মাগুরা
জুলাই ৫, ২০২৬, ০৫:২৬ পিএম
সকল প্রকার জুয়া, স্পোর্টস বেটিং, ভার্চুয়াল ক্যাসিনো এবং ক্রিপ্টোকারেন্সিভিত্তিক জুয়া প্রতিরোধে বাংলাদেশ সরকার প্রণীত ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন-২০২৬’ গত ১ জুলাই ২০২৬ থেকে দেশব্যাপী কার্যকর হয়েছে। নতুন এ আইনের আওতায় জুয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
মাগুরা জেলা পুলিশ জানিয়েছে, বর্তমানে জুয়া ও অনলাইন বেটিং চক্রগুলো ভুয়া মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট, বায়োমেট্রিক জালিয়াতি, ডিজিটাল পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম, ভিপিএন (VPN) এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এসব কর্মকাণ্ড শুধু আর্থিক অপরাধই নয়, বরং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্যও বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ প্রেক্ষাপটে নতুন আইন বাস্তবায়নে মাগুরা জেলা পুলিশ ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। জেলার কোথাও কোনো ধরনের জুয়া, অনলাইন বেটিং, ভার্চুয়াল ক্যাসিনো কিংবা সংশ্লিষ্ট অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে নতুন আইন অনুযায়ী কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ বিষয়ে মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন (পিপিএম-সেবা) বলেন, “জুয়া শুধু একটি অপরাধ নয়, এটি পরিবার, সমাজ ও তরুণ প্রজন্মের জন্য একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি। নতুন জুয়া প্রতিরোধ আইন-২০২৬ বাস্তবায়নে মাগুরা জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। অনলাইন বা অফলাইনে যেকোনো ধরনের জুয়া, স্পোর্টস বেটিং, ভার্চুয়াল ক্যাসিনো কিংবা ক্রিপ্টোকারেন্সিভিত্তিক জুয়ার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধমুক্ত মাগুরা গড়তে আমরা জনগণের সহযোগিতা কামনা করছি। জুয়ার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি, সংগঠক, অর্থ লেনদেনকারী, প্রচারক কিংবা প্রযুক্তিগত সহায়তাকারী- কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধিতেও জেলা পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে।”
মাগুরা জেলা পুলিশ সাধারণ জনগণকে আহ্বান জানিয়েছে, তাদের আশপাশে কোনো ধরনের জুয়া, অনলাইন বেটিং বা এ-সংক্রান্ত অপরাধ সংঘটিত হলে দ্রুত পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য। পুলিশের মতে, জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণই জুয়া ও অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনের অন্যতম প্রধান শক্তি।
এএন