ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা রবিবার, ০৫ জুলাই, ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী

নিরাপত্তার অজুহাতে জনগণ থেকে দূরত্ব তৈরি করবেন না

বিশেষ প্রতিবেদক

বিশেষ প্রতিবেদক

জুলাই ৫, ২০২৬, ০৩:২৫ পিএম

নিরাপত্তার অজুহাতে জনগণ থেকে দূরত্ব তৈরি করবেন না

জনগণের আস্থা ও ভালোবাসাই সরকারের সবচেয়ে বড় শক্তি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, রাষ্ট্রীয় অতিগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের (ভিআইপি) নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে যেন এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি না হয়, যা সরকারপ্রধানের সঙ্গে সাধারণ মানুষের দূরত্ব বা দেয়াল তৈরি করে। নিরাপত্তার কৌশল এমনভাবে প্রণয়ন করতে হবে যাতে একদিকে যেমন সর্বোচ্চ নিরাপত্তা বজায় থাকে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের নাগরিক জীবন স্বস্তিদায়ক ও নির্বিঘ্ন হয়।

রোববার সকালে ঢাকা সেনানিবাসস্থ প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর) সদর দপ্তরে বাহিনীর ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত দরবারে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে সম্প্রতি স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ)-এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দেওয়া নিজের বক্তব্যের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একই নীতি পিজিআর-এর ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য। কারণ, এই বাহিনীও রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধানের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পবিত্র দায়িত্বে নিয়োজিত।

নিরাপত্তা ও জনস্বার্থের ভারসাম্য বজায় রাখার আহ্বান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, একটি গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধান হিসেবে আমি জনগণের আস্থা, বিশ্বাস এবং ভালোবাসার ওপর ভরসা করে পথ চলতে চাই। তাই আমি আপনাদের প্রতি আহ্বান জানাব, নিরাপত্তার কড়াকড়ি যেন কোনোভাবেই সরকারপ্রধানকে সাধারণ মানুষ থেকে বিচ্ছিন্ন করে না ফেলে।

তিনি উল্লেখ করেন, রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান হিসেবে তাঁকে রাজধানীসহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিভিন্ন জনসভা, রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান এবং সামাজিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে হয়। এই ধরনের বিশাল জনসমাগম এবং রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কাজটি অত্যন্ত জটিল ও চ্যালেঞ্জিং। তবে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার পাশাপাশি জনগণের ভোগান্তি কমানোর বিষয়টিও সমান গুরুত্বের সাথে দেখতে হবে। পিজিআর সদস্যদের পেশাদারত্ব ও বিচক্ষণতার সাথে এই দুইয়ের মধ্যে একটি চমৎকার ভারসাম্য বজায় রেখে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন তিনি।

আধুনিকায়নের মহাপরিকল্পনা ও নতুন নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ

সশস্ত্র বাহিনী এবং বিশেষায়িত নিরাপত্তা দলগুলোর আধুনিকায়নে সরকারের দৃঢ় প্রতিশ্রুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার সংজ্ঞা এবং চ্যালেঞ্জ দুটোই বদলে গেছে। বর্তমান আর্থ-সামাজিক, ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ ও বৈপ্লবিক উন্নয়নের ফলে প্রথাগত বা চিরাচরিত নিরাপত্তা ঝুঁকির বাইরেও বহুমাত্রিক ও জটিল হুমকি তৈরি হয়েছে।

তিনি হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, বর্তমান যুগে সাইবার যুদ্ধ , ইলেকট্রনিক যুদ্ধ , ড্রোন ও তথ্য যুদ্ধ -এর মতো নতুন ও আধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক হুমকিগুলোকে উপেক্ষা করার কোনো সুযোগ নেই। এই বহুমাত্রিক ও আধুনিক চ্যালেঞ্জগুলো সফলভাবে মোকাবিলা করতে হলে কেবল পিজিআর নয়, সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিটি ইউনিটকে সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে সমৃদ্ধ এবং সার্বক্ষণিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রস্তুত থাকতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে আরও আধুনিক, যুগোপযোগী ও শক্তিশালী করতে তাঁর সরকার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে পিজিআর এবং এসএসএফ-এর মতো বিশেষায়িত বাহিনীগুলোর কৌশলগত সক্ষমতা এবং কারিগরি দক্ষতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ ও আধুনিক সরঞ্জাম সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে।

বাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস ও শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা

