ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই, ২০২৬
গোল্ডেন বুটের লড়াই

মেসি-এমবাপ্পের কাঁধ মিলাকাঁধ টক্কর, পেছনে হালান্দ ও ভিনিসিয়ুস

স্পোর্টস ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

জুলাই ২, ২০২৬, ০১:৫৭ পিএম

মেসি-এমবাপ্পের কাঁধ মিলাকাঁধ টক্কর, পেছনে হালান্দ ও ভিনিসিয়ুস
উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত ২০২৬ বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ছয়টি গোল করেছেন আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি। অন্যদিকে, এই বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ছয়টি গোল করেছেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে।

উত্তর আমেরিকার মাটিতে চলমান ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ এখন তার সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও রোমাঞ্চকর পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। গ্রুপ পর্বের হিসাব-নিকাশ চুকিয়ে টুর্নামেন্ট যখন নকআউট পর্বে গড়িয়েছে, তখন ফুটবল বিশ্বের চোখ কেবল কোন দল ট্রফি জিতবে তার ওপর নয়, বরং কার মাথায় উঠবে টুর্নামেন্টের সেরা গোলদাতার মুকুট তথা ‘ফিফা গোল্ডেন বুট’। 

এবারের বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুটের লড়াইটি ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এবং রোমহর্ষক এক লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে। বর্তমান বিশ্ব ফুটবলের দুই মহাতারকা- আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি এবং ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে ৬টি করে গোল নিয়ে তালিকার শীর্ষস্থান দখল করে আছেন। ঠিক তাঁদের ঘাড়ের ওপর নিঃশ্বাস ফেলছেন নরওয়ের আর্লিং হালান্দ এবং ব্রাজিলের ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।

ফ্রান্সের সর্বশেষ ম্যাচে সুইডেনকে ৩-০ ব্যবধানে উড়িয়ে দেওয়ার পথে কিলিয়ান এমবাপ্পে জোড়া গোল করার পর যেন মনে মনে লিওনেল মেসিকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, ‘এবার বল তোমার কোর্টে, লিও!’ নকআউট পর্বের মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলো শুরু হওয়ার মুখে গোল্ডেন বুটের এই লড়াই পুরো টুর্নামেন্টের উত্তেজনাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

কীভাবে গোল্ডেন বুটের বিজয়ী নির্ধারণ করা হয়?

ফিফা বিশ্বকাপের প্রতিটি আসর শেষে যে খেলোয়াড় টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি গোল করতে পারেন, তাঁকে সম্মানজনক ‘গোল্ডেন বুট’ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে অবিশ্বাস্য ৮টি গোল করে এই পুরস্কার নিজের করে নিয়েছিলেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে, যিনি এবারও খেতাব ধরে রাখার লড়াইয়ে সমানতালে এগিয়ে চলেছেন।

তবে ফুটবলের এই মহোৎসবে যদি টুর্নামেন্ট শেষে দেখা যায় দুই বা ততোধিক খেলোয়াড়ের গোল সংখ্যা সমান, তখন বিজয়ী নির্ধারণে ফিফার কিছু সুনির্দিষ্ট নিয়ম বা টাইব্রেকার রয়েছে:

১. অ্যাসিস্টের সংখ্যা: গোল সংখ্যা সমান হলে, যে খেলোয়াড়ের অ্যাসিস্ট (গোল করানোর ক্ষেত্রে অবদান) বেশি থাকবে, তিনিই গোল্ডেন বুট পাবেন।

২. খেলার সময় (মিনিট): যদি গোল এবং অ্যাসিস্ট- উভয় সংখ্যাই সমান হয়, তবে দেখা হবে কোন খেলোয়াড় মাঠে কম সময় খেলে ওই কীর্তি গড়েছেন। অর্থাৎ, যিনি কম মিনিট খেলে সমান গোল ও অ্যাসিস্ট করেছেন, তিনিই পুরস্কারের আসল দাবিদার হবেন।

২০২৬ বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকা (১ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত)

নকআউট পর্বের ঠিক মুখে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে শীর্ষ পাঁচ পজিশনে থাকা তারকাদের পরিসংখ্যান নিচে দেওয়া হলো:

  • কিলিয়ান এমবাপ্পে (ফ্রান্স) ৬ গোল, ২ অ্যাসিস্ট (বর্তমানে টাইব্রেকারে এগিয়ে আছেন)
  • লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা) ৬ গোল, ০ অ্যাসিস্ট
  • আর্লিং হালান্দ (নরওয়ে) ৫ গোল, ০ অ্যাসিস্ট
  • উসমান দেম্বেলে (ফ্রান্স) ৪ গোল, ২ অ্যাসিস্ট
  • ভিনিসিয়ুস জুনিয়র (ব্রাজিল) ৪ গোল, ১ অ্যাসিস্ট

