আবু তাহের
জানুয়ারি ৯, ২০২৬, ০২:১৯ পিএম
ইসলামপন্থী দলগুলোর জোটে আসন বণ্টন নিয়ে টানাপোড়েন প্রকাশ্যে এসেছে। সম্প্রতি বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী সৈয়দ ফয়জুল করিম জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ঘোষণাকে ‘অসুন্দর’ বলে মন্তব্য করেছেন।
সাক্ষাৎকারে সৈয়দ ফয়জুল করিম বলেন, “আমরা তো জামায়াত আমীর ডা. শফিক সাহেবের আসনে প্রার্থী দেই নাই। কিন্তু আমাদের এখানে তাদের প্রার্থী দেওয়াটা অসুন্দর হয়েছে। এই এলাকায় আমাদের ভিত্তি। এখানে জোটের অন্য কেউ নির্বাচন করবে এটা কি হওয়া উচিত?”
এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট করেন, জোটের বৃহত্তর সমঝোতার স্বার্থে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে প্রার্থী না দিয়ে ছাড় দিলেও, নিজেদের শক্ত ঘাঁটিতে শরিক দলের প্রার্থী দেওয়াকে তিনি গ্রহণযোগ্য মনে করছেন না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিবিসি বাংলার মতো গণমাধ্যমে দেওয়া এই মন্তব্য কেবল ব্যক্তিগত অসন্তোষ নয়, বরং এটি মাঠপর্যায়ে ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীদের মধ্যে জমে থাকা ক্ষোভের প্রতিফলন। সংশ্লিষ্ট এলাকায় দলটির সাংগঠনিক ভিত্তি ও ভোটসম্ভাবনার কথাই তিনি সামনে এনেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এমন বক্তব্য ইসলামপন্থী দলগুলোর জোট রাজনীতিতে নতুন চাপ তৈরি করতে পারে। আদর্শগত মিল থাকলেও নির্বাচনী বাস্তবতায় আসন, প্রভাব ও ভোটব্যাংকের প্রশ্ন উপেক্ষা করা কঠিন। বিবিসি বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিষয়টি ওঠায় এটি দেশীয় রাজনীতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের নজরেও এসেছে।
সৈয়দ ফয়জুল করিমের বক্তব্যের পর ইসলামপন্থী দলগুলোর জোটে নতুন করে আলোচনা শুরু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আসন সমঝোতা নিয়ে পুনর্বিবেচনা হবে কি না, নাকি এই অসন্তোষ উপেক্ষিত থাকবে সেই প্রশ্নই এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রে।
সব মিলিয়ে, বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এই সাক্ষাৎকার জোট রাজনীতির ভেতরের জটিল বাস্তবতাকেই সামনে এনেছে, যেখানে পারস্পরিক ছাড়, সংগঠনের শক্তি ও মাঠের হিসাব একসঙ্গে গুরুত্ব পাচ্ছে।
ইএইচ