বক্তব্যের একপর্যায়ে আবেগঘন কণ্ঠে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পিজিআর-এর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এবং এর সাথে তাঁর পরিবারের অবিচ্ছেদ্য স্মৃতির কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ৫ জুলাই অত্যন্ত সীমিত পরিসরে ‘প্রেসিডেন্টস বডিগার্ড ইউনিট’ হিসেবে এই বাহিনীর যাত্রা শুরু হয়েছিল। পরবর্তীতে, ১৯৭৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম) এই বাহিনীকে পুনর্গঠিত করে ‘প্রেসিডেন্ট গার্ড রহমান’ (পিজিআর) নামকরণ করেন, যা বাহিনীটিকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ, সুদৃঢ় আত্মবিশ্বাস ও নতুন গতিশীলতা প্রদান করে।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই বিশেষ দিনে নিজের জীবনের সবচেয়ে বেদনাবিধুর ও গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আজকের এই দিনে আমি গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি আমার পরম শ্রদ্ধেয় পিতা, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক ও আধুনিক বাংলাদেশের স্থপতি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে একদল বিপথগামী সেনাসদস্যের হাতে তাঁর নির্মম শাহাদাত বরণের সময় রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তা রক্ষায় নিয়োজিত পিজিআর-এর বেশ কয়েকজন বীর সদস্যও কর্তব্যরত অবস্থায় শহীদ হয়েছিলেন।"

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের জীবন রক্ষার্থে পিজিআর সদস্যদের সেই সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ এবং অনুগত দায়িত্বশীলতার ইতিহাস চিরকাল স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। নিজেদের জীবন উৎসর্গ করে তাঁরা যে অতুলনীয় আনুগত্য, কর্তব্যপরায়ণতা এবং দেশপ্রেমের দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন, তা বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের পিজিআর সদস্যদের জন্য সর্বদা অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। প্রধানমন্ত্রী মহান আল্লাহর দরবারে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং ডিউটি পালনকালে শহীদ হওয়া পিজিআর-এর সকল বীর সদস্যদের আত্মার মাগফিরাত ও ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড অ্যাওয়ার্ড অর্জন এবং শৃঙ্খলার প্রশংসা

শৃঙ্খলা ও দক্ষতার সর্বোচ্চ স্বীকৃতিস্বরূপ চলতি বছর পিজিআর ‘ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড অ্যাওয়ার্ড’ (জাতীয় পতাকা) পাওয়ার গৌরব অর্জন করায় বাহিনীর সকল সদস্যকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এটি পিজিআর-এর ইতিহাসে একটি অত্যন্ত গৌরবময় মাইলফলক। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মধ্য থেকে কঠোর বাছাই প্রক্রিয়া এবং উন্নত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অত্যন্ত দক্ষ অফিসার ও সৈনিকদের এই রেজিমেন্টে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হয়। ফলে, পিজিআর আসলে সেনাবাহিনীরই একটি অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও বিশেষায়িত দর্পণ।

প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, সাহস, সততা, গভীর আনুগত্য, সর্বোচ্চ পেশাদারত্ব, কঠোর শৃঙ্খলা এবং সর্বোপরি সামরিক ‘চেইন অব কমান্ড’ বা নিয়ন্ত্রণরেখা বজায় রেখে পিজিআর সদস্যরা তাঁদের অর্পিত দায়িত্ব সফলভাবে পালন করে যাবেন। দেশপ্রেমের মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে বাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে আধুনিক নিরাপত্তা কৌশল এবং কারিগরি বিদ্যায় পারদর্শী হওয়ার তাগিদ দেন তিনি।

জাঁকজমকপূর্ণ প্যারেড ও দরবার

আজ সকালে প্রধানমন্ত্রী সেনানিবাসস্থ পিজিআর সদর দপ্তরে পৌঁছালে সেনাবাহিনী প্রধান এবং পিজিআর-এর কমাড্যান্ট তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সদর দপ্তরের প্যারেড গ্রাউন্ডে একটি সুসজ্জিত ও জাঁকজমকপূর্ণ কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী প্যারেড পরিদর্শন করেন এবং সালাম গ্রহণ করেন। 

এরপর তিনি বাহিনীর বাৎসরিক বিশেষ ‘দরবার’-এ অংশ নিয়ে কুশল বিনিময় করেন এবং কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন।

পরিশেষে, পিজিআর-এর গৌরবময় অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে এবং বাহিনীর সকল স্তরের সদস্য ও তাঁদের পরিবারের দীর্ঘায়ু, সুস্বাস্থ্য ও সুদৃঢ় কল্যাণ কামনা করে প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্য শেষ করেন।

এএন

Link copied!