নিজস্ব প্রতিবেদক
সেপ্টেম্বর ৬, ২০২২, ১২:৩৭ এএম
পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই উচ্ছেদ করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু এভিনিউ হকার্স মার্কেটের (পূর্বের রেলওয়ে) একটি অংশ। মার্কেট ভাঙা বা পুনর্নির্মাণের বিষয়ে ব্যবসায়ীদের সাথে কোনো চিঠি বা আলোচনা করেনি ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)। তা ছাড়া ওই জমি নিয়ে হাইকোর্টের রিট আদেশ রয়েছে। ফলে ব্যবসা হারিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন পার করছেন মার্কেটের প্রায় ৩০০ দোকান মালিক।
ডিএসসিসি সূত্র জানিয়েছে, মার্কেট নির্মাণের জন্য ভাঙা হয়েছে, খুব শিগিগিরই মার্কেটটির নির্মাণকাজ শুরু হবে। যাদের বৈধ কাগজপত্র আছে, তারা সবাই দোকান পাবেন। তাছাড়া ব্যবসায়ীদের অভিযোগ— তাদের সাথে কোনো রকম আলোচনা না করেই মার্কেটটি ভেঙে ফেলেছে সিটি কর্পোরেশন। এমনকি উচ্ছেদের আগে কোনো চিঠিও দেয়া হয়নি।
একজন ব্যবসায়ীর ভাষ্য, গত ৮ মে মার্কেট ভাঙার কাজ শুরু করে সিটি কর্পোরেশন। এর আগের দিন বিকেলে স্থানীয় পুলিশ এসে শুধু বলে গেছে ‘আগামীকাল উচ্ছেদ করা হবে’। তা ছাড়া কেউ কিছু বলেনি। জানা গেছে, বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ হাকার্স মার্কেটটি রেলওয়ে সুপার মার্কেট নামেই পরিচিত।
এই মার্কেটটি এক সময় রেলওয়ের মালিকানায় ছিল। ১৯৮২ বা ১৯৮৬ সালে রেলওয়ে সিটি কর্পোরেশনের কাছ মার্কেটটি হস্তান্তর করে বলে জানিয়েছেন প্রবীণ ব্যবসায়ীরা। তাদের ভাষ্যমতে, এই মার্কেটে বৈধ ২৯৫টি দোকান ছিল। ক্ষোভ প্রকাশ করে ব্যবসায়ীরা বলেছেন, চারটি মাস হয়ে গেলো।
আমরা দোকান পাবো, নাকি পাবো না— এ ব্যাপারে কিছুই বলা হচ্ছে না। কারা দোকান পাবে তাও কেউ জানেন না। মার্কেট সমিতির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকও ব্যবসায়ীদের কিছু জানাচ্ছেন না।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা জানান, মার্কেটের মাসিক ভাড়া, ট্রেড লাইসেন্স ইত্যাদি দিয়ে ১৯৮০ সাল থেকে প্রায় ৬০০ দোকানদার শান্তিপূর্ণভাবে ব্যবসা করে আসছিলেন। এখানে প্রায় ৩০ হাজার লোকের কর্মসংস্থান ছিল। সিটি কর্পোরেশন দায়িত্ব নেয়ার পর পুনরায় বরাদ্দ নেই নেন তারাই।
সিটি কর্পোরেশন উন্নয়নের জন্য আমাদের প্রত্যেক সদস্য থেকে দুই লাখ টাকা করে জমা নিয়েছেন। নতুন করে আরো টাকা দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু কোনো ধরনের আলাপ-আলোচনা ছাড়াই গত ৮ মে মার্কেট ভেঙে ফেরার চরম বিপাকে পড়েছেন তারা। এছাড়া ওই জমি নিয়ে হাইকোর্টে একটি রিট আছে, যার নম্বর ৬৮১৬/২০১৯।
মার্কেটের দোকান মালিক সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য মো. আলমগীর খান বলেন, আমাদের দোকান ভাঙা হলো। এখন আমরা কি পাবো তা জানি না। আমাদের যদি দোকান দেয়া হয় তবে তার আয়তন কত, কোনো টাকা জমা দিতে হবে কি-না তাও জানি না। এ নিয়ে বৈধ মালিকরা চরম অনিশ্চয়তায়র মধ্যে আছে। মেয়র যদি আমাদের আশ্বাস দেন তবে আমরা একটু স্বস্তি পাই।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ডিএসসিসির নির্বাহী প্রকৌশলী (মার্কেট সেল) তৌহিদ সিরাজ বলেন, মার্কেটে যাদের বৈধ দোকান ছিল এবং সিটি কর্পোরেশনের ভাড়াসহ সব কিছু নিয়মিত পরিশোধ করেছে, তারা অবশ্যই দোকান পাবে। এরই মধ্যে মার্কেটর টেন্ডার হয়ে গেছে। বুধবার থেকে মার্কেট নির্মাণকাজ শুরু হবে।
একটি সূত্রে জানা গেছে, বুধবার মার্কেটের নির্মাণকাজ উদ্বোধন করতে পারেন ডিএসসিসি মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। দোকান মালিকদের সার্বিক অবস্থা তুলে ধরে কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রেজা ডিএসসিসি মেয়র বরাবর একটি আবেদন করেন। যেখানে তিনি মার্কেটের সামগ্রিক বিষয় তুলে ধরার পাশাপাশি তাদের অনিশ্চয়তার কথাও জানান। রেজাউল করিম রেজা বলেন, আমরা ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে দ্রুত মার্কেট নির্মাণ করতে বলেছি।
কেননা, এই মার্কেটের ৬০০ ব্যবসায়ীর সাথে প্রায় ৩০ হাজার লোকের কর্মসংস্থান জড়িত। মার্কেট নির্মাণে ধীরগতির কারণে দোকান মালিক ছাড়াও কর্মচারীরা কষ্টে আছেন। আমরা সব কাগজপত্র ঠিক করে প্রাপ্যতা অনুযায়ী আগের পজিশনে দোকান বরাদ্দ পাওয়ার নিশ্চয়তা চাই।