বরিশাল ও বাউফল প্রতিনিধি
ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২৬, ০৬:১৫ পিএম
নির্বাচনী প্রচারণার শেষ লগ্নে এসে দক্ষিণ জনপদে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়ালেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
শুক্রবার সকালে বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ এবং দুপুরে পটুয়াখালীর বাউফলে আয়োজিত পৃথক দুটি নির্বাচনী জনসভায় তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। দীর্ঘ ১৭ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন শাসন এবং গত ৫৪ বছরের শাসনের আমলনামা তুলে ধরে তিনি ভোটারদের প্রতি আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান।
মেহেন্দীগঞ্জের সরকারি পাতারহাট আর সি কলেজ মাঠে আয়োজিত বিশাল জনসভায় জামায়াত আমির অত্যন্ত কড়া ভাষায় বলেন, যাদের আমরা ৫৪ বছর ধরে দেখেছি, তাদের আমলনামা আমাদের হাতে আছে। আবার ৫ আগস্টের পর থেকে গত ১৭ মাস যাদের দেখেছি, তাদের চরিত্রও আমরা জানি। স্পষ্ট কথা হলো, যারা নিজের দল সামলাতে পারে না, তারা দেশও সামলাতে পারবে না। দেশ কেবল তারাই সামলাতে পারবে, যাদের নিজের দলের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ আছে।
শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে জামায়াতের শৃঙ্খলার কথা উল্লেখ করে বলেন, এতদিন আমরা নিজেদের দলটাকে পাহারাদারি করেছি। এখন যদি আপনারা মেহেরবানি করে সুযোগ দেন, তবে আমরা দেশের ১৮ কোটি মানুষের চৌকিদারি করতে চাই। আমরা জনগণের জীবন, সম্পদ আর ইজ্জতের পাহারাদার হতে চাই। এ আস্থার প্রতিদান দেওয়া আমাদের ওপর ওয়াজিব হবে এবং আমরা জান প্রাণ দিয়ে সেই চেষ্টা করব।
ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতিবাজদের প্রতি কোনো ক্ষমা নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, আমরা দুর্নীতিবাজদের গলা চেপে ধরব। তাদের পেটের ভেতর থেকে পাচার হওয়া সব টাকা টেনে বের করে আনা হবে। পাচার করা অর্থ ফেরত আনার লড়াই হবে আমাদের চূড়ান্ত লড়াই। ব্যাংক লুট আর শেয়ারবাজারে ডাকাতি করে যারা দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করেছে, তাদের আর কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। এ ছাড়া মিথ্যা মামলা দিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা এবং মামলা বাণিজ্যকারীদের কঠোর আইনের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
অন্যান্য রাজনৈতিক দল বেকার ভাতার প্রতিশ্রুতি দিলেও জামায়াত আমির একে অপমান হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, আমরা কাউকে বেকার ভাতা দিয়ে ঘরে বসিয়ে রেখে অপমান করব না। বরং আমরা প্রত্যেকের হাতে কাজ তুলে দেব। আমরা চাই আত্মমর্যাদাশীল নাগরিক তৈরি করতে, পরনির্ভরশীল জাতি নয়। নারীদের সম্মান ও অধিকার নিয়ে তিনি আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, মায়ের ইজ্জত রক্ষায় আমরা জীবন দিতেও রাজি। ইসলাম নারীকে যে সুউচ্চ স্থানে রেখেছে, আমরা সেই মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করব।
মেহেন্দীগঞ্জ থেকে সরাসরি পটুয়াখালীর বাউফলে যান শফিকুর রহমান। সেখানে পটুয়াখালী-২ আসনের প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মাসুদের সমর্থনে আয়োজিত জনসভায় তিনি বলেন, বিগত সব সরকার আমাদের উপহার দিয়েছে দুর্নীতি, দখলদারি আর ফ্যাসিবাদ। ১২ তারিখের নির্বাচনে যদি মহান রাব্বুল আলামিন আমাদের সুযোগ দেন, তবে ১৩ তারিখ সকালে বাংলাদেশে ইনশাআল্লাহ এক নতুন সূর্য উদিত হবে।
তিনি গণভোটের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, গণভোটে হ্যাঁ মানে আজাদি আর না মানে গোলামি। আমরা কোনোভাবেই আর গোলামি চাই না। আমাদের মুক্তি আর স্বাধীনতার জন্য গণভোটে হ্যাঁ কে জয়ী করতে হবে।
মেহেন্দীগঞ্জের নদীভাঙন ও উন্নয়ন বৈষম্য নিয়ে জামায়াত আমির বলেন, অবহেলিত এ জনপদকেও বাংলাদেশের মূল ধারার উন্নয়নের সাথে যুক্ত করা হবে। নদীকে সম্পদ হিসেবে কাজে লাগিয়ে নদী সংস্কারের মাধ্যমে উন্নয়নের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানান তিনি।
মেহেন্দীগঞ্জের জনসভায় উপজেলা আমির শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে বরিশাল-৪ আসনের প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুল জব্বার বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে বাউফলের সভায় সভাপতিত্ব করেন ইসাহাক মিয়া এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ বা ডাকসুর সহসভাপতি বা ভিপি সাদিক কায়েম এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ সাংবাদিক মেহেদি হাসানের মা মাহমুদা বেগম বক্তব্য দেন।
জনসভা শেষে জামায়াত আমির ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের বরিশাল অঞ্চলের বিভিন্ন আসনের প্রার্থীদের হাতে প্রতীক তুলে দেন এবং তাদের বিজয়ী করার জন্য জনগণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।
ইএইচ