ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬

 মানুষ হত্যা: হাদিসে ঘোষণা, পেতে হবে কঠিন শাস্তি

ধর্ম ডেস্ক

ধর্ম ডেস্ক

ডিসেম্বর ১২, ২০২৫, ০৬:২৯ পিএম

 মানুষ হত্যা: হাদিসে ঘোষণা, পেতে হবে কঠিন শাস্তি

মানুষ আল্লাহ তাআলার সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব। কুরআনে আল্লাহ ঘোষণা করেছেন আমি অবশ্যই আদমসন্তানকে সম্মানিত করেছি। (সূরা ইসরা: ৭০) এই সম্মান শুধু শরীর-অঙ্গ-প্রত্যঙ্গেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং তার চিন্তা, বিবেক, আত্মা, নৈতিকতা সব মিলিয়ে মানুষকে অন্য সব সৃষ্টির উপরে উন্নীত করা হয়েছে। ঠিক এই কারণেই ইসলামে মানুষের জীবন সর্বোচ্চ মূল্যবান। কারো প্রাণ নেওয়া শুধু অন্যায় নয়, বরং তা আল্লাহর দৃষ্টিতে এক ভয়াবহ অপরাধ। তাই হাদিস ও কুরআনে হত্যার শাস্তি এবং এ অপরাধের ভয়াবহতা অত্যন্ত কঠোর ভাষায় উল্লেখ করা হয়েছে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) মক্কায় প্রথম হজের খুতবায় ঘোষণা করেন তোমাদের রক্ত, তোমাদের সম্পদ ও তোমাদের সম্মান পরস্পরের জন্য হারাম এই দিনের, এই মাসের, এই শহরের পবিত্রতার মতই। (সহিহ বুখারি) অর্থাৎ যেমন পবিত্র দিন, পবিত্র মাস বা পবিত্র স্থানে অন্যায় করা বড় অপরাধ, তেমনি একজন নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করা ইসলামে মহাপাপ।

কুরআনে স্পষ্ট ঘোষণা যে ব্যক্তি কোনো প্রাণকে হত্যা করে যদি না তা হত্যার বদলা হয় কিংবা পৃথিবীতে ফিতনা-ফ্যাসাদ সৃষ্টি করার কারণে হয় তবে সে যেন সমস্ত মানবজাতিকেই হত্যা করল। (সূরা মায়িদা: ৩২) এই আয়াত দেখায় মানুষের জীবন এত মূল্যবান যে তার অবৈধ হত্যা গোটা মানবজাতির বিরুদ্ধে অপরাধ। সমাজ ও রাষ্ট্রে এর ভয়াবহ প্রভাব প্রতিফলিত হয়।

হত্যাকারী জান্নাতের সৌরভও পাবে না: রাসুল (সা.) বলেছেন মুমিনের রক্তপাত করা আল্লাহর কাছে দুনিয়ার ধ্বংসের চেয়েও গুরুতর। (সহিহ বুখারি) অন্য হাদিসে এসেছে যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে একজন মুসলমানকে হত্যা করে, আল্লাহ তাকে জান্নাতের সৌরভও অনুভব করতে দেবেন না। (সহিহ বুখারি ও মুসলিম) এই দুটি বাণী জানিয়ে দেয়: মানুষ হত্যা শুধু দুনিয়ার আইন ভাঙা নয়; বরং তা জান্নাতের পথ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। হত্যাকারীর এই অপরাধ আধ্যাত্মিক ও নৈতিক জীবনের সম্পূর্ণ ধ্বংস ডেকে আনে।

আল্লাহ হত্যাকারীর প্রতি রহমত থেকে বঞ্চিত হন: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো প্রাণ হত্যা করে, আল্লাহ তার উপর রাগান্বিত হন। আল্লাহর গজব এমন একটি শাস্তি যা দুনিয়ায় ও আখেরাতে উভয় জগতেই পরিণতি বয়ে আনে, যেমন আধ্যাত্মিক অশান্তি, জীবনে ব্যর্থতা, সমাজে ঘৃণা ও অভিশাপ ইত্যাদি হত্যাকারীকে ঘিরে ধরে।

আখেরাতে তিন ভয়াবহ শাস্তি: কুরআন বলে যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে মুমিনকে হত্যা করে তার শাস্তি হলো জাহান্নাম, সেখানে সে চিরকাল থাকবে; আল্লাহ তার উপর গজব করবেন; তাকে অভিশাপ দেবেন এবং তার জন্য মহাশাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছেন। (সূরা নিসা: ৯৩) এখানে চারটি ভয়াবহ শাস্তি একসাথেই ঘোষণা করা হয়েছে: জাহান্নাম, চিরস্থায়ী শাস্তির আশঙ্কা, আল্লাহর গজব, আল্লাহর লানত ও মহা শাস্তি। ইসলামের অন্য কোনো পাপের ক্ষেত্রে এতগুলো শাস্তির বর্ণনা একত্রে খুব কম আছে। এর মাধ্যমে স্পষ্ট মানুষ হত্যা ইসলামের দৃষ্টিতে অন্যতম মহাপাপ।

