স্পোর্টস ডেস্ক
নভেম্বর ১০, ২০২৫, ০৬:১৮ পিএম
বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে আবারও শুরু হলো অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক—এবার ক্রিকেট বনাম ফুটবল। বিসিবি পরিচালক ও গায়ক আসিফ আকবরের একটি মন্তব্যেই যেন দুই খেলাধুলার মাঝে তৈরি হলো অস্বস্তিকর দূরত্ব।
রোববার অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ক্রিকেট কনফারেন্সে আসিফ বলেন, ক্রিকেট আভিজাত্যের খেলা। এখানে শৃঙ্খলা আছে, নিয়ম আছে। ফুটবলে তো থ্রো একজনের গায়ে লাগলে অন্যজন বলে, আমার থ্রো—শুরুটাই খারাপ।
এই মন্তব্যকে দেশের ফুটবল মহল ‘অপমানজনক’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। সোমবার দুপুরে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) সভাপতি তাবিথ আউয়াল বিসিবি সভাপতি বরাবর এক চিঠিতে কঠোর ভাষায় প্রতিবাদ জানান।
চিঠিতে তিনি লেখেন, বাংলাদেশের ফুটবলকে হেয় করা মানে দেশের একটি বৃহৎ খেলাধুলার ঐতিহ্যকে অপমান করা। আসিফ আকবরের বক্তব্য শুধু বিভাজনমূলক নয়, বরং এটি জাতীয় ক্রীড়া নীতির চেতনার পরিপন্থী।
তাবিথ আউয়াল আরও উল্লেখ করেন, আমরা কি সত্যিই জুলাই ছাত্র-জনতা বিপ্লবের ঘোষিত বৈষম্যহীন বাংলাদেশের আদর্শে অটল আছি? ‘আভিজাত্য’ শব্দটি ক্রীড়াঙ্গনের মানসিকতাকে বিভক্ত করে। খেলাধুলা কখনো শ্রেণিভেদে বিভক্ত নয়।
বাফুফে জানতে চেয়েছে, আসিফের বক্তব্যে ব্যবহৃত 'মারামারি' শব্দটি কি 'কোনো প্রকার হুমকি বা বিদ্বেষমূলক ইঙ্গিত 'বহন করে কি না।
ক্রীড়া অঙ্গনের বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশের খেলাধুলা একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং পরিপূরক। একজন প্রাক্তন জাতীয় ফুটবলার মন্তব্য করেছেন, আমরা মাঠের সংকটে ভুগছি, কিন্তু অপমান নয়, সহযোগিতা চাই। ক্রিকেটের সাফল্য আমাদের আনন্দ দেয়, তেমনি ফুটবলের লড়াইও দেশের গর্ব।
এদিকে বিসিবির অভ্যন্তরীণ সূত্র জানিয়েছে, বাফুফের চিঠি পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছে বোর্ড, এবং বিষয়টি আলোচনায় আনা হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতিমধ্যেই বিষয়টি তুমুল আলোচিত। অনেকে বলছেন, ক্রিকেটে আভিজাত্য নয়, ফুটবলে আত্মসম্মান—এই বিতর্ক যেন এখন ক্রীড়াঙ্গনে অহেতুক বিভাজনের বার্তা দিচ্ছে।
জেএইচআর