দ্বিতীয় মুকুটের খোঁজে এমবাপ্পে, কেন ও রদ্রিগেজ

বিশ্বকাপের দীর্ঘ ইতিহাসে আজ পর্যন্ত কোনো ফুটবলার একাধিকবার গোল্ডেন বুট জয়ের গৌরব অর্জন করতে পারেননি। তবে এবারের আসরে সেই ইতিহাস নতুন করে লেখার সুযোগ রয়েছে বেশ কয়েকজন বর্তমান খেলোয়াড়ের সামনে। 

ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে (২০২২ সালের বিজয়ী), ইংল্যান্ডের হ্যারি কেন (২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপের বিজয়ী) এবং কলম্বিয়ার হামেস রদ্রিগেজ (২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপের বিজয়ী) প্রত্যেকেই এবার দ্বিতীয়বারের মতো এই ট্রফি উঁচিয়ে ধরার রেসে আছেন। এদের মধ্যে এমবাপ্পে ৬ গোল নিয়ে সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও নকআউট পর্বে যেকোনো কিছুই ঘটে যেতে পারে।

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো কি পারবেন এই রেসে ফিরতে?

পর্তুগালের কিংবদন্তি ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এই বিশ্বকাপেই ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে টানা ছয়টি বিশ্বকাপে গোল করার অনন্য কীর্তি গড়েছেন। তবে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে ফিরতে হলে তাঁকে এখন খুব দ্রুত এবং অনেক বেশি গোল করতে হবে। ৩৯ বছর বয়সী এই ভেটেরান ফরোয়ার্ড চলতি টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত ২টি গোল করেছেন, যার দুটিই এসেছিল গ্রুপ পর্বে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে পর্তুগালের ৫-০ ব্যবধানের বিশাল জয়ের ম্যাচে।

পর্তুগাল যেহেতু নকআউটে অনেক দূর যাওয়ার পরিকল্পনা করছে, তাই দলটির অধিনায়ক তাঁর গোলের সংখ্যা আরও বাড়িয়ে এমবাপ্পে-মেসিদের চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেন কি না, তা নিয়ে ভক্তদের মাঝে ব্যাপক কৌতূহল রয়েছে।

এক বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের কীর্তি কার?

চলতি বিশ্বকাপে গোলবন্যা বয়ে গেলেও এক আসরে সর্বোচ্চ গোলের যে বিশ্বরেকর্ড, তা ছোঁয়া বর্তমান সময়ের স্ট্রাইকারদের জন্য প্রায় অসম্ভব এক মিশন। ১৯৫৮ সালের সুইডেন বিশ্বকাপে ফ্রান্সের কিংবদন্তি ফরোয়ার্ড জাস্ত ফন্টেইন অবিশ্বাস্য ১৩টি গোল করেছিলেন, যা আজ পর্যন্ত এক আসরে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড হিসেবে টিকে আছে। 

এছাড়া ১৯৫৪ সালের সুইজারল্যান্ড বিশ্বকাপে হাঙ্গেরির স্যান্ডর কোকসিস ১১টি এবং ১৯৭০ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপে পশ্চিম জার্মানির গার্ড মুলার ১০টি গোল করেছিলেন। আধুনিক ফুটবলে রক্ষণভাগের কঠোর ডিফেন্সের মুখে এই রেকর্ড ভাঙা এক প্রকার অলীক কল্পনা।

বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বকালের সেরা গোলদাতা কারা?

চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপ আরেকটি কারণে ফুটবল ইতিহাসে অমর হয়ে থাকবে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসেকে টপকে শীর্ষে উঠে গেছেন লিওনেল মেসি এবং কিলিয়ান এমবাপ্পে।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বকালের শীর্ষ পাঁচ গোলদাতার বর্তমান তালিকা: 

১. লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা) ১৯ গোল
২. কিলিয়ান এমবাপ্পে (ফ্রান্স) ১৮ গোল
৩. মিরোস্লাভ ক্লোসে (জার্মানি) ১৬ গোল
৪. রোনালদো নাজারিও (ব্রাজিল) ১৫ গোল
৫. গার্ড মুলার (পশ্চিম জার্মানি) ১৪ গোল

মেসি ১৯ গোল নিয়ে শীর্ষে থাকলেও এমবাপ্পে তাঁর ঠিক পেছনে ১৮ গোল নিয়ে অবস্থান করছেন। যেহেতু এমবাপ্পের বয়স মেসির চেয়ে অনেক কম, তাই ধারণা করা হচ্ছে এই বিশ্বকাপেই বা ভবিষ্যতে তিনি এই তালিকার এমন এক উচ্চতায় পৌঁছাবেন যা আগামী বহু বছর কেউ ভাঙতে পারবে না।

এএন

Link copied!