হত্যা অপরাধে দুনিয়াবি সাজা: কিসাস (প্রতিশোধমূলক ন্যায়বিচার): ইসলামে হত্যা অপরাধের দুনিয়াবি শাস্তি হলো কিসাস, অর্থাৎ হত্যাকারীকে মৃত্যুদণ্ড। কুরআনে এসেছে হে বোধসম্পন্ন লোকেরা! তোমাদের জন্য কিসাসে রয়েছে জীবনধারণ। (সূরা বাকারা: ১৭৯) অর্থাৎ হত্যাকারী শাস্তি পেলে সমাজে অপরাধ কমে, মানুষ সাবধান হয়, অন্যায় দমন হয় এবং নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে নিহত ব্যক্তির পরিবার চাইলে দিয়াত (রক্তপণ) গ্রহণ করতে পারে অথবা ক্ষমা করতে পারে। ক্ষমা করা আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয় কাজ; কিন্তু ক্ষমা করাটা বাধ্যতামূলক নয়।

হাদিসে হত্যার ভয়াবহতার কারণ হিসেবে তিনটি বিষয় উল্লেখ পাওয়া যায় এক. আল্লাহর সৃষ্টির সম্মানকে অপমান, দুই. সমাজে ভয়, বিশৃঙ্খলা ও অশান্তি সৃষ্টি। রাসুল (সা.) বলেছেন একজন মানুষকে অন্যায়ভাবে হত্যা করার চেয়ে আকাশ-জমিন ধ্বংস হওয়া আল্লাহর কাছে কম গুরুতর। কারণ একজনকে হত্যা করলে তার পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র সবাই ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

তিন. হত্যাকারীর হৃদয় কালো হয়ে যায়। হাদিসে বলা হয়—পাপ যখন বাড়তে থাকে, হৃদয়ে কালো দাগ পড়ে। শেষ পর্যন্ত পুরো হৃদয় ঢেকে যায়। হত্যা সেই ভয়াবহ দাগ যা মানুষের ঈমান ও বিবেককে ধ্বংস করে ফেলে।

নবী (সা.) এর শিক্ষায় জীবন রক্ষা করা ইবাদত। ইসলাম শুধু হত্যা নিষিদ্ধ করেনি; বরং জীবন রক্ষা করাকে মহান সওয়াবের কাজ ঘোষণা করেছে। রাসুল (সা.) বলেছেন যে ব্যক্তি একজনে জীবন বাঁচায় সে যেন সমগ্র মানবজাতিকে বাঁচিয়ে দিল। (হাদিস অনুসারে কুরআনের ব্যাখ্যা)

আজকের সমাজে রাজনৈতিক হত্যা, পারিবারিক বিরোধে হত্যাকাণ্ড, সম্পত্তি নিয়ে হত্যা, প্রতিহিংসা ও গ্যাং কালচারের কারণে হত্যাকাণ্ড, সড়কে উন্মত্ততার কারণে মৃত্যু এসব ঘটনা বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে ইসলামের এই শিক্ষা মানবজীবনের মূল্য, শান্তি প্রতিষ্ঠা, ন্যায়বিচার ও ক্ষমা বিশ্বকে আবার সুস্পষ্ট নৈতিক পথ দেখাতে পারে।

হাদিস ও কুরআনে মানুষ হত্যা সম্পর্কে আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সা.) এর দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত কঠোর ও সুস্পষ্ট মানুষের জীবন পবিত্র, হত্যাকারী আল্লাহর গজব, লানত ও জাহান্নামের শাস্তির মুখোমুখি, দুনিয়ায় তার শাস্তি কিসাস, সমাজে এর প্রভাব ভয়াবহ, জীবন রক্ষা ইসলামে রহমত, হত্যা ফ্যাসাদ। অতএব, ইসলাম কেবল হত্যাকে নিষিদ্ধ করেনি; বরং মানবজীবনের মর্যাদা রক্ষা, শান্তি প্রতিষ্ঠা, ক্ষমা ও ন্যায়বিচারকে মুসলমানের নৈতিক দায়িত্ব হিসেবে ঘোষণা করেছে। মানবজীবন রক্ষা করা শুধু আইন নয় এটি আল্লাহর প্রতি, মানুষের প্রতি এবং সমাজের প্রতি সবচেয়ে বড় আমানত।

ইএইচ

Link copied!