ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬
কোরআন-হাদিসে সতর্কবাণী

ভালো কাজের জন্য জান্নাত, খারাপ কাজের জন্য জাহান্নাম

ধর্ম ডেস্ক

ধর্ম ডেস্ক

অক্টোবর ৩, ২০২৫, ১১:৪৩ এএম

ভালো কাজের জন্য জান্নাত, খারাপ কাজের জন্য জাহান্নাম

মানব জীবনের চূড়ান্ত পরিণতি নিয়ে কোরআন ও হাদিসে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা রয়েছে। আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন—ভালো কাজ ও সৎ আমলকারীদের জন্য জান্নাত অনিবার্য পুরস্কার, আর যারা খারাপ কাজ, পাপাচার ও অন্যায়ে জীবন অতিবাহিত করবে তাদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ভয়াবহ জাহান্নাম। 

যুগে যুগে আল্লাহর নবী-রাসূলগণ মানুষকে সতর্ক করেছেন, দেখিয়েছেন সৎপথের দিশা। তবুও মানুষ নানা কারণে ভুলে যায়, খারাপ কাজ করে, অন্যায়ের পথে ঝুঁকে পড়ে।

ধর্মবিশারদরা বলেন, জান্নাত ও জাহান্নাম নিয়ে কেবল গল্প নয়, বরং এটি অনন্ত বাস্তবতা। এখানে কোনো ছলচাতুরি বা অজুহাত চলবে না। জীবন শেষে প্রত্যেকে তার আমল অনুযায়ী চূড়ান্ত গন্তব্যে পৌঁছে যাবে।

কোন কাজগুলো করলে জাহান্নাম নিশ্চিত

ইসলামী গ্রন্থগুলোতে এমন বহু কাজের উল্লেখ রয়েছে যা মানুষকে সরাসরি জাহান্নামের দিকে ঠেলে দেয়। এর মধ্যে প্রধান কয়েকটি হলো

শিরক করা (আল্লাহর সাথে শরিক স্থাপন)

শিরক হলো সবচেয়ে বড় গুনাহ। আল্লাহ তাআলা বলেন, “নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর সাথে শরিক করাকে ক্ষমা করবেন না। তবে তিনি যাকে ইচ্ছা অন্যান্য গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন।” (সূরা নিসা: ৪৮)

যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে উপাস্য মানে বা দোআ-ইবাদত করে, তার জন্য জাহান্নাম অনিবার্য।

কুফরি ও ঈমান অস্বীকার করা

যারা কোরআন ও রাসূলের নির্দেশ অস্বীকার করে, ইসলামকে অগ্রাহ্য করে তাদের জন্য জাহান্নাম নিশ্চিত। আল্লাহ বলেন, “যারা কুফরি করে ও মরে কুফরি অবস্থায়, তাদের উপর আল্লাহর লানত এবং ফেরেশতাগণ ও সমগ্র মানবজাতির লানত বর্তাবে। তারা চিরকাল জাহান্নামে থাকবে।” (সূরা বাকারা: ১৬১-১৬২)

নামাজ ত্যাগ করা

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “আমাদের ও তাদের (কাফেরদের) মধ্যে পার্থক্য হলো নামাজ। যে নামাজ ত্যাগ করে সে কুফরিতে লিপ্ত হলো।” (সহিহ মুসলিম)

নামাজ ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ দেওয়া মানুষের জন্য বড় পাপ এবং তা তাকে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যায়।

সুদভক্ষণ

আল্লাহ বলেন, “যারা সুদ খায়, তারা কিয়ামতের দিন দাঁড়াতে পারবে না, শুধু শয়তানগ্রস্ত উন্মাদ লোকের মতো হবে।” (সূরা বাকারা: ২৭৫)

রাসূল (সা.) সুদভক্ষক, সুদদাতা, সাক্ষী ও লেখক—সবাইকে অভিশপ্ত বলেছেন।

মিথ্যা, চুরি ও খুন

মানব জীবনের নিরাপত্তা নষ্ট করে এমন অপরাধ যেমন চুরি, ডাকাতি, মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া, খুন করা এসব কাজ সরাসরি জাহান্নামে নিক্ষেপ করবে।

পিতামাতার অবাধ্যতা

রাসূল (সা.) বলেছেন, “জাহান্নামের দরজা খুলে যায় তাদের জন্য যারা পিতামাতার অবাধ্য।” (তিরমিজি)

অহংকার ও গর্ব

রাসূল (সা.) বলেন, “যার অন্তরে সরিষা দানার সমান অহংকার থাকবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না।” (সহিহ মুসলিম)

নারী-পুরুষের অনৈতিক সম্পর্ক ও ব্যভিচার

কোরআনে বলা হয়েছে, “ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না। নিশ্চয় এটি অশ্লীল কাজ এবং নিকৃষ্ট পথ।” (সূরা ইসরা: ৩২)

মদ ও নেশাজাতীয় দ্রব্য গ্রহণ

রাসূল (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি দুনিয়াতে মদ পান করবে এবং তাওবা না করে মারা যাবে, সে আখেরাতে জান্নাতের পানীয় পাবে না।” (সহিহ বুখারি ও মুসলিম)

গীবত, অপবাদ ও পরনিন্দা

পরনিন্দা কোরআনে মৃত ভাইয়ের মাংস খাওয়ার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। এসব কাজে লিপ্ত ব্যক্তিও জাহান্নামের যোগ্য।

যেসব কাজ করলে জান্নাত নিশ্চিত

অন্যদিকে কোরআন-হাদিসে জান্নাতের নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছে কিছু নির্দিষ্ট ভালো কাজের জন্য। সেগুলো হলো

আল্লাহর প্রতি দৃঢ় ঈমান

জান্নাতের প্রথম শর্ত হলো ঈমান। আল্লাহ বলেন, “যারা ঈমান আনে এবং সৎকাজ করে তাদের জন্য জান্নাত রয়েছে, যেখানে তারা চিরকাল বসবাস করবে।” (সূরা বাকারা: ৮২)

নামাজ কায়েম করা

নামাজ জান্নাতের পথে প্রধান আমল। রাসূল (সা.) বলেছেন, “কিয়ামতের দিনে বান্দার প্রথম হিসাব হবে নামাজ নিয়ে। নামাজ ঠিক থাকলে তার সব আমল ঠিক থাকবে।” (সহিহ তিরমিজি)

রোজা, যাকাত ও হজ আদায় করা

ইসলামের স্তম্ভসমূহ সঠিকভাবে পালন করলে জান্নাত নিশ্চিত। রাসূল (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে রমজানের রোজা রাখে, তার পূর্বেকার গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।” (বুখারি ও মুসলিম)

পিতামাতার খেদমত করা

পিতামাতার দোয়া জান্নাত লাভের অন্যতম মাধ্যম। রাসূল (সা.) বলেছেন, “পিতা জান্নাতের মধ্যবর্তী দরজা। তুমি ইচ্ছা করলে তা রক্ষা করো, আর ইচ্ছা করলে নষ্ট করো।” (তিরমিজি)

কোরআন তেলাওয়াত ও আমল করা

যে ব্যক্তি নিয়মিত কোরআন তেলাওয়াত করে ও তার বিধান মেনে চলে, আল্লাহ তাকে জান্নাতের উচ্চ মর্যাদা দান করবেন।

সত্যবাদিতা ও ন্যায়পরায়ণতা

সত্যভাষণ ও ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিদের জন্য জান্নাতের প্রতিশ্রুতি রয়েছে। রাসূল (সা.) বলেন, “সত্যবাদিতা মানুষকে সৎকাজে উৎসাহিত করে এবং সৎকর্মশীল ব্যক্তিরা আল্লাহর রহমতে জান্নাতে প্রবেশ করবে।” (বুখারি)

দরিদ্র ও অসহায়কে সাহায্য করা

হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি এতিমের অভিভাবক হয় ও তাকে লালনপালন করে, রাসূল (সা.) কিয়ামতের দিনে জান্নাতে তার সঙ্গী হবেন।

দুনিয়ার লোভ ত্যাগ করে আল্লাহর পথে দান করা

যাকাত ও সাদাকাহ জান্নাতের পথে অন্যতম হাতিয়ার।

উত্তম চরিত্র ও আচরণ

রাসূল (সা.) বলেছেন, “তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সেই ব্যক্তি, যার চরিত্র সর্বোত্তম। আর উত্তম চরিত্রের মানুষ কিয়ামতের দিনে জান্নাতে সর্বাধিক মর্যাদায় থাকবে।” (তিরমিজি)

তাওবা ও আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা

যে মানুষ পাপ করেছে কিন্তু পরে আন্তরিকভাবে তাওবা করেছে, তার জন্যও জান্নাতের দরজা উন্মুক্ত।

ধর্মবিশারদদের মতামত

বাংলাদেশের প্রখ্যাত আলেমরা বলেন, জান্নাত-জাহান্নাম নিয়ে মানুষকে সচেতন করা গণমাধ্যমের দায়িত্বও বটে। কারণ আজকের সমাজে অন্যায়, দুর্নীতি, মাদকাসক্তি ও পারিবারিক ভাঙন বেড়ে যাচ্ছে। মানুষ যদি জানে কোন কাজে জান্নাত আর কোন কাজে জাহান্নাম নিশ্চিত, তবে অন্তত কিছুটা হলেও অপরাধপ্রবণতা কমবে।

একজন আলেম বলেন, “আমরা সবাই জানি ভালো কাজ করলে পুরস্কার আছে, খারাপ কাজ করলে শাস্তি আছে। কিন্তু বাস্তব জীবনে আমরা তা ভুলে যাই। তাই কোরআন-হাদিসের শিক্ষা প্রতিটি ঘরে, প্রতিটি পরিবারে ছড়িয়ে দিতে হবে।

জীবন ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু আখেরাত চিরস্থায়ী। এই ক্ষণস্থায়ী জীবনে আমরা যে কাজগুলো করি, তার উপর নির্ভর করছে জান্নাত বা জাহান্নামের চূড়ান্ত পরিণতি। সুতরাং আল্লাহর নির্দেশিত পথে চলা, রাসূল (সা.)-এর সুন্নাহর অনুসরণ করা, সৎ কাজ করা এবং পাপ থেকে বিরত থাকা—এসবই জান্নাত লাভের একমাত্র উপায়। আর যদি মানুষ গাফিলতি করে, খারাপ কাজে লিপ্ত হয়, তবে তাকে ভয়াবহ জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করতে হবে।

ধর্মবিশারদদের মতে, প্রতিটি মানুষের উচিত নিয়মিত আত্মসমালোচনা করা, কোরআন-হাদিস অধ্যয়ন করা এবং ভালো কাজের প্রতি আগ্রহী হওয়া। কারণ জান্নাত-জাহান্নাম কোনো কল্পকাহিনি নয়, বরং এক অমোঘ বাস্তবতা।

এইচআর/ইএইচ

Link